রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ০২:৩২

ক’ আদ্যক্ষরের শব্দ সমষ্টি দিয়ে ৩২১ শব্দের একটি সার্থক ছোট গল্প

লিখেছেন বুয়েট থেকে পাস করা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার (মেকানিক্যাল) মো. কুদ্দুছুর রহমান

চাঁদপুর কন্ঠ রিপোর্ট
ক’ আদ্যক্ষরের শব্দ সমষ্টি দিয়ে ৩২১ শব্দের একটি সার্থক ছোট গল্প

‘ক’ আদ্যক্ষরের শব্দ সমষ্টি দিয়ে ৩২১ শব্দের একটি সার্থক ছোট গল্প

লিখেছেন বুয়েট থেকে পাস করা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার (মেকানিক্যাল) মো. কুদ্দুছুর রহমান

‘ক’ কুটির

‘ক’ কুটির কর্কটক্রান্তির কাছাকাছি কলমাকান্দার কোন কাঞ্চনময় কুটির। কাঁঠাল কাঠের কারুকাজ করা কোনো কিংবদন্তী। কুটিরবাসীদের কথোপকথন ‘ক’ কেন্দ্রিক।

কার্তিকের কোনো কার্যকাল। কুটির কর্তা কায়েস কুতুবুদ্দিনের কনিষ্ঠ কন্যা করিমুন, কাঁচিতে কুচি কুচি করিয়া কয়েকটি কিম্ভূতকিমাকার কার্বন কাগজ কাটিতে কাটিতে কখনও কাগজ-কলমের কথা কল্পনা করত কাছেই কর্তব্যরত কুদরত কাকাকে করুণ কণ্ঠে কহিল, ‘‘কাকা, কর্ণফুলী কাগজের কলে কাজ করা কত কষ্ট! কেনো কষ্টকর কাজ করেন?’’ কাকা কাহিল, ‘‘কাজ করা কঠিন কর্তব্য। কর্তব্য কাজই কষ্টের। কাজেই কষ্টকর কাজ করি। কথায় কয়নাঃ কষ্ট করিলেই কেষ্ট।’’

কাকার কথা কমিলে, করিমুন কাকীকে কহিল, ‘‘কাকী কাক কা কা করে কেন?’’ কাকী কহিল, ‘‘কা কা করাই কাকের কাজ। কাজেই কাক কা কা করে।’’ কাকীর কথা কমিতে কমিতেই করিমুন ক্রমশ কথা কহিয়াই কাটাইল। করিমুন কহিল, ‘‘কাকী কোকিল কুহু কুহু করে কেন? ’’কাকী কর্কশ কণ্ঠে কহিল, ‘‘করিমুন, কথা কম কও। কোকিলের কাজ কোকিল করে। কি কাণ্ড! কেবল কানের কাছে ক্যান ক্যান করে কথা কয় কিংবা কাঁচিতে কাগজ কাটে।’’ কাকী ক্রোধযুক্ত কথকথা করিতে করিতেই করিমুনের কাগজ কাটার কাঁচিটা কব্জিবদ্ধ করিল। কাকীর কঠোর কথায় করিমুন কাঁদিতে কাঁদিতে কণ্ঠ কাহিল করিল। করিমুন কাঁতর কণ্ঠে কহিল, ‘‘কাকী, কওনা কেন? কেন কোকিল কুহু কুহু করে?’’ কাকী কোন কথা কহিলনা। কেবল কপাল কুঞ্চিত করিল।

কিংকর্তব্যবিমূঢ় কাকা করিমুনের কান্না কমাইতে, করিমুনকে কোলে করিয়া কোমল কণ্ঠে কহিল, ‘‘কি করিমুন, কাঁদছো কেন? কথায় কথায় ক্রন্দন করোনা, করিমুন।’’ করিমুন কাঁতর কণ্ঠে কহিল, ‘‘কাকা, কাকী কোন কথা কয়না কেন?’’ কাকা কহিল, ‘‘কাকীটা কূপমণ্ডুক। কেবল ক্যাঁট ক্যাঁট করাই কাজ। কত করে কহিলাম কচি-কাঁচাদেরকে কখনও কটুকাটব্য কিংবা কটাক্ষ করিওনা। কিন্তু কে করে কার কথায় কর্ণপাত? ’’করিমুনের কান্না কমিতে কমিতে কাকা কন্যকা কিছুক্ষণ কৌতুহলোদ্দীপক কথোপকথন করিল।

করিমুন : কাকা, কাগজের কলে কী কাজ করেন?

