রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ০৭:১৪

অকালে খসে পড়লো সংস্কৃতি অঙ্গনের এক তারকা

অনলাইন ডেস্ক
অকালে খসে পড়লো সংস্কৃতি অঙ্গনের এক তারকা

চঁাদপুরের সবচে’ খ্যাতিমান নাট্য সংগঠন বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর অন্যতম কর্মকর্তা, বিশিষ্ট নাট্যকার ও নির্দেশক জিয়াউল আহসান টিটোর মতো সংস্কৃতি অঙ্গনের এক তারকা অকালে খসে পড়লো। চঁাদপুরের নামকরা চিকিৎসকদের অন্যতম ডা. আবুল খায়ের গোলদারের পুত্র, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, বিশিষ্ট নাট্যজন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জিয়াউল আহসান টিটো গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) ভোর ৪ টায় ঢাকার একটি হাসপাতালে কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তঁার বয়স হয়েছিলো ৫৭ বছর। চঁাদপুরে শহরের মুক্তিযোদ্ধা সড়কের শহীদ মিনারের বিপরীতে ‘উপশম’ ছিলো তঁার পৈতৃক ঠিকানা। ৪ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন মেঝো। তিনি দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস ও কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি মা, তিন ভাই, এক বোনসহ বহু আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর তঁার সহধর্মিণী ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। ১৯৮২ সালে তিনি চঁাদপুরের ঐতিহ্যবাহী বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর সদস্য হন। তারপর তিনি থেমে ছিলেন না। নিজ সংগঠনে এ পর্যন্ত বেশ ক’টি নাটকে নির্দেশনা দিয়েছেন। বাংলাদেশে প্রথম তিনি বাউল সম্রাট লালন ফকিরের কাহিনী ও দর্শন নিয়ে রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন ‘লালননামা’ নাটকে। নাটকটি ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। তঁারই সংগঠন বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠী নাটকটি দেশের বিভিন্ন স্থানে মঞ্চায়ন করেছে। এছাড়াও তিনি ডি এল রায়ের সাজাহান নাটকটি রূপান্তর ও নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশিষ্ট নাট্যকার লিটন ভূইয়ার রচনা বিবর্ণ বিন্দুর বিপরীতে নাটকটি নির্দেশনাসহ বেশ ক’টি নাটকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর অধিকাংশ নাটকের আলোক পরিকল্পনায় ছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের অন্যতম কর্মকর্তা। এক সময় জিয়াউল আহসান টিটো গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চাকুরি ও ব্যবসার সুবাদে ঢাকা অবস্থান করেন। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বর্ণচোরা নাট্যগেষ্ঠীর কর্মকর্তা হিসেবে সংগঠনে পাশে থেকে নিরলস কাজ করে গেছেন। বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব চিশতিয়া জামে মসজিদের সামনে হাসান আলী হাই স্কুল মাঠে নামাজে জানাজা শেষে চঁাদপুর পৌর কবরস্থানে বাবার পাশে তঁাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। তঁার মৃত্যুতে বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সভাপতি শুকদেব রায় ও সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সাথে তঁার রুহের মাগফেরাত কামনা করেছেন। এছাড়াও চঁাদপুর থিয়েটার ফোরামের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব ও সাধারণ সম্পাদক এমআর ইসলাম বাবু ফোরামের পক্ষ থেকে এবং চঁাদপুর সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রের আহ্বায়ক শরীফ চৌধুরী ও সদস্য সচিব মোবারক হোসেন শিকদার সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

জন্মের সিরিয়াল আছে, মৃত্যুর যে কোনো সিরিয়াল নেই সেটি জিয়াউল আহসান টিটোর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আরো একবার প্রমাণিত হলো। তিনি বৃদ্ধা মা, ভাই-বোনকে রেখেই দুনিয়া থেকে অকালে বিদায় নিলেন। নিজ বাবার পরে চঁাদপুরে স্বীয় কর্মকীর্তির জন্যে জিয়াউল আহসান টিটোর পরিবারের অন্যান্য সদস্যের চেয়ে পরিচিতি ছিলো ব্যাপক। বিশেষ করে সংস্কৃতি অঙ্গনে তঁার খ্যাতি ও পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছিলো চঁাদপুরের সীমানা ছাড়িয়ে রাজধানী সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। তঁার স্ত্রীর অকাল মৃত্যুসহ নিজের জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়াটা নাট্যাঙ্গনের জন্যে তঁার অবদানকে প্রত্যাশার সমান্তরালে সংক্ষিপ্ত করে ফেলে। তবুও তিনি সুস্থাবস্থায় তঁার নাট্য প্রতিভা দিয়ে নিজ সংগঠন বর্ণচোরাকে খ্যাতির যে উজ্জ্বল প্রতিভাস উপহার দিয়ে গেছেন, চঁাদপুরের মতো অন্য জেলাগুলোর নাট্য সংগঠনের ক’টিই বা এমনভাবে উপহৃত হয়েছে। সে বিবেচনায় জিয়াউল আহসান টিটো শুধু চঁাদপুরের নাট্যাঙ্গন তথা সংস্কৃতি অঙ্গনের ইতিহাসে নয়, পুরো দেশের নাট্যচর্চার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে ছিলেন না। তবে তিনি যে ভালো মানুষ ছিলেন, সেটা নিয়ে বিতর্ক নেই। আমরা তঁার অকাল মৃত্যুতে ভীষণ শোকাহত। আমরা তঁার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়