শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ২৭ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৪, ০০:০০

চাঁদপুরে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী ১৪৩১ ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে ড. আতিউর রহমান

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সর্বজনীনতা নিয়ে বলার শেষ নেই

চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট ॥
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সর্বজনীনতা নিয়ে বলার শেষ নেই

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় চাঁদপুর জেলায় রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী ১৪৩১ ও ৪২তম জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মেলনে সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে মানপ্রাপ্ত শিল্পীদের সম্মাননা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ মে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ চাঁদপুর শাখা আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের নির্বাহী সভাপতি ড. আতিউর রহমান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বশির আহমেদ, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সহ-সভাপতি বুলবুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপ্রধান ছিলেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ চাঁদপুর শাখার সভাপতি লায়ন মাহমুদ হাসান খান।

প্রধান অতিথি ডক্টর আতিউর বলেন, সংঘাতময় এই পৃথিবীতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সর্বজনীনতা নিয়ে বলার শেষ নেই। তাঁদের জ্ঞানের পরিধি এতো সর্বব্যাপী যে ভাবতেই অবাক লাগে। এ দুজন বিশাল প্রতিভাধরের যে বিষয় নিয়েই বলা হোক না কেনো, সবটা বলে শেষ করা যাবে না। রবীন্দ্রনাথ বাংলাসাহিত্যকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দেন।

তিনি আরো বলেন, সাহিত্যের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে রবীন্দ্রনাথ চর্চা করেননি। কবিতা, গান, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, চিঠিপত্র, চিত্রকলা সত্যিকারের বড়ো শিল্পীর মতো তাঁর এসব কাজ একসঙ্গে অনেক কিছু বলে। এক ব্যক্তির মধ্যে ভাবাদর্শ, শিল্প ও পাণ্ডিত্যের এমন শক্তিময় সম্মিলন ঘটেছে, যার নজির পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

তিনি বলেন, মানবসেবা, প্রকৃতিপ্রেম কিংবা সমাজ সংস্কারের পথে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান, রচনাবলি তারুণ্যকে শাশ্বত-সুন্দর সত্যের পথ দেখিয়েছে। সামাজিক প্রেক্ষাপটে দিগ্ভ্রান্ত বহু তরুণ আশ্রয় খুঁজে পেয়েছেন রবীন্দ্রনাথে।

জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে বলেন, নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধন করেছে। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকেই স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণের পথে আছি। করোনার সময় আমরা প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রশাসনের সেবা সমুন্নত রাখতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু প্রযুক্তির আরেকটি অন্ধকার দিক আছে। এডলাস হ্যাক্সলির ‘ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড’ বইয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সত্য তথ্য অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের সাথে মিশে যাবে, সংস্কৃতি হবে ঠুনকো। আনন্দদানের মাধ্যমেই মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তার কথাগুলো ফলে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা একে মনোযোগের অর্থনীতি বলেছেন। স্ক্রিনে অতিরিক্ত মনোযোগ দানের প্রভাব পড়ছে আমাদের শরীর ও মনের উপর। আমাদের মানসিক অবসাদ বাড়ছে। ভয়ানক প্রভাব পড়ছে কিশোর-কিশোরীদের মনে। আমরা যদি সত্যিই এ থেকে মুক্তি চাই, তাহলে আত্মনিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সৃষ্টিশীলতা ও দক্ষতার প্রয়োজন হবে। আর সংগীতের পরিকল্পিত চর্চা সৃষ্টিশীলতা বাড়াবে। ইতিবাচক জৈবরাসায়নিক আকর্ষণ তৈরি হবে এর প্রতি। তবে পরিতাপের বিষয় নতুন প্রজন্ম রবীন্দ্রনাথকে ততোটা ধারণ করছে না। বিশ্বায়নের প্রভাবে তাদের বিদেশি গানের প্রতি ঝোঁকই প্রবল। এখানেই আমাদের কাজ করবার আছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়