প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৩০
ঘটনাস্থল ঢাকার তুরাগ থানা হলেও উভয়ের বাড়ি ফরিদগঞ্জে
স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

প্রেম করে বিয়ের পর সেই সংসারে আলো করে দু সন্তানের জন্ম হলেও শেষ পর্যন্ত মধুময় প্রেমের সম্পর্ক আর টিকলো না। স্বামীকে পরকীয়া আসক্ত হিসেবে সন্দেহ থেকে শুরু হওয়া পারিবারিক ঝামেলা, মারধরের ঘটনাও ঘটে। শেষ পর্যন্ত প্রেমিক স্বামীর অত্যাচার ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে গলায় ফাঁস দিতে বাধ্য হয় আছমা আক্তার রিমা (৩০) নামের এক গৃহবধূ। এদিকে স্ত্রীর গলায় ফাঁসের পর দু সন্তানকে রেখেই প্রেমিক স্বামী শরিফ হোসেন রনি (৩২) পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ঢাকার তুরাগ থানার তারারটেক এলাকায় ঘটলেও উভয়ের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায়। এ ব্যাপারে নিহত রিমার বোন নাছরিনা জাহান বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা (নং-১৫,তাং-১৮/২/২০২৬) দায়ের করেছে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) লাশের পোস্টমর্টেম শেষে রিমাকে তার বাবার বাড়ি ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার পশ্চিম বড়ালি গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
|আরো খবর
জানা গেছে, ২০১৪ সালে দীর্ঘ প্রেমের পরিণতি হিসেবে পূর্ব বড়ালি গ্রামের শাহজাহান কবিরের ছেলে শরিফ হোসেন রনির সাথে পার্শ্ববর্তী পশ্চিম বড়ালি গ্রামের আব্দুল মান্নান পাটওয়ারীর মেয়ে আছমা আক্তার রিমা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের খাদিজাতুল কুবরা সাইমা (১১) ও ১৩ মাস বয়সী দু কন্যা সন্তান রয়েছে।
আছমার বোন নাছরিনা জাহান জানান, বিয়ের ক'বছর পর হতেই তাদের মধ্যে প্রায়শই ঝগড়াঝাটি হতো। তার বোনকে তার স্বামী নানা সময়ে বেদম মারধর করতো। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিস হয়েছে। তারা গত দু-তিন বছর ধরে ফরিদগঞ্জ থেকে ঢাকা চলে যায়। সেখানেই তুরাগ থানার তারারটেক এলাকার নজির আহমদের ৭ তলা বাড়ির ২য় তলায় তারা বসবাস করতেন।
ঢাকা থাকাবস্থায় তার বোন প্রায়শই তাকে ফোনে মারধরের কথা বলতো এবং তার স্বামী একাধিক পরকীয়ায় আসক্ত বলে অভিযোগ করতো। সর্বশেষ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাত সোয়া ২টায় ফোনে জানায়, রনি তাকে বেদম মারধর করেছে, সে বাড়ি চলে আসবে। পরদিন সকালে তার বোনের মেয়ে খাদিজাতুল কুবরা সাইমা তাকে ভিডিও কলে ফোন করে তার মায়ের ঝুলন্ত লাশ দেখায় এবং জানায় তার বাবা পালিয়ে গেছেন। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার তরে পোস্টমর্টেম করেছে। পরে তারা তুরাগ থানায় গিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। তারা তার বোনের হত্যার বিচার দাবি করেন।
এদিকে রিমার বান্ধবী মারিয়া জানান, তার বান্ধবী রিমা ফরিদগঞ্জে থাকার সময় তার কাছে প্রায়ই আসতো। কাটা ছেঁড়া, রক্তমাখা শরীর নিয়ে আসতো। আমার কাছে বললেও সে কাউকে বলতে চাইতো না শুধুমাত্র সন্তানদের দিকে চেয়ে। তাদের উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্য ছিলো মেয়েলি ব্যাপার নিয়ে। সর্বশেষ তাকে পৃথিবী ছেড়ে চলেই যেতে হলো।
রিমার ১১ বছরের মেয়ে খাদিজাতুল কুবরা সাইমা জানায়, মঙ্গলবার রাতে তার বাবা-মা ঝগড়া করেছে। সেদিন সে বাধা দিতে গেলে তার বাবা তাকেও মেরেছে। বুধবার সকালে তার বাবা তাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে বলে, তোর মা মরে গেছে। তারপর দ্রুত তার সকল মোবাইল ফোন নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যায়। আমি মায়ের ঘরে গিয়ে মাকে ঝুলে থাকতে দেখি। পরে আমার বড়ো খালামণিকে ফোন দিয়ে জানাই। পরে আমাদের বাড়ির মালিক এসে পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে আমার মাকে নিয়ে যায়। সে আরো জানায়, তার বাবা-মা প্রায়ই ঝগড়া করতো। তার মাকে বাবা মারধর করতো।
এদিকে অভিযুক্ত শরিফ হোসেন রনির মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তার মামা হারুনুর রশিদ জানান, বুধবার সকালে তাকে ফোন করে রনি জানায়, তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে। তিনি আরো জানান, রনি ও আছমা উভয়ে উগ্র স্বভাবের ছিলো। ইতঃপূর্বে তাদের বিষয়ে সালিস করে তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা সমাধান করে দিয়েছিলেন। এদিন প্রকৃত ঘটনা কী হয়েছে, তা তিনি জানেন না।