কুদরত কাকা : কাঠ কাটার কাজ।

করিমুন : কীভাবে কাঠ কাটেন?

কুদরত কাকা : করাতের কলে কিংবা কুঠারে।

করিমুন : কাকা, কাপ্তাই কোথায়?

কুদরত কাকা : কর্ণফুলীর কাছেই।

কাকা-কন্যকার কথোপকথন কালে কাকী করিমুনের কাগজ কাটার কাঁচিটা কখনো কাঠের কামরায় কামরাবদ্ধ করিল। কিন্তু কাকীর কাঁকনের কনকনানি করিমুনের কর্ণ কুহরে করাঘাত করিতেই, করিমুন কাকীর কর্মকাণ্ড কর্ণগোচর করিতে কোন কার্পণ্যই করিলনা। কেননা করিমুন ‘ক’ কুটিরেরই কন্যা।

পরের পাতায়.........

‘ক’ কুটির গল্প রচনার নেপথ্য কথা। লেখকের ভাষ্য।

সম্মানিত পাঠকগণ আমার এই ‘ক’ কুটির গল্পের সাথে আমার জীবন ইতিহাস অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। তাই সেটি আমি একটি বই, যার নাম হবে ‘কেরামতের কল্প কাহিনী’ এবং যার মধ্যে থাকবে আমার আত্মজীবনী, সেটিতে বিস্তারিত লিখব ইনশাআল্লাহ। এখন উল্লেখ করবো কীভাবে আমি অসাধ্য সাধন করলাম তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। আমি ১৯৯০ সালে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই, যেখানে ক্লাস শুরু হয় ১৯৯১ সালে। তখন হঠাৎ করে মাথায় এলো যদি এমন একটি গল্প লিখা যেত যার সবগুলো শব্দ ‘ক’ আদ্যক্ষর দিয়ে হতো। এমন চিন্তা মাথায় আসার কারণ হলো আমি তখন ‘ক’ আদ্যক্ষর দিয়ে ভাঙ্গা ভাঙ্গা কয়েকটি লাইন জানতাম। তাই চিন্তা করলাম যদি ‘ক’ আদ্যক্ষর দিয়ে একটি গল্প রচনা করতে পারি, তাহলে তো বেশ হয়, কেননা আমার ডাক নাম ‘ক’ (কুদ্দুছ) আদ্যক্ষর দিয়ে। কিন্তু তখনই আবার মনে হলো এটা অসম্ভব। অসম্ভব নিয়ে চিন্তা করে কোন লাভ নেই। এরপর চিন্তা এখানেই সীমবদ্ধ রাখলাম। তারপর যখন ৪র্থ বর্ষে ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করলাম, তখন মনে আবার ঐ চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। তারপর চিন্তা করতে করতে অর্থবোধক প্রায় ৫০ শব্দের অর্থবোধক বাক্য সমষ্টি মিলালাম এবং আমার রুমমেটদেরকে তা দেখালাম। তা দেখে তারা আশ্চর্য হয়ে গেল। কিন্তু আমার মনে হলো এর বেশি কিছু করার নেই। অর্থাৎ ‘ক’ আদ্যক্ষর দিয়ে শব্দ সমষ্টি নিয়ে পুরো একটি গল্প বানানো সম্ভব নয়। বন্ধুগণ আমার ডাক নাম ‘ক’ আদ্যক্ষর দিয়ে শুরু বিধায় আমি গল্পটি লিখতে সচেষ্ট থাকি সব সময়। আমি চিন্তা করলাম, আরেকটু চিন্তা করে দেখি না গল্পটি লিখা সম্ভব কিনা। বন্ধুগণ আমার ডাক নাম কুদ্দুছ হলেও এটি আসলে আল্লাহর নাম, যার অর্থ হলো পবিত্র। আমি ঐ পবিত্র সত্তার কাছে কায়মন্যেবাক্যে সহায়তা চাই। তার অনেকদিন পর যখন আমি ১৯৯৬ সালে, র‍্যাংগস্ ইন্ডাস্ট্রিজ লি: এ প্রথম চাকুরিতে যোগদান করি, তখন হঠাৎ আমার মাথায় ‘ক’ কুটির অর্থাৎ গল্পের নামটি মাথায় আসে। এভাবে ধাপে ধাপে আমি শেষ পর্যন্ত গল্পটি লিখেই ফেলি, আলহামদুলিল্লাহ। তারপর গল্পটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য দীর্ঘদিন রেখে দেই। সর্বশেষ ২০০৮ সালে একটি শব্দ সংযোজন করি। আমার মনে হয় এই লেখাটিতে আর পরিবর্তনের দরকার নেই। লেখাটি একদিকে যেমন হাস্য রসাত্বক, অন্য দিকে ব্যাঙ্গাত্বক। লেখাটি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার যোগ্য। এ ব্যাপারে আমি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন সাহেবকে পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করছি।

