প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০০:৪৭
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন : মতলব উত্তর-৩
মোহনপুর ইউনিয়নে প্রচারণায় সরব সম্ভাব্য প্রার্থীরা, বাড়ছে আলোচনা

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মতলব উত্তর উপজেলার ৭ নম্বর মোহনপুর ইউনিয়নে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা এবং গণসংযোগে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। সাধারণ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন প্রার্থীরা, যা কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে বাড়ছে আলোচনা ও উদ্দীপনা।
ভৌগোলিক পরিচিতি ও ভোটার সংখ্যা
১৩টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত মোহনপুর ইউনিয়নের একটি বিশাল অংশ মেঘনা নদী দ্বারা বিভক্ত। এর মধ্যে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড তিনটি চরাঞ্চলে অবস্থিত। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৯৩ জন।
যাঁদের নাম আলোচনায় রয়েছে
ইউনিয়নটিতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বেশ কয়েকজন প্রার্থীর নাম স্থানীয়ভাবে বেশ আলোচনায় রয়েছে। তাঁরা হলেন—বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. নুরুজ্জামান জামান, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান (নিপু), উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ উল্লাহ, ব্যবসায়ী কাজী মতিন, উপজেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মো. কামরুল ইসলাম হানিফ, মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন ঢালী ও মো. রাসেল সরকার সিডু। এ ছাড়াও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মাস্টার ও হাবিবুর রহমান (হাফিজ)সহ আরও কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
প্রার্থীদের বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতি
কাজী মিজানুর রহমান (বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান) বলেন, “বর্তমান দায়িত্বে থেকে জনগণের জন্য কী করেছি, ভোটাররা তা ভালোভাবেই জানেন। ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবা আমি নাগরিকদের জন্য অবৈতনিক (ফ্রি) করে দিয়েছিলাম। পুনরায় নির্বাচিত হলে একই ধারা অব্যাহত রাখবো এবং মানসম্মত রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের মাধ্যমে এ ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলবো।”
মো. নুরুজ্জামান জামান বলেন, “নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইউনিয়ন পরিষদের সেবাকে আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে কাজ করবো। প্রতিটি নাগরিক যাতে সম্মান, ন্যায়বিচার ও সমান অধিকার পান, তা নিশ্চিত করা হবে।”
মো. নূরুজ্জামান (নিপু) জানান, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং জনগণের সেবা করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। নির্বাচিত হলে রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নসহ জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেবেন।
আরিফ উল্লাহ বলেন, “ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ বা ক্ষমতার মোহ থেকে নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনসেবার ব্রত নিয়েই আমি প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি একটি সুশৃঙ্খল, মাদকমুক্ত, শিক্ষাবান্ধব, আধুনিক ও বৈষম্যহীন মোহনপুর ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চাই।”
কাজী মতিন বলেন, “দল-মত নির্বিশেষে ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষ আমার আপনজন। সেবা গ্রহণে কাউকে যেন ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে বিষয়টি আমি নিশ্চিত করবো। নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, যুবদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
মোল্লা মো. কামরুল ইসলাম হানিফ বলেন, “জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে একটি সুন্দর ও আধুনিক মোহনপুর ইউনিয়ন উপহার দেবো। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষির উন্নয়ন এবং পরিষদের কার্যক্রমে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সর্বস্তরের মানুষের সেবা করবো।”
ভোটারদের প্রত্যাশা
স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের মতে, প্রার্থীরা যেন কেবল ফাঁকা প্রতিশ্রুতি না দিয়ে এলাকার বাস্তব সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেন। পাশাপাশি তাঁরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ধারণা, নির্বাচনের দিন যতো ঘনিয়ে আসবে, প্রচার-প্রচারণা ও ভোটের সমীকরণ ততোই জটিল ও জমে উঠবে। তবে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী কারা হচ্ছেন, তা নির্ভর করছে দলীয় মনোনয়ন ও নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সমাপ্ত হওয়ার ওপর।








