বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩৯

কচুয়ার হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন

চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম।।
কচুয়ার হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন
ক্যাপশন: যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তপ্রাপ্ত আসামী ইয়াসিনকে কারাগারে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবি : ইয়াসিন ইকরাম।

কচুয়ায় বিদেশে পাঠানো টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে মারধর ও কাঠের আঘাতে কেরামত আলী (৫৮) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার অপরাধে আসামী মো. মোশারফ হোসেন (৩৫) ও মো. ইয়াছিন (৩৭)কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামী ইয়াসিন উপস্থিত ছিলেন। হত্যার শিকার কেরামত আলী কচুয়া উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের লইয়া মেহের পাঁচধারা গ্রামের লেবার বাড়ির বাসিন্দা। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মোশারফ একই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে এবং ইয়াছিন মো. হাছানের ছেলে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৩ আগস্ট সকালে লেবার বাড়িতে মামলার বাদী ও হত্যার শিকার কেরামত আলীর ছেলে মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে বিদেশে পাঠানো টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে আসামীদের মারধরের ঘটনা ঘটে। বিবাদী মোশারফ গং বাদির ছোট ভাই আল-আমিনের ওপর আক্রমণ চালায়। ওই সময় তাদের মা ও বাবা কেরামত আলী রক্ষা করতে আসলে আসামী ইয়াছিনের কাঠের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে কেরামত আলী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে দুটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সর্বশেষ কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানার নবাবপুর টাওয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পরদিন ২৪ আগস্ট নিহত ব্যক্তির ছেলে জসিম উদ্দিন কচুয়া থানায় সাতজনকে নামীয় আসামী করে মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় তৎকালীন কচুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মামুনুর রশিদ সরকার মামুনকে। তিনি মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. কুহিনুর বেগম বলেন, মামলাটি চলমান অবস্থায় আদালত ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য গ্রহণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা এবং আসামীদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামী ইয়াছিনের উপস্থিতিতে বিচারক রায় দেন। অপর আসামী মোশারফ হোসেন পলাতক এবং বাকি পাঁচ আসামীর অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।

মামলায় আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. জসিম উদ্দিন প্রধান ও পলাতক আসামির পক্ষে ছিলেন স্টেট ডিফেন্স ল'ইয়ার সফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়