প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০০:৩৬
সাবেক এমপি হারুন অর রশিদ খানের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের দুবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও দানশীল ব্যক্তিত্ব মরহুম আলহাজ্ব হারুন অর রশিদ খানের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (৫ নভেম্বর ২০২৬)। দিবসটি উপলক্ষে মরহুমের পরিবারের উদ্যোগে চাঁদপুর সদর, মতলবসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবন : মরহুমের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আলহাজ্ব হারুন অর রশিদ খান ১৯৩৪ সালের ১ নভেম্বর চাঁদপুর সদর উপজেলার তৎকালীন আশিকাটি ইউনিয়নের সফরমালী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম আলহাজ্ব সেকান্তর খান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও চাঁদপুরের কৃতী সন্তান মরহুম আলহাজ্ব মিজানুর রহমান চৌধুরীর অনুপ্রেরণায় রাজনীতিতে পা রাখেন তিনি। পরবর্তীতে চাঁদপুর-৩ আসন থেকে তিনি টানা দুইবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনেন।
শিক্ষা ও সমাজসেবায় অবদান : রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষানুরাগী ও দানশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমাদৃত ছিলেন হারুন অর রশিদ খান। তিনি সফরমালী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং খেরুদিয়া দেলোয়ার হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। চাঁদপুর রেলওয়ে হকার্স মার্কেট প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে। এছাড়া চাঁদপুর সদর ও মতলব উপজেলার বহু মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তিনি মুক্তহস্তে দান করেছেন।
ইন্তেকাল ও স্বজনদের আয়োজন : ২০০৩ সালের ৫ নভেম্বর (পবিত্র ৯ রমজান) ঢাকার ইন্দিরা রোডস্থ নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই দূরদর্শী নেতা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর স্মরণে পরিবার ও অনুসারীরা প্রতি বছর ৫ নভেম্বর ও ৯ রমজানে এতিমখানায় খাবার ও ইফতার বিতরণ এবং বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করেন।
মৃত্যু মানুষের অবধারিত পরিণতি হলেও নিজ কর্মের মাধ্যমে আলহাজ্ব হারুন অর রশিদ খান আজ চাঁদপুরবাসীর হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছেন। তাঁর ত্যাগ, জনসেবা ও মহানুভবতা নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
পরিবারের পক্ষে থেকে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুক--সে কামনা করা হয়েছে।








