বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫  |   ২৬ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৪, ১২:১৫

এমন পান্না আক্তার শুধু ফরিদগঞ্জে নয়, অন্যত্রও আছে

অনলাইন ডেস্ক
এমন পান্না আক্তার শুধু ফরিদগঞ্জে নয়, অন্যত্রও আছে

ফরিদগঞ্জে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাঠকর্মী পান্না আক্তারের বিরুদ্ধে ভাতার বই করে দেয়ার নাম করে অর্থ আত্মসাৎসহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার (২৭ নভেম্বর) চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের একটি টিম তদন্ত করেছে। এদিকে অভিযুক্ত পান্না আক্তার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনার পর জেলা সমাজসেবা অফিস অভিযুক্তকে অন্যত্র বদলি করেছে। জানা গেছে, পান্না আক্তার বিগত তিন বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নারীদেরকে ভাতার কার্ড করে দিবে বলে জনপ্রতি ২ থেকে ৪/৫ হাজার টাকা আদায় করতেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা জেলা সমাজসেবা অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা অফিসের সহকারী পরিচালক রুহুল আমিন বশিরের নেতৃত্বে একটি তদন্ত টিম গত বুধবার (২৭ নভেম্বর) তদন্ত করতে আসে। উপজেলা সমাজসেবা অফিসে এ সময় অভিযোগকারীরাসহ অনেক লোক ভিড় করেন। তারা পান্না আক্তারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ভুক্তভোগীদের কথা শোনেন এবং ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। ভুক্তভোগী নাজমা, মাছুমা, অজুফা, মুন্নিসহ অনেকেই বলেন, পান্না আক্তার আমাদের ভাতার বই করে দেবে বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। 'কার্ড কবে দিবেন' জিজ্ঞেস করলে আমাদের হুমকি-ধমকি দিতো। তাই নিরূপায় হয়ে আমরা অভিযোগ দিতে এখানে এসেছি।

তারা অভিযোগ করে আরো বলেন, টাকা আসার সময় হলে ফোন দিতো। ভাতার ৫০ ভাগ টাকা সরিয়ে রাখতে হতো পান্না আক্তারের জন্যে। না দিলে ভাতা বন্ধ করার হুমকি দিতেন তিনি। এসব টাকা-পয়সা নিজে না নিয়ে সকল কাজ করতেন স্থানীয় দালালের মাধ্যমে।

এদিকে অভিযুক্ত মাঠকর্মী পান্না আক্তার বললেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। অন্যদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা সহকারী পরিচালক রুহুল আমিন বশির বলেন, আমরা তদন্ত করেছি। রিপোর্ট আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবো।

এদিকে অনিয়মের অভিযোগের পর মাঠকর্মী পান্না আক্তারকে মতলব দক্ষিণে বদলি করা হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় দেশের দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত, বিপদগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্যে বিভিন্ন ধরনের ভাতার ব্যবস্থা করে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করছে। কিন্তু পান্না আক্তারের মতো কিছু সরকারি কর্মচারী, কিছু পৌর মেয়র-কাউন্সিলর, কিছু ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার ভাতার কার্ড প্রদানের নামে যে কী জঘন্য কাজ করে সেটা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) -এর মাঠ পর্যায়ের জরিপে উঠে এসেছে। সেমতে কিছু জায়গায় ভাতা কার্ড সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবে নির্মূল হয়নি। কেননা কিছু ভাতাভোগী নিজেরাই অনিয়মের আশ্রয় নেয় সমঝোতার মাধ্যমে কিংবা দালালের মধ্যস্থতায়। আমরা মনে করি, এই অনিয়মকে প্রশ্রয় দিয়ে কেউ না কেউ লাভবান হয়। ধরা পড়লে পান্না আক্তারের মতো অসৎ-লোভীরা বড়ো জোর বদলি হয়, কিন্তু বিভাগীয় মামলা ও শাস্তির মুখোমুখি হন না বললেই চলে। সেজন্যে কোথাও অনিয়ম চাপের মুখে সাময়িক চাপা থাকে, সুযোগ পেলেই বারবার চাঙ্গা হয়ে যায়। সে বোধ-বুদ্ধি থেকে বলবো, পান্না আক্তাররা শুধু ফরিদগঞ্জ নয়, দেশের অন্যত্রও ওঁৎ পেতে বা ঘাপটি মেরে বসে থাকে, সুযোগ পেলেই মাথাচাড়া দেয়। অতএব সাবধান।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়