প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩১
ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলোরে দুনিয়ায়
হুজুরের দেহতত্ত্ব
নূরে মোহাম্মদীর (দ.) স্থানান্তর : আদম (আ.)-এঁর ললাটে

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
বেদায়া ও নেহায়া গ্রন্থে উল্লেখ আছে- হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) একদিন নবী করীম (দঃ)-এর খেদমতে আরয করলেন- “ইয়া রাসুলাল্লাহ (দঃ), হযরত আদম (আঃ) যখন জান্নাতে ছিলেন, তখন আপনি কোথায় ছিলেন”? হুযুর পুরনুর (দঃ) মুচকি হাসি দিয়ে বললেন- “আদমের ঔরসে। তারপর হযরত নূহ (আঃ) তঁার ঔরসে আমাকে ধারণ করে নৌকায় আরোহন করেছিলেন। তারপর হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর পৃষ্ঠদেশে। তারপর পবিত্র (ঈমানদার) পিতা মাতাগণের মাধ্যমে আমি পৃথিবীতে আগমন করি। আমার পূর্ব পুরুষগণের মধ্যে কেহই চরিত্রহীন ছিলেন না” (বেদায়া-নেহায়া ২য় খন্ড ২৫ পৃষ্ঠা।) সুতরাং হযরত আদম (আঃ) ও তঁার বংশধরগণ ছিলেন প্রিয় নবীর বাহনমাত্র।
এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। তা হচ্ছে- নিজের আদি বৃত্তান্ত বর্ণনা করা আল্লাহপ্রদত্ত ইলমে গায়েব ছাড়া সম্ভব নয়। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হুযুর (দঃ)-এঁর আদি জীবন বৃত্তান্ত বর্ণনা করার প্রথা তিনি নিজেই চালু করেছেন। মিলাদ মাহফিলের মূল প্রতিপাদ্যই হলো নবী জীবনী আদি-অন্ত আলোচনা করে দঁাড়িয়ে সালাম পেশ করা। হযরত আদম (আঃ) থেকে হযরত ঈসা (আঃ) পর্যন্ত সমস্ত নবীদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব ছিল নবী করীম (দঃ)-এর জীবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা। হযরত ইসা (আঃ) তো নবী করিম (দঃ)-এর বেলাদতের ৫৭০ বৎসর পূর্বেই মিলাদ মাহফিল করেছেন বনী ইসরাইলের লোকজন নিয়ে। কোরআন মজিদের ২৮ পারা সূরা সাফ-এর মধ্যে আল্লাহ তায়ালা হযরত ঈসা (আঃ)-এর এই সম্মিলিত মিলাদ মাহফিলের বর্ণনা দিয়েছেন। বেদায়া ও নেহায়া গ্রন্থের ২য় খন্ডে ২৬১ পৃষ্ঠায় ইবনে কাছির হযরত আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন “হযরত ঈসা (আঃ) সে সময় কেয়াম অবস্থায় মিলাদ মাহফিল করেছিলেন”।
সুতরাং মিলাদ মাহফিল নতুন কোনো অনুষ্ঠান নয়। ফিরিস্তা এবং নবীগণের অনুকরণেই পরবর্তী যুগে বুযুর্গানেদ্বীন কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে বর্তমান মিলাদ মাহফিল প্রচলিত হয়েছে। মিলাদ কিয়াম ভিত্তিহীন নয়। যারা ভিত্তিহীন বলে- তাদের কথারই কোনো ভিত্তি নেই। মিলাদ মাহফিলের বৈধতার উপর তিন শতের উপর কিতাব রচিত হয়েছে। তন্মধ্যে মওলুদে বরজিঞ্জি গ্রন্থখানী আরব আজমের সর্বত্র অধিক সমাদৃত হয়ে আসছে। পাক-ভারত উপমহাদেশে শেখ আবদুল হক মোহাদ্দেছ দেহলভী (রঃ)-এর মাদারিজুন্নবুয়ত ও আল্লামা কাজী ফযলে আহমদ (লুধিয়ানা) লিখিত আনওয়ারে আফতাবে সাদাকাত গ্রন্থদ্বয় মিলাদ শরীফের বৈধতার প্রামাণিক দলীল। যথাস্থানে বিস্তারিত আলোচনা করার ইচ্ছা রইলো। (চলবে)
সূত্র : নূরনবী, লেখক : অধ্যক্ষ এমএ জলিল (র.)।






