প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১৯
শতবর্ষের প্রাচীন মিনার আর নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী পুরাণবাজার জামে মসজিদ আজও মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের
একসঙ্গে প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন

চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার জামে মসজিদটি শহরের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো মসজিদ। এছাড়া এটি একটি পুরোনো মসজিদ। মসজিদটি দোতলা বিশিষ্ট। এ মসজিদের গায়ে রঙ্গিন কাচ ও পাথর দিয়ে দৃষ্টিনন্দন চিনিটিকরির কারুকাজ করা আছে। দোতলা ছাদের এক পাশে মাঝারি আকারের একটি গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজের চারকোণায় ৪টি ও সামনের এক অংশে আরো চারটিসহ মোট ৮টি ছোট ছোট মিনার রয়েছে। গম্বুজ ও মিনারগুলোতেও চিনিটিকরির কারুকাজ করা রয়েছে। মসজিদের সামনেই বেশ উঁচু একটি চিনিটিকরির কারুকাজ করা মিনার রয়েছে। বেশ দূর থেকেই শতবর্ষের এ মসজিদের উঁচু মিনারটি দেখতে পাওয়া যায়। তবে চারপাশের গিঞ্জি বাজারের জন্যে মসজিদের আসল সৌন্দর্য ম্লান হয়ে গেছে। মসজিদটি কে বা কারা কখন তৈরি করেছে সে সম্পর্কে কোনো তথ্য সংরক্ষণ নেই।
|আরো খবর
চাঁদপুর শহরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা পুরাণবাজারে অবস্থিত মসজিদটি মূলত স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনগণের দান-অনুদান এবং পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়ে আসছে। মসজিদটিকে চাঁদপুর শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি এই অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন মসজিদ, যা বাণিজ্যিক এলাকার মুসল্লিদের জন্যে অন্যতম প্রধান ইবাদতের স্থান। পুরাণবাজারের এই ঐতিহাসিক মসজিদটি ব্যবসায়ীদের ধর্মীয় অনুভূতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা শতাব্দী ধরে ঐতিহ্য বহন করে আসছে। মসজিদটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে এর স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের জন্যে।
চাঁদপুর জেলা শহরের সবচাইতে বড়ো এই পুরোনো মসজিদের ভেতরে এবং দ্বিতীয় তলায় প্রতি কাতারে ৮০ জন করে ২৫ কাতারে প্রায় ২০০০ জন মুসল্লির একসাথে নামাজের ব্যবস্থা আছে। তবে সম্প্রসারিত অংশ মিলিয়ে এখন এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় আড়াই হাজারের বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশ এবং বের হওয়ার জন্যে বাজারের তিনটি রাস্তায় তিনটি গেট রয়েছে। চাঁদপুর চেম্বার ভবনের সামনে মুসলিম মৃত নরনারীদের জানাজার নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। জানা যায়, একসময় নাখোদারা চাঁদপুর নদী বন্দরে ব্যবসা করেছেন। তৎকালীন মুসলিম ব্যবসায়ীরা মিলে তাদের দান অনুদান নিয়ে এই মসজিদটি গড়ে তোলেন। স্বাধীনতার পরবর্তী বাংলাদেশে এই মসজিদ পরিচালনায় ছিলেন চাঁদপুর বণিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা হাজী রফিউদ্দিন সোনা আখন্দ। তাঁর পরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনে ছিলেন মরহুম ডা. মজিবুর রহমান চৌধুরী, আবু তাহের বাসু আখন্দ, ডা. আবদুল হাই আখন্দ, হাজী বিল্লাল আখন্দ, জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম, আলহাজ্ব মো. ইউনুস মিয়াজী প্রমুখ।
বর্তমানে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনৈতিক আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ মাস্টার এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম আখন্দ। এখন খতিব ও ইমামের দায়িত্বে আছেন মুফতি ইব্রাহিম খলিল মাদানী। মসজিদের আধুনিকায়নের কাজে বাজারের তরুণ ব্যবসায়ীরা মুখ্য ভূমিকা রাখেন। এই মসজিদের অজুখানা, ভেতরে টাইলস্ স্থাপন, এসি লাগনোসহ অনেক উন্নয়ন কাজ তাঁরা করেছেন।
ডিসিকে/এমজেডএইচ








