বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০০:২১

নতুন এনআইডিতে ৭ দিনেই ১৮ সিম নিবন্ধন, চরম বিপাকে প্রবাসী

নতুন এনআইডিতে ৭ দিনেই ১৮ সিম নিবন্ধন, চরম বিপাকে প্রবাসী
মাহবুব আলম লাভলু

সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) হাতে পাওয়ার মাত্র সাত দিনের মধ্যে সেই এনআইডির বিপরীতে নিবন্ধিত হয়েছে ১৮টি সিমকার্ড! অথচ এর একটিও তিনি কেনেননি বলে দাবি করেছেন আব্দুল মালেক (৫৬) নামের ওই প্রবাসী। নিজের পরিচয়পত্র দিয়ে অন্যের নামে সিম নিবন্ধনের এই ঘটনায় তিনি চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে মতলব উত্তর উপজেলার পূর্ব ফতেপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ লুধুয়া গ্রামে। ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক ওই গ্রামের মৃত নোয়াব আলী মোল্লার ছেলে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে প্রায় দুই মাস আগে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করেন আব্দুল মালেক। এর এক সপ্তাহ আগে তিনি নতুন এনআইডি কার্ড হাতে পান। এরপর নিজের নামে একটি নতুন সিমকার্ড কিনতে তিনি সুজাতপুর বাজারের একটি দোকানে যান। কিন্তু দোকানদার তাকে জানান, তার এনআইডি নম্বরের বিপরীতে ইতোমধ্যে ১৮টি সিম নিবন্ধিত রয়েছে। এ কথা শুনে তিনি হতবাক হয়ে পড়েন।

পরে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর কোম্পানির কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করে নিজের এনআইডির বিপরীতে নিবন্ধিত সিমগুলোর তথ্য সংগ্রহ করেন মালেক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনটি অপারেটরের অধীনে মোট ১৮টি সিম নিবন্ধনের সত্যতা মিলেছে।

এর মধ্যে কিছু সিম তিনি বাতিল করতে সক্ষম হলেও সবক'টি এখনো বন্ধ করা যায়নি। তিনি জানান, চাঁদপুরে দুটি সিম এবং একটি অপারেটরের আরও তিনটিসহ মোট পাঁচটি সিম বাতিল করা হয়েছে। তবে একটি অপারেটরের চারটি সিম বাতিল করতে তাকে ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি অপারেটরের অধীনে নিবন্ধিত ১২টি সিমের মধ্যে মাত্র তিনটির সংযোগ কাটা হয়েছে, বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উদ্বেগ প্রকাশ করে আব্দুল মালেক বলেন, "আমি আমার এনআইডি দিয়ে একটি সিমও কিনিনি। অথচ আমার পরিচয়পত্র দিয়ে এতগুলো সিম কে বা কারা তুললো, তা আমার জানা নেই। সিমগুলো ভালো বা খারাপ—কোনো কাজেই আমি ব্যবহার করিনি। ