প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ০৩:৩২
চাঁদপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস এবং ইপিজেড স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি
"একটি মহল রাজনীতির নামে বিভ্রান্তি, বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়"

বিগত সরকারের সময় নেয়া চাঁদপুরের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের আভাষ ছিলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তৃতায়। শুধু তাই নয়, চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে তাৎক্ষণিক বিডার চেয়ারম্যান, মতলব উত্তরের কৃতী সন্তান আশিক চৌধুরীকে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব দিয়ে দ্রুত এর উপর কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন।
|আরো খবর
প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার (১৬ মে ২০২৬) সন্ধ্যা নেমে আসার পূর্ব সময়ে (৬:২৬ থেকে ৬:৩৬ মি.) তাঁর ১০ মিনিট বক্তৃতা করেন। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে তাঁর এ বক্তৃতায় তিনি বলেন, আজকে ঘোষেরহাটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি দেখে আসলাম। আমরা চাই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে (ছেলে হোক মেয়ে হোক) দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে। আমাদেরকে হাসপাতাল গড়ে তুলতে হবে, চিকিৎসক তৈরি করতে হবে। যাতে করে আমাদের দেশের মানুষ চিকিৎসা সুবিধা পায়।
তিনি বলেন, একজনকে দেখছি চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপন করার দাবি নিয়ে প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে রাখছে। আমার সাথে আজকে বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এসেছে। তিনি আপনাদের চাঁদপুরেরই সন্তান। তাকে আজকে বলে যাচ্ছি চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে দ্রুত কাজ শুরু করার জন্যে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে
ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এখন দেশ গড়ার পালা। আমরা আসন্ন বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখেছি। যাতে করে আমরা নতুন নতুন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করতে পারবো। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি নয়, আমরা শিক্ষকদেরকে ট্রেনিং করাবো যাতে করে মানসম্মত শিক্ষা পায় আমাদের ছেলেমেয়েরা। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, পুনঃখনন, মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়--এসব বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। বাইরে থেকে এসে কেউ আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করে দিয়ে যাবে না। আমাদের ভাগ্য আমাদেরই পরিবর্তন করতে হবে। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি মহল রাজনীতির নামে বিভ্রান্তি, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়। আমরা কি তাদের প্রশ্রয় দিবো? আপনারা কি বসে থাকবেন? তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি, ২০২৪-এ দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছি। এখন আমরা বাংলাদেশকে গড়বো।
'করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ'। সর্বশেষ এই কথা বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর দশ মিনিটের বক্তব্য শেষ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেয়ার আগে মঞ্চে ল্যাপটপের বাটন টিপে ২০টি জেলার ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সুবিধা প্রাপ্তি উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি ১, ২ ও ৩ এবং বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম বলে উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সকল দর্শককে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' বলতে বললে সকলে সমস্বরে তা বলেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আবু ইউসুফ। বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য, শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আনম এহসানুল হক মিলন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা চাঁদপুরের কৃতী সন্তান ড. মাহদী আমিন, চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক, চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. জালাল উদ্দীন আহমেদ, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা ও চাঁদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. একেএম সলিম উল্যা সেলিম।
এছাড়া ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভাগীদের মধ্য থেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন রুমা আক্তার ও মনোয়ারা বেগম।








