শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৮

রামপুর বাজারের চাঁদাবাজরা কি এতোটাই অপ্রতিরোধ্য?

অনলাইন ডেস্ক
রামপুর বাজারের চাঁদাবাজরা কি এতোটাই অপ্রতিরোধ্য?

একজন পেশাদার সাংবাদিকের ওপর প্রকাশ্যে হামলা এবং পঁাচ লাখ টাকা চঁাদা না পেয়ে তাকে রক্তাক্ত করার ঘটনা শুধু নিন্দনীয়ই নয়, এটি স্থানীয় শান্তিশৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দেয়। চঁাদপুর কণ্ঠের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল রামপুর বাজারে ‘ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার’-এর সামনে সাংবাদিক মিজানুর রহমান রানার কাছে পঁাচ লাখ টাকা চঁাদা দাবি করে একদল দুর্বৃত্ত। চঁাদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মঙ্গলবার তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, রামপুর বাজারে এই সন্ত্রাসী চক্রের চঁাদাবাজি ও তাণ্ডব এটাই প্রথম নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে মোটা অংকের চঁাদা দাবি করে আসছে। চঁাদা না দিলে দোকান লুটপাট, হামলা চালানো এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে এরা। ইতঃপূর্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাজারে অভিযান চালিয়ে দু-একজনকে গ্রেপ্তার করার পর কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও, আইনি ফঁাকফোকর কিংবা প্রশাসনের ঢিলেঢালা ভাব কাজে লাগিয়ে চক্রটি আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

যখন সমাজের দর্পণ হিসেবে পরিচিত একজন সংবাদকর্মী নিজ এলাকায় চঁাদাবাজির প্রতিবাদ করে বা এড়িয়ে গিয়ে নিজের নিরাপত্তা পান না, তখন সাধারণ ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা কোন্ পর্যায়ে পেঁৗছেছে তা সহজেই অনুমান করা যায়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ভাষ্যমতে, তিনি মৌখিকভাবে বারণ করা সত্ত্বেও চক্রটি থামেনি। কেবল কমিউনিটি পুলিশ দিয়ে নৈশপাহারার ব্যবস্থা করা বা মৌখিক দুঃখপ্রকাশ করে এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। দুষ্কৃতকারীদের কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় থাকতে পারে না-তাদের পরিচয় একটাই, তারা অপরাধী।

চঁাদাবাজদের এমন অপতৎপরতা অব্যাহত থাকলে রামপুর বাজারের স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য ভেঙে পড়বে এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন। এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। সাংবাদিক মিজানুর রহমান রানার ওপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি রামপুর বাজারে স্থায়ী শান্তি ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়