বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫  |   ৩৬ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২১, ২০:৫৭

শামীমের ব্যাটে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

রাসেল হাসান
শামীমের ব্যাটে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

টার্গেটটা কম ছিলো না। ১৯৩! সেই সংখ্যাটিকে কেন জানি মূল্যহীন করে দিলেন জাতীয় দলে সদ্য ডাক পাওয়া শামীম পাটওয়ারী। ১৮তম ওভারের শেষ তিন বলে তিন চার মেরে ম্যাচকে শুধু নিজেদের নিয়ন্ত্রনেই আনেনি দলকে জিতিয়েছেন হাতে ৪ বল রেখে। এ জয়ে বাংলাদেশ শুধু একটি ম্যাচেই জিতেনি জিতেছে একটি সিরিজ। কেন না আজই যে অলিখিত ফাইনাল ছিলো বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের।

প্রথম ম্যাচের আক্ষেপ দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুচালেন শামীম। নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই দলকে এনে দিলেন জয়ের স্বাদ। কে জানতো ১৯৩ রান তাড়া করা ম্যাচটি বাংলাদেশ জিতবে বা হারবে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে? সেই স্বপ্নময় কাজটি করে দেখালেন চাঁদপুরের শামীম। নাহ্। এখন আর চাঁদপুরের বলা যাচ্ছে না। শামীম যে এখন সমগ্র বাংলাদেশের। টাইগারদের একাংশ। বাঘের মত হুঙ্কার দিতে যে শামীমও জানে তা জিম্বাবুয়ে বোলারদের চোখে চোখ রেখে জানিয়ে দিলো শামীম পাটওয়ারী। জানান দিলো সমগ্র বাংলাদেশকে জাতীয় দলে শামীমের ডাক মোটেই ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো না। শামীম জিতলেন, শামীম জেতালেন সমগ্র বাংলাদেশকে।

নিজেদের ইতিহাসে এতো রান তাড়া করে বাংলাদেশ জিতেছিল এর আগে একবারই। সৌম্য সরকারের ফিফটি, সাকিব-আফিফের ক্যামিও, মাহমুদউল্লাহর ইনিংসের পর শামীম হোসেনের ১৫ বলে অপরাজিত ৩১ রান করে ৪ বল ও ৫ উইকেট বাকি রেখেই শেষ ম্যাচের সঙ্গে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।

নাঈমের দ্রুত ফেরা, সাকিবের স্বপ্ন জাগানিয়া দুই ছয়ের পর গ্যালারিতে ফেরার পর বাংলাদেশ আবারো হারের শংকায় টিভি সেটের সামনে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে। ম্যাচের হাল ধরলেন মাহমুদুল্লাহ আর সৌম্য। তাদের ধীর গতির ব্যাটিংয়ে ক্রিকেট ভক্তরা যখন দীর্ঘশ্বাস ফেলছিলো তখনই কিছু গতি এনে ফিফটি করলেন বল হাতে ২ উইকেট নেওয়া সৌম্য।

৪৯ বলে ৬৮ রানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পর বিদায় নিলেন সৌম্য। পিচে আসলেন আফিফ হোসেন। বেশিক্ষণ থাকেননি তিনিও। তবে যাবার আগে ৫ বলে ১৪ রানের যে ঝড় তুলে গেলেন তা হয়তো সাহস জুগিয়েছিলো নবাগত শামীম পাটওয়ারীকে। বাংলাদেশের হাজারো ক্রিকেট ভক্তদের মনে যখন প্রশ্ন শামীম পারবে তো? তখন কেন জানি চাঁদপুরের সিকি কোটি মানুষের আত্মবিশ্বাসী উত্তর শামীম-ই পারবে।

ব্যাট দোলাতে-দোলাতে মাঠে নামলেন শামীম। ততক্ষণে চাঁদপুরের নেটিজের ফেসবুক ওয়াল কেবলই শামীমময়। সকলের প্রত্যাশা শামীম ভাই পারবে। গত ম্যাচে ১৩ বলে ২৯ রান নেওয়া শামীম পাটওয়ারী ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেও অদম্য। ম্যাজিকটা দেখালেন ১৮তম ওভারের শেষ তিন বলে। প্রথমে স্ল্যাপ, এরপর রিভার্স পুল। আর শেষে পুল করে লং-অন দিয়ে। শামীম হোসেনের টানা তিন চারে জয়ের আরও কাছে চলে গেছে বাংলাদেশ। তখনও কোন কোন দর্শকদের মনে হচ্ছিলো এ কোন ম্যাচের হাইলাইটস নয়তো? গায়ে চিমটি কেটে নড়ে চড়ে বসা মানুষরা যতক্ষণে বুঝলেন ঘটনা সত্যি ততক্ষণে শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন মাত্র ১৩ রান।

ম্যাচের রোমাঞ্চকর মূহুর্ত তখনও বাকি। মাঠে আছেন বাংলাদেশের সাইলেন্ট কিলার খ্যাত মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ পুরো বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন তখনও তাকে ঘিরে। কিন্তু জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক। মুজারাবানির অফস্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়েছেন, উইকেটের পেছনে ডানদিকে ডাইভ দিয়ে দারুণ ক্যাচ নিয়েছেন রেজিস চাকাভা। ২৮ বলে ৩৪ রান মাহমুদউল্লাহর। জয় থেকে ৭ রান দূরে বাংলাদেশ।

মাঠে নামলেন নূরুল হাসান সোহান। ১৯তম ওভারের শেষ বলে মুজারাবানির বাউন্সারে পরাস্ত হলেও সিঙ্গেল চুরি করেছেন শামীম ও নুরুল। ম্যাচ ও সিরিজ জিততে শেষ ৬ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৫ রান।

ম্যাচে তখন টান-টান উত্তেজনা। সকলের কাপাল কুঁচকে চিন্তার ছাপ পড়লেও শামীম ছিলেন হাসিমুখে। শেষ ওভারের প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচ যখন সমতায় তখন বাংলাদেশেন প্যাভিলিয়নের সবাই দাঁড়িয়ে হাত তালি দিলেন তরুণ এই উদীয়মানকে। স্কোর বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১৯২ রান, হাতে আছে তখনও ৫ বল। এই স্কোর করতেই জিম্বাবুয়েকে খরচ করতে হয়েছে পুরো ২০ ওভার।

দ্বিতীয় বলে হেসে খেলে সিঙ্গেল নিয়ে শামীম যখন জয় উপভোগ করেছেন ততক্ষণে তার ব্যক্তিগত সংগ্রহ ১৫ বলে অপরাজিত ৩১ রান।

একমাত্র টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়েকে ধবলধোলাই করেছিল বাংলাদেশ। এবার জিতল টি-টোয়েন্টি সিরিজও। পুরো বাংলাদেশ আনন্দ বইছে, আনন্দ বইছে শামীমের জন্মস্থান চাঁদপুরে। কঠোর বিধিনিষেধ না হলে এতক্ষণে হয়তো মিছিলে আর শ্লোগানে মুখরিত থাকতো ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরের রাজপথ।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়