প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২১, ২১:১৫
লিটনের সেঞ্চুরি আর সাকিবের ৫ উইকেটে বড় জয় পেলো বাংলাদেশ

বাংলাদেশের দেয়া ১৭৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১২১ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। এতে ১৫৫ রানের বড় জয় পায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং বোলিংয়ে সাকিব আল হাসানের ঘূর্ণিতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বড় জয়ই পেল সফররত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।
|আরো খবর
বাংলাদেশি বোলারদের দাপুটের বোলিংয়ে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের। দ্বিতীয় ওভারেই মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে শূন্যরানে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার তাদিওয়ানাসে মারুমানি। আরেক ওপেনার ওয়েসলে ম্যাধভেরেকে ৯ রানে বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে পাঠান তাসকিন আহমেদ।
পরবর্তী আক্রমন শরীফুলের। ১৮ রানে ডেওন মেয়ার্সকে সাজঘরে ফেরান তিনি। আর ব্যাট হাতে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকা জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর সাকিবের বলে তাসকিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তখন তমতার ব্যক্তিগত সংগ্রহ ২৪ রান। বল হাতে ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে সাকিব আল হাসান। মূলত তার ঘূর্ণিতেই কাবু জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ। একমাত্র উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান রেগিস চাকাভা ছাড়া ক্রিজে দাঁড়াতে পারেননি কেউই। ব্যক্তিগত ফিফটি পূর্ণ করার পর আউট হয়েছেন তিনি ৫৪ রানে। ৬ রানে বার্ল, ২ রানে মুজারাবানি আউট হন। আর রানের খাতায় খুলতে পারেননি লুক জংউই।
সবমিলিয়ে শেষ ছয়জন ব্যাটসম্যানের কেউই দশের ঘর স্পর্শ করতে পারননি। দিনের শুরুতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেই ভালো হয়নি বাংলাদেশের। তৃতীয় ওভারেই মুজারাবানির বলে কটবিহাইন্ড হন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। দ্বিতীয় উইকেটে ব্যাট করতে নেমে ১৯ রানে ফেরেন সাকিব আল হাসান। ১৯ রানে ফিরেছেন মোহাম্মদ মিঠুনও। আর মোসাদ্দেক করেছেন ৫ রান। চার উইকেট হারিয়ে খানিকটা চাপেই পড়ে সফরকারীরা।
এমতাবস্থায় চতুর্থ উইকেটে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে দলের হাল ধরেন লিটন দাস। দুজন মিলে গড়েন ৯৩ রানের জুটি। তাতেই চাপ সামলে বড় স্কোরের দিকেই এগোতে থাকে দল। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আউট হয়েছেন ৩৩ রানে। বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের যাওয়া আসার ভিড়ে ব্যতিক্রম ছিলেন লিটন দাস। আপনতালে ব্যাট করতে থাকা লিটন কুমার দাস তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি। এরপর আর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি তিনি। এনগারাভার বলে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ তুলে দেন লিটন। আউট হওয়ার পূর্বে ১১৪ বলে ৮টি চারের মারে করেছেন ১০২।
শেষদিকে আফিফ-মিরাজ মিলে মাত্র ৪২ বলে ৫৮ রানের একটি কার্যকরী পার্টনারশিপ গড়েন। ৩৫ বলে ৪৫ রান তুলে আউট হন আফিফ। আর ২৫ বলে ২৬ রান করেন মিরাজ। সাইফউদ্দিন ৮ রানে এবং শরিফুল শূন্যরানেই অপরাজিত থাকেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন লুক জংইউ। এছাড়া দুটি করে উইকেট পেয়েছেন ব্লেসিং মুজারাবানি ও রিচার্ড এনগারাভা। এ ম্যাচে ৫ উইকেট সংগ্রহ করে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বাধিক ২৭৪ উইকেট শিকারি এখন সাকিব আল হাসান।