মমার্থ: অনেকে বলে থাকেন ইংরেজি ভাষাই আন্তর্জাতিক ভাষা এবং ইংরেজি ভাষাই নাকি শ্রুতিমধুর। যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলতে চাই- ইংরেজি ভাষা আন্তর্জাতিক ভাষা হওয়ার অনেক যোগ্যতা বহন করলেও আমার মতে বাংলাভাষাই সবচেয়ে বেশি শ্রুতিমধুর এবং ছন্দময়। বাংলার ভাটিয়ালী, জারি-সারি গান, মুর্শিদী, মারফতি, নাতে রসূল, নজরুল গীতি, রবীন্দ্র সংগীত, পল্লীগীতি এবং বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের অনেক আধুনিক শিল্পীদের, যেমন: লতা মঙ্গেসকার, হৈমন্তী সুক্লা, হেমন্ত মুখপাধ্যায়, ভুপেন হাজারিকা ইত্যাদি অনেকেই বাংলায় সুমিষ্ট আধুনিক গান গেয়ে বাংলা ভাষাকে আরো সুমিষ্ট যেমন, পাহাড় থেকে পতিত ঝর্ণা ধারার মতো সুন্দর ও সুললিত করেছেন। বাংলাদেশে বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য আমাদেরকে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি একটি লড়াই করতে হয়েছিল তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে, যার নাম এক কথায় ভাষা আন্দোলন। সে আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদানে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। এখানে একটু ইতিহাসের কথা বলা দরকার। ১৯৪৭ সালে ভারতে ব্রিটিশ শাসনামল শেষ হয় এবং দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ঘটে। তখন শেখ মুজিবুর রহমান কলকাতা থেকে ঢাকায় এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। পাকিস্তান ছিল এক অস্বাভাবিক রাষ্ট্র। এর দুই অংশের (পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান) মধ্যে দূরত্ব হাজার মাইলেরও ওপরে। দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠা পেলেও সেই চিন্তার ভ্রান্তি শুরু থেকেই প্রকাশ পায়। বাঙ্গালি, পাঞ্জাবি, পশতু, বেলুচ, সিন্ধি ইত্যাদি বিভিন্ন জাতির বাস তৎকালীন পাকিস্তানে। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি তথা জাতিসত্তা সম্পূর্ণ আলাদা, বেশিরভাগ মানুষ মুসলমান হলেও তাতে ভাষা ও সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য মুছে যায় না। এমনি একটি দেশে প্রত্যেক জাতি তাদের স্বাতন্ত্র্য ও অধিকার বজায় রেখে হয়তো মিলিত হতে পারতো একসাথে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকরা চাইল জোর করে এক সংস্কৃতি ও একভাষার দেশ গড়তে। তাই বিরোধ লাগল শুরু থেকেই। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন আইন পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নেবে বলে ঘোষণা দেন। দুর্জয় ও দুর্বার সাহসে আপন ভাষা বাংলা ভাষাকে অমর্যাদা করার হীন চক্রান্তের বিরুদ্ধে বাংলা মায়ের তরুণ সন্তান শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিবাদ করেন। সাথে সাথে সারা বাংলায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এরই পরবর্তী পরিক্রমায় ২ মার্চ রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এই পরিষদ নিয়ে মুভমেন্ট করার কারণে প্রায়ই বঙ্গবন্ধুকে কারাবরণ করতে হয়। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন চলাকালে বঙ্গবন্ধু তখনও জেলে। ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি সেই খাজা নাজিমুদ্দিন ঘোষণা করেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। এই ঘোষণার প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ৬ ফেব্রুয়ারি জেলখানায় অনশন শুরু করেন। ২১ ফেব্রুয়ারু রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্র জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করেন। মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, বরকত, রফিক ও শফিউল শহিদ হন। বঙ্গবন্ধু জেলখানা থেকে এক বিবৃতিতে ছাত্র মিছিলে পুলিশের গুলি বর্ষণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অনশন অব্যাহত রাখেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মুক্তি লাভ করেন।

