শনিবার, ০১ মার্চ, ২০২৫  |   ২২ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২০:০৮

বইপাগল তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের অজানা কথা জানালেন তাঁর শিক্ষক আ. রব

প্রবীর চক্রবর্তী
বইপাগল তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের অজানা কথা জানালেন তাঁর শিক্ষক আ. রব

তাঁকে বইপাগল বা বইপোকা যেভাবেই বলা হোক না কেন, তাঁর জন্যে সব বিশেষণই প্রযোজ্য। বই ছিলো তাঁর দুনিয়া। নিজের কাছে থাকা বই পড়া শেষ হলে সহপাঠীদের কাছে থাকা বই নিয়ে পড়তেন। তাঁর এই বই পড়ার অভ্যাস এখনো রয়েছে। এ কথাগুলো জানান বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের শিক্ষক, ফরিদগঞ্জ উপজেলার গল্লাক দারুস সুন্নাত দাখিল (প্রস্তাবিত আলিম) মাদ্রাসার সুপার মাও. আ. রব।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের গল্লাক বাজারের উপকণ্ঠে অবস্থিত এই মাদ্রাসাটি বলতে গেলে মেধাবীদের কারখানা। ইবতেদায়ী শ্রেণি থেকে দাখিল বর্তমানে আলিম পর্যন্ত অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা প্রকৃত মানুষ হয়ে এখান থেকে বের হয়। যদিও অবকাঠামোগত সমস্যা ও শিক্ষক স্বল্পতার কারণে এই প্রতিষ্ঠানটি ধুঁকছে। প্রখ্যাত ওয়ায়েজীন ড. মিজানুর রহমান আজহারী ও ড. ফয়েজুল হকের শিক্ষক যাত্রাবাড়ী দারুস নাজাত মাদ্রাসার সাবেক সহকারী শিক্ষক এবং সর্বশেষ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের শিক্ষাগুরু, ফরিদগঞ্জের গল্লাক দারুস সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাও. আ. রব তাঁর প্রিয় ছাত্র মাহফুজ আলম সম্পর্কে অজানা কথা বলেন।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের দাখিল পরীক্ষার্থীদের ব্যাচটি এই মাদ্রাসার ইতিহাসের সেরা ব্যাচ। মাহফুজ আলম, তাঁর ভাই মাহবুব আলম এবং আমার নিজের ছোট ভাইসহ একঝাঁক মেধাবী শিক্ষার্থীর ব্যাচ ছিলো সেই ব্যাচ। ওই বছর এই প্রতিষ্ঠান থেকে মাহফুজসহ ৭ জন ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়। জেলার সেরা ফলাফল হয়েছিল ওই বছর এই মাদ্রাসা থেকে। ছাত্রাবাসে থাকার কারণে মূলত এই শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পেরেছে। সার্বক্ষণিক আমিসহ সকল শিক্ষক তাদের লেখাপড়ার বিষয়ে নজর রেখেছি। সেই নজরদারিতেই ধরা পড়ে মাহফুজের বই পড়ার নেশার চিত্র।

মাদ্রাসার ক্লাসে নির্ধারিত বইয়ের বাইরে কোনো বই না আনা নিষেধ থাকলেও মাহফুজ লুকিয়ে লুকিয়ে বাড়তি বই নিয়ে আসতো। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে সেসব বই পড়তো। নিজের কাছে থাকা সকল বই পড়া শেষ হলে ছুটতো সহপাঠীদের কাছে, এরপর শিক্ষকদের কাছে। তার নেশাই ছিলো নতুন নতুন বই পড়া এবং জ্ঞান আহরণ করা। তবে সে প্রাচীন বিষয় নিয়ে বেশি পড়াশোনা করতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েও প্রাচীন বিষয় নিয়ে পড়ার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস নিয়ে বেশ কয়েকটি বই লিখতে সক্ষম হয়। এখনো সে সময় পেলেই বই পড়ে এবং গবেষণা করার চেষ্টা করে। গত ৬ মাস পূর্বে সে আমাকে ফোন করে তাঁকে পিরোজপুর থেকে প্রকাশিত প্রাচীন পত্রিকা ‘তাবলিকা’র প্রথম সংখ্যা থেকে সকল সংখ্যা সংগ্রহ করে দিতে বলে। সে এগুলো নিয়ে গবেষণা করবে। বই পড়ার মূল কারণ, সে এসব বিষয়ে গবেষণা করে। সে মূলত ঐতিহ্যের সন্ধানে কাজ করার লোক। অর্থাৎ সে প্রাচীনের প্রতি মোহগ্রস্থ। একারণেই তাঁর লেখালেখির প্রতি বেশি আগ্রহ। নিজে প্রাচীনের কথা জেনে এদেশের মানুষকে তা জানাতে চায়।

তিনি জানান, মাহফুজ শুধু সারা দিন-রাত বই নিয়ে পড়ে থাকতো, তা নয়। সে একজন মানবিক মানুষ ছিলো। সহপাঠী, বন্ধু এবং আশপাশের লোকজনের যে কোনো বিপদে-আপদে দৌড়ে যেতো। সে চুপচাপ স্বভাবের লোক হলেও সকলের কাছে প্রিয়পাত্র ছিলো।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়