বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৪

মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলার ৫৯ বছরে পদার্পন

কামরুল হাসান নিপু
মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলার ৫৯ বছরে পদার্পন

প্রাণপ্রিয় শিশুদের শৈশব থেকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে গড়ে তোলার নিমিত্তে ১৯৫৬ সালের ৫ অক্টোবর মহীয়সী কবি সুফিয়া কামালের ঢাকাস্থ ওয়ারীর তারাবাগের বাসায় বিজ্ঞানী ডক্টর আবদুল্লাহ আল-মুতি শরফুদ্দিনের সভাপতিতে একদল শিশুর উপস্থিতিতে এক সভা হয়। সভার উদ্যোক্তা ছিলেন, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, শিশু দরদী, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই। জন্ম নেয়, জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন, ‘কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা’।

তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৬৮ সালের ৫ নভেম্বর, পুুরাতন ডাকবাংলোর সবুজ ঘাসের উপর বসে ‘মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলা’র জন্ম। নামটি ‘দাদাভাই’— ই রেখেছিলেন। ‘সূর্যমুখী’ এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘সূর্যমুখী’ ফুলের দৃষ্টি আলোর দিকে। তাই অন্ধকার থেকে আলোর দিকে ধাবিত হবার ব্রত নিবে মতলবের শিশু-কিশোররা।

প্রথম দিকে প্রতিদিন বিকেলে পুরাতন ডাকবাংলো প্রাঙ্গনে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে প্রশিক্ষণ চলতো। আবার তা সন্ধ্যায় খুলে নেয়া হতো। একদিন দুরু দুরু বক্ষে যে সংগঠনের জন্ম হয়েছিল, তা হাঁটি হাঁটি পা পা করে অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে আজ পূর্ণাঙ্গ বিকশিত হতে চলেছে। আর তা সম্ভব হয়েছে মতলব মেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অতীত ও বর্তমান পৃষ্ঠপোষক, শুভানুধ্যায়ী প্রবীন তরুন/ শিশু সদস্যদের অকুন্ঠ আন্তরিকতা, কর্মোদ্যোম উৎসাহ ও প্রেরনার ফলে। জনপ্রতিনিধি, সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তা, গন্যমান্য ব্যক্তি সমাজ সেবীদের দানও অপরিসীম। সংগঠনের প্রতি মতলববাসীর শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা ছিল অতুলনীয়। তাই মেলার ৫৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও কচি-কাঁচা দিবসের মাহেন্দ্রক্ষনে সবাইকে জানাই শ্রদ্ধা, অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা।

ইতোমধ্যে আমরা আমাদের অনেক প্রবীন তরুন শিশু সদস্য ভাই-বোনদের হারিয়েছি। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। পাশাপাশি মতলব মেলার জন্য তাদের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মারণ করছি।

৫ নভেম্বর ১৯৬৮ থেকে অদ্যাবধি নানা কর্মসূচী ও প্রকল্প গ্রহনের মাধ্যমে প্রাক্তন ও বর্তমান প্রবীন, তরুন ও শিশু ভাই-বোনদের অফুরন্ত সহযোগিতা নিয়ে মতলব মেলার পথ চলা। নানা ঘাত-প্রতিঘাত, আনন্দ বিহবলের মধ্যে বলিষ্ঠ প্রত্যয়ে ভবিষ্যতের পানে এগিয়ে চলেছে সংগঠনটি। তার হারাবার কিছুই নেই। কারন এর জন্ম মাটির কোলে, ঘাসের উপর বসে।

মতলব শহরের প্রাণ কেন্দ্রে আজ মেলার দু’বিঘা জমি রয়েছে। মতলব মেলার উদ্যোগে সাপ্তাহিক কর্মসূচী যথা: শরীরচর্চা, আবৃত্তি, সঙ্গীত, নৃত্য, চিত্রাঙ্কন, বক্তৃতা, অভিনয় পরিচালিত হচ্ছে। তদুপরি কয়েকটি প্রকল্প: ‘কচি-কাঁচা পাঠাগার ও যাদুঘর’ ‘কচি-কাঁচা প্রাথমিক বিদ্যালয়’ ‘কচি-কাঁচা প্রি-ক্যাডেট স্কুল’ (বাংলা ও ইংলিশ ভার্সন), ‘কচি-কাঁচা ফাউন্ডেশন’ ‘শিশু স্বাস্থ্য কর্মসূচী’ ‘পবিত্র কুরআন শিক্ষা’ ‘বৃক্ষ রোপন’ প্রভৃতি কার্যক্রম চলছ। রয়েছে, ‘নামায ঘর’ ‘কচি-কাঁচা মিলনায়তন’। নানা ফুলে-ফলে গাছ-গাছড়ায় এলাকাটি সুসজ্জিত। প্রাঙ্গনটি ‘শিশুবাগ নামে পরিচিত’ ও ‘কচি-কাঁচা কমপ্লেক্স হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

পরিশেষে বলছি, কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার প্রতিষ্ঠাতা- পরিচালক, অসম্ভব শিশু দরদী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই- এর আদর্শে, পরবর্তী পরিচালকদ্বয়, খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ও অধ্যাপক রওশন আরা ফিরোজ এর অনুপ্রেরনায় ও বর্তমান সভাপতি খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান এর আন্তরিক তত্ত্বাবধানে মেলার প্রতিটি ভাই-বোন মেলার সংস্পর্শে এসে নিজেকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। মতলব মেলার ৫৮ বছর পূর্তি ও অগ্রযাত্রায় অতীতের মত ভবিষ্যতেও সবার আন্তরিক সৌহার্দ ও সহযোগিতা কামনা করি।

লেখক পরিচিতি: সাধারণ সম্পাদক, মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলা

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়