প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ০৪:২৭
বিশ্ব খালের পুনঃখননশেষে ঘোষের হাটের জনসমুদ্রে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন বার্তা, উৎসবে মুখর পুরো এলাকা

চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষের হাটে বিশ্ব খাল পুনঃখনন কাজ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে নতুন আশার বার্তা দিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৬ মে ২০২৬) বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে তিনি ঘোষের হাটে পৌঁছালে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে মানুষ মিছিল, ব্যানার, ফেস্টুন ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন。
|আরো খবর

ক্যাপশন :বিশ্ব খালের পাড়ে গাছের চারা রোপণ করে পানি ছিটিয়ে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী সমাবেশস্থলে পৌঁছে প্রথমেই একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন। পরে বিশ্ব খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাত পরিচালনা করেন চাঁদপুরের পুলিশ স্পষ্ট মো. রবিউল হাসান। উদ্বোধনশেষে প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে জনতার শুভেচ্ছার জবাব দিলে উপস্থিত মানুষের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক।

ক্যাপশন :চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষের হাট সংলগ্ন বিশ্ব খাল পুনঃখননশেষে আয়োজিত বিরাট সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ থেকে ৪৭ বছর আগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এই বিশ্ব খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এই খালের পানি দিয়ে কৃষিকাজ হতো, মাছ উৎপাদন হতো এবং এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো। কিন্তু দীর্ঘদিন অবহেলা, দখল ও দূষণের কারণে খালটির ঐতিহ্য নষ্ট হয়ে গেছে।”
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের নদী-খাল পুনরুদ্ধারে কাজ করছে এবং বিশ্ব খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য খাতে ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “বিশ্ব খাল আবারও তার পুরানো প্রাণ ফিরে পাবে।”
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনীতি, উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে স্বৈরাচারী শাসন চলেছে এবং দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সেই স্বৈরাচারকে পরাজিত করেছে। তিনি দেশের যুবসমাজের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, “যুবকেরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। তাদের এই ত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের এখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”

ক্যাপশন :চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষের হাট সংলগ্ন বিশ্ব খাল পুনঃখননশেষে আয়োজিত বিরাট সমাবেশ।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত সরকার বড়ো বড়ো উন্নয়ন প্রকল্পের নামে জনগণের অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচার করেছে। তিনি বলেন, “দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দক্ষতা নষ্ট করা হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতকে অবহেলা করা হয়েছে, ফলে মানুষ চিকিৎসার জন্যে বিদেশমুখী হয়েছে।”
উন্নয়নের বৈষম্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হলেও শহরে মেগা প্রকল্পের নামে দুর্নীতি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “চাঁদপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় এখনো কেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠিত হয়নি?” তিনি আশ্বাস দেন, পর্যায়ক্রমে সব দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি ইমাম-মোয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান, বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের কাজে কেউ ষড়যন্ত্র করলে দেশের জনগণই তাদের প্রতিহত করবে।”
অনুষ্ঠানকে ঘিরে ঘোষের হাট এলাকাজুড়ে ছিলো উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নেতাকর্মীরা মিছিল ও স্লোগানে মুখর করে তোলেন পুরো এলাকা। নারী, পুরুষ, শিশু ও তরুণদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারাও অনুষ্ঠান ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
উল্লেখ্য, বিশ্ব খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খালটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন পর এমন বৃহৎ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