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের খবর সারাদেশে বিদ্যুৎ বেগে পৌঁছে যায় এবং দেশবাসী প্রচণ্ড বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। অত:পর পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। তবে ২১ শে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবস হিসেবে পালিত হতে থাকে ১৯৫৩ সাল থেকেই। তাই একথা ইতিহাসের অমর সত্য যে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতির মাঝে যে চেতনার উন্মেষ হয় তারই চরম বিস্ফোরণ ঘটে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ সালে।

পাঠকগণ আমার জন্ম ১৯৬৯ সালে (বাস্তবে, সার্টিফিকেটে ১৯৭১ সাল লিখা)। তাই আমি স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখেছি হয়তো কিন্তু কিছুই মনে নেই। পরে ইতিহাস সূত্রে জানতে পারি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তান থেকে ভেঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের নাম হয় বাংলাদেশ। অর্থ্যাৎ ১৯৭১ সালের পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এই স্বাধীনতা যুদ্ধের ১নং নায়ক হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে আরেক নায়ক প্রকাশিত হয় যার নাম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। যিনি স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে রনাঙ্গনে জেড সেক্টরে সরাসরি যুদ্ধ করেছেন। পরবর্তীতে এই দুই নায়কই বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছিলেন এবং নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলেন। এখানে আমি বেশি কথা বলবো না এই জন্য যে, এখানে অনেক ঐতিহাসিক বিতর্ক রয়েছে। সেই ব্যাপারে আমি একটি বই লিখব ইনশাআল্লাহ, যার নাম হবে 'আমার দেখা রাজনীতির ৫০ বছর’। তবে এটুকু বলব দু’জনই আমাদের শ্রেষ্ঠ ও জাতীয় নেতা। আর যেহেতু তাঁরা মারা গেছেন, আমাদের উচিত যার যার জায়গায় তাকে সম্মান দেয়া এবং তাদের কোনো ভুলক্রটি থাকলে তার জন্য আল্লাহর কাছে মাগফেরাত চাওয়া তারা যেনো জান্নাতবাসী হয়। এখানে বলে রাখা ভালো আমি কোনো দলের সক্রিয় সদস্য নই। তবে আমার পরিচয়টা অনেক বড়। আমি হলাম একজন দোদুল্যমান ভোটার, তবে দেশের ১৮ কোটি মানুষের মতো আমিও দেশের একজন মালিক। ১৯৯১ সালে বুয়েট এ যন্ত্রকৌশল বিভাগে যখন আমার ক্লাস শুরু হয় অর্থ্যাৎ আমি যখন ১ম বর্ষের ছাত্র তখন প্রথম ছাত্রদলকে ভোট দিয়েছিলাম। আর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভোট দিয়েছিলাম। আবার ২০০৮ সালে শেখ হাসিনাকেও বিশ্বাস করে ভোট দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি পরবর্তী ১৭ বছরে একজন ফ্যাসিস্ট এ পরিণত হয়েছিলেন। তার আমলে আর কোনো ভোট সুষ্ঠু হয়নি। এটি তার একক দোষ নয়। ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন স্বয়ং খালেদা জিয়া। তিনি প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়স ২ বছর বাড়িয়েছিলেন, যাতে তার পছন্দের কেএম হাসান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হয়। কিন্তু তিনি সেটি করতে পারেননি। আবার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাও সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকেই তঞ্চকতার মাধ্যমে বিচারিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ১৭ বছর অবৈধভাবে থেকে শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট হয়ে হাজারো ছাত্র জনতার মৃত্যুর কারণ হয়ে বাংলাদেশের মানুষের ঘৃণা কুড়িয়ে এখন দিল্লীতে পলাতক।

যাই হোক আমি অত্যন্ত আনন্দিত এই জন্য যে, বাংলাদেশের বীর ছাত্র জনতা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট (বা ৩৬ জুলাই) দ্বিতীয়বার দেশকে ভারতের কাছে বন্ধক দেয়া থেকে এবং ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার কবল থেকে দেশকে মুক্ত করেছেন। আমরা পারিনি, তোমাদের হাত ধরে গণবিপ্লবের মাধ্যমে দ্বিতীয়বার স্বাধীনতার স্বাদ পাচ্ছি। প্রথম শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ তোমরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করলা। তোমাদের বৈষম্য বিরোধী ব্যানারের হাত ধরে গণবিপ্লবের পর নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলটি আবার ক্ষমতায় এলো তার নাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা বিএনপি। এর প্রধানমন্ত্রী শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার বড় পুত্র জনাব তারেক রহমান। তাই আমি জনাব তারেক রহমানকে বলতে চাই ছাত্র জনতা বৈষম্যবিরোধী যে ডাক দিয়েছে আপনি জনগণের প্রতিনিধি হয়ে সে আশা পূরণ করুন। এবার স্বাধীনতার স্বাদ প্রত্যেক ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দেয়ার মহান দায়িত্ব পেলেন। আপনার প্রতি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ বিশ্বাস ও আশা প্রকাশ করেছে, যে মানুষগুলো দেশ থেকে দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করতে চায়। আপনি দয়া করে বিশ্বাস ভঙ্গ করবেন না। আপনার প্রতি আমারও আছে অগাধ ভালোবাস ও বিশ্বাস। তাই বলি একটু খেয়াল রাখবেন যেো ঘুষ, দুর্নীতি, বৈষম্য এবং অপশাসন আর ফিরে না আসে। এটা করতে হলে আগে ৩০০ সংসদ সদস্যকে দুর্নীতি মুক্ত হতে হবে এবং দুর্নীতি কমানোর চেষ্টা করতে হবে। আর একজন দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না এ আইন তৈরী করতে হবে। হবে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা স্থায়ী কাঠামো। মনে রাখবেন জনগণ পাঁচ বছরের জন্য আপনাকে নির্বাচন করেছেন। তাই পাঁচ বছর যদি আপনি সব ভালো কাজও করেন তাহলেও জনগণ আপনাকে পরিবর্তন করতে পারে যদি জনগণ বিকল্প কাউকে আপনার চেয়ে বেশি সৎ ও দক্ষ মনে করে। অর্থ্যাৎ জনগণের পালস বুঝার চেষ্টা করবেন। নির্বাচনটাকে একেবারে সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে হবে, তারপর ক্ষমতায় যে দল আসে আসুক। বাংলায় একটি প্রবাদ আছে,‘‘ দশ মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ’’। সরকার পরিবর্তনের জন্য যেন মানুষকে আর রাস্তায় নামতে না হয় এবং নির্বাচনই হোক একমাত্র উপায় যার মাধ্যমে কে সরকার চালাবে তা জনগণ নির্ধারণ করবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাই আপনাকে অনেক ভালোবেসে একটা দায়িত্ব দিতে চাই। আপনি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য একটু নজর দিন। তার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় লেবেলে সব ক্লাসেই আমাদের রব প্রদত্ত কোরআনের জরুরি কিছু সূরা, অর্থ ও তাফসিরসহ পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করেন। এতে স্রষ্টার ভয়ে মানুষের নীতি নৈতিকতার কিছু উন্নতি হতে পারে। যেমন, আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হযয়ত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা: ) চেয়েছেন তাঁর উম্মতের প্রত্যেকেই যেন অন্তত সূরা মুলক তেলোয়াত ও তাফসিরসহ অর্থ জানে। এই সূরা তেলাওয়াতকারীকে সুপারিশ করে জান্নাতে নিয়ে যাবে। আরও একটি সূরা ‘কাহফ’ এর প্রথম ১০ আয়াত যা মোমিন ও ঈমানদারদেরকে দাজ্জালের ফেতনা থেকে বাঁচিয়ে দিবে।

বাঙালি না বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ:

আমরা ভাষাগত লভাবে মেজোরিটি বাঙালি হলেও আমাদের দেশের আরও অনেক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী আছে তাদের ভাষাও ভিন্ন। কিন্তু আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী অর্থ্যাৎ বাংলাদেশী, যা আমরা আমাদের জাতীয় পরিচপত্র ও পাসপোর্টে লিখি। তাই ধর্ম যার যার উৎসব সবার এই শ্লোগান না দিয়ে বরং ধর্ম ও ভাষা যার যার দেশ সবার এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে দেশ গড়ার কাজে আমরা সবাই স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজে নেমে পড়ি এবং কঠোর ত্যাগ ও সাধনার মাধ্যমে বৈষম্য বিরোধী বাংলাদেশ গড়ে তুলি। আল্লাহ হাফেজ।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়