প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৫, ১৪:০৫
হাজীগঞ্জে একাধিক স্থানে বিক্ষিপ্ত ঘটনায় সংঘর্ষ, আহত ২৫
যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত

হাজীগঞ্জের একাধিক স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ আহত হয়েছে কমপক্ষে ২৫ জন। পরে যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপে রাতেই পরিস্থিত শান্ত হয়। সর্বশেষ বুধবার (২ এপ্রিল ২০২৫) রামপুর বাজারে পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল ২০২৫) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ঘটনাটি ঘটে উপজেলার কালেচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের রামপুর বাজারে একই দিন শেষে রাতে দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে পৌর এলাকার রান্ধুনীমুড়ার দুটি ওয়ার্ডের কিশোরদের মধ্যে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, রামপুর বাজারের ঘটনাটি মাইক্রোবাসকে সাইড দেয়া নিয়ে আর এতে ৪/৫ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করা হয়। পরের ঘটনাটি রান্ধুনীমুড়া গ্রামে কিশোরদের সিগারেট খাওয়া নিয়ে। মাইকে ঘোষণা দিয়ে মারামারিতে লিপ্ত হয়। এতে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়। তবে উভয় ঘটনা এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, রামপুর বাজারে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসের চালকদের মাঝে কথা কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষে রামপুর বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। দু পক্ষের ইট আর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক যৌথবাহিনীকে সাথে নিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করে।
কালোচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মোস্তফা স্বপন মুঠোফোনে জানান, রামপুর বাজারে সিএনজি ও মাইক্রোবাসের চালকদের মাঝে কথা কাটাকাটির সূত্রধরে সংঘর্ষ বাঁধে। প্রথমে এটি ছোট পর্যায়ে থাকলেও পরে ব্যবসায়ী ইউসুফ আহত হওয়ার খবরে কয়েকটি গ্রামের লোকজন এ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় ইউসুফ, রাব্বি ও কুদ্দুসসহ কয়েকজন আহত হয়েছে। আহতদের হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী আর পুলিশ এসে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক ডা. তামিম বলেন, রামপুর বাজারে সংঘর্ষের ঘটনায় হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কয়েকজন এসেছিলো। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্যে তাদের রেফার করা হয়েছে।
অপরদিকে পৌর রান্ধুনীমুড়া ও মনিনাগ গ্রামে সিগারেট পান করাকে কেন্দ্র করে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় লোকজন। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ১০ ও ১১নং ওয়ার্ড রান্ধুনীমুড়া ও মনিনাগ এলাকার লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে।
জানা যায়, রান্ধুনীমুড়া এলাকা হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মাঠে গত সোমবার বিকেলে সিগারেট পান করা নিয়ে রান্ধুনীমুড়া গ্রামের আমিরা বাড়ির সোহাগের ছেলে নাহিদ ও মনিনাগ এলাকার হাওলাদার বাড়ির দেলোয়ারের ছেলে রাহুলের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরে সোমবার বিকেলের ঘটনার জেরে মঙ্গলবার রাতে রান্ধুনীমুড়ার নাহিদ তার বন্ধু-বান্ধবসহ লাঠিসোটা নিয়ে মনিনাগ এলাকার নাহিদকে মারধর করার অপেক্ষায় থাকে। বিষয়টি জানতে পেরে মনিনাগ এলাকার লোকজন মাইকিং করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে দুই এলাকার লোকজন মুখোমুখি হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টিম রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ৯ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্যে রেফার করা হয়েছে। এদের মধ্যে শিহাব, আলম, বাহাদুর, হাবিব, রিয়াদ, নাইম, আলাউদ্দিন, সবুজ, রাব্বিসহ আরো বেশ কয়েকজন ছিলো।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক জানান, রামপুর বাজারে সিএনজি ও মাইক্রো চালকের সাথে কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে কয়েকটি গ্রাম সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পরে যৌথবাহিনী সাথে নিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করি। এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি
অপরদিকে রান্ধুনীমুড়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে ও যৌথ বাহনী পোঁছে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে।