শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ২৮ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৩:০২

যিনি সার্জন তিনিই অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক, প্রাণ গেল নবজাতকের

অনলাইন ডেস্ক
যিনি সার্জন তিনিই অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক, প্রাণ গেল নবজাতকের

হাসপাতালের কোনো ধরনের কাগজপত্র নবায়ন নেই। নামে মাত্র চিকিৎসক একজন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অবস্থা খুবই নাজুক। এরপরেও রোগী ভর্তি নিয়ে করছেন অপারেশন। যিনি সার্জন, তিনিই অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক। এমন হাসপাতালে সিজার করে মাকে বাঁচানো গেলেও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ নারায়ণপুর পূর্ব বাজারে নারায়ণপুর জেনারেল হাসপাতাল (প্রা.) অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলার খিদিরপুর গ্রামের রোস্তম মোল্লা বাড়ির অটোরিকশা চালক মো. রাসেলের স্ত্রী লিমা (১৯)-এর প্রসব বেদনা হলে নিয়ে আসে এই হাসপাতালে। প্রথমে আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়। পেটের বাচ্চা জীবিত আছে মর্মে নরমাল ডেলিভারি করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বলা হয় বাচ্চা পেটেই মৃত। অভিভাবকের স্বাক্ষর জাল করে ডিগ্রি ছাড়া বিল্লাল শেখ নামে কথিত এক ডাক্তারকে দিয়ে সিজার করার পর পাওয়া যায় মৃত বাচ্চা। এরপর শুরু হয় অভিভাবকদের হৈ চৈ কাণ্ড। গৃহবধূ লিমার শ্বাশুড়ি ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের এই প্রথম বাচ্চা। লিমার নিয়মিত চেকআপ করা হয়। হঠাৎ গত রাতে প্রসব ব্যথা হওয়ার পর যোগাযোগ করলে হাসপাতালের নার্স শেফালি বেগম প্রথমে বাড়িতে গিয়ে ডেলিভারি করার চেষ্টা করেন। না পেরে এরপর সে আমাদেরকে এই হাসপাতালে নিয়ে আসেন।’ রাসেলের বড়ো বোন নুরজাহান বেগম বলেন, ‘এই হাসপাতালে সিজার করার জন্য ভালো চিকিৎসক আছে কিনা জানতে চাইলে তারা চিকিৎসক আছে বলে জানায়। কিন্তু ডেলিভারির আগে ও পরের তাদের কার্যক্রম দেখে বুঝতে পারি পুরো হাসপাতালেই অব্যবস্থাপনা।’ মৃত নবজাতকের পিতা মো. রাসেল বলেন, ‘কোনোভাবেই বুঝতে পারিনি এই হাসপাতালের এমন পরিস্থিতি। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার কারণেই অপচিকিৎসার শিকার হয়েছি।’ নারায়ণপুর জেনারেল হাসপাতাল (প্রা.) অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আল-আমিনের কাছে সিজার করা চিকিৎসকের নাম ও পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি এবং হাসপাতালে ওই চিকিৎসকের কোনো তথ্য সংরক্ষণ নেই। অনেক জিজ্ঞাসাবাদের পর বিল্লাল ভাই নামে একজন চিকিৎসকের কথা বলেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মোস্তফা ইমন চৌধুরী বলেন, ‘ভোরে এই রোগী নিয়ে আসার পর আমি নিজেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু যিনি এসে সিজার করেছেন তাকে এর আগে কোনো দিন দেখিনি। হাসপাতালের এমডি তাকে ফোনে ডেকে এনেছেন।’ মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহিব উল্লাহ সৌরভ বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। আর হাসপাতালের কাগজপত্র নবায়ন না করা থাকলে এখনো করার জন্যে সময় আছে।’ সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়