প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২১, ২০:৪৭
শততম টি-টুয়েন্টিতে বাংলাদেশের জয়

চাঁদপুরের মানুষদের কাছে বাংলাদেশ দলের শততম টি-টুয়েন্টি ম্যাচটি একটু বেশিই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারন এই ম্যাচেই প্রথম দলে থাকার সম্ভাবনা ছিলো চাঁদপুরের সন্তান ক্রিকেটার শামীম পাটওয়ারীর। মূল একাদশে ডাক না পেলেও দ্বাদশ প্লেয়ার হিসেবে ফিল্ডিংয়ে নেমে এক ক্যাচ ও ফিল্ডিংয়ে যে নৈপুণ্যতা দেখিয়েছে তা-ই বা কম কিসের?
|আরো খবর
শত তম টি-টুয়েন্টি ম্যাচের জয়টা প্রাপ্যই ছিলো বাংলাদেশের। অবশেষে হলোও তা-ই। স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে সফররত বাংলাদেশ। আর এই জয়ের মাধ্যমে ওয়ানডে এবং টেস্টের পর ক্রিকেটের সবচেয়ে ক্ষুদ্র সংস্করণ টি-টোয়েন্টির শততম ম্যাচেও জয় তুলে নিল টাইগাররা।
আফতাব আহমেদের ৬৭ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর শততম ওয়ানডে ম্যাচে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২২৯ রানে থেমে যায় হাবিবুল বাশারদের ইনিংস। কিন্তু সেটা তুলতেই ব্যর্থ ভারত। মাত্র ২১৪ রানেই গুটিয়ে তাদের ইনিংস।
২০১৭ সালে শততম টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল শ্রীলঙ্কা। ওই ম্যাচে ৪ উইকেটে হারিয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্বকারীরা। প্রথম ইনিংসে ৪৯ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৮২ রান তুলে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল খান।
আজ শততম টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের দেয়া ১৫৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে নেমে দুই ওপেনার সৌম্য সরকার এবং নাঈম শেখের ব্যাটে দুরন্ত সূচনা করে সফররত বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতে দুজনের ১০২ রানের পার্টনারশিপে জয়ের সুবাসই পায় টাইগাররা।
৪৫ বলে ৫০ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন সৌম্য। তার ইনিংসটি চারটি চার এবং দুটি ছয়ে সাজানো। দ্বিতীয় উইকেটে ব্যাট করতে নেমে দলীয় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ করেন ১৫ রান আর তৃতীয় উইকেট জুটিতে নাঈম এবং সোহান মিলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটির পর ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন নাঈম শেখ। আর নুরুল হাসান সোহান মাঠ ছাড়েন ১৬ রানে।
শুরুতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি জিম্বাবুয়ের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফেরেন তাদিওয়ানাসে মারুমানি তবে দ্বিতীয় উইকেটে দুর্দান্ত এক পার্টনার গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যান ম্যাধেভেরে এবং চাকাভা। ম্যাধেভেরে ব্যক্তিগত ২৩ রানে ফিরলে পরের উইকেট জুটিটি আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে। মাত্র ১০ ওভারে ৯০ রান তুলে বড় সংগ্রহের দিকেই এগোচ্ছিল স্বাগতিকরা।
শরিফুর ইসলামের করা ম্যাচের ১১তম ওভারে দুই উইকেটে পতন ঘটলে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ওই ওভারের প্রথম বলে পেছনে তুলে খেলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন চাকাভা। কিন্তু ১ রানের জন্য দৌঁড় দিলে পেছন থেকে বাংলাদেশি উইকেট সোহান ছুঁড়া বল সরাসরি উইকেটে আঘাত আনে। রান আউট হন চাকাভা। আউট হওয়ার পূর্বে করেন ৪৩ রান। একই ওভারের পঞ্চম বলে শূন্যরানেই কটবিহাইন্ড হন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজাও।
অবশ্য ১২তম ওভারে উইকেটের দেখা পান দলের পার্টটাইম বোলার সৌম্য সরকার। তারিসাই মুসাকান্দাকে এলবিডব্লিউ ফাঁদে ফেলেন তিনি। ১৩তম ওভারে আবারো উইকেট লুফে নেন শরিফুল। ২২ বলে ৩৫ রান করা ডিওন মেয়ার্স হয়েছেন ক্লিন বোল্ড। শেষদিকে লুক জংউইর সুবাদে ইনিংসে দলীয় স্কোর দেড়শ ছাড়িয়ে যায়। জংউই করেন ১৮ রান। এছাড়া ৮ রানে মুজারাবানি এবং ৪ রানে রায়ান বার্ল আউট হন। সাইফউদ্দিন ও শরিফুল ২টি করে উইকেট পেলেও কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ পেয়েছে ৩ উইকেট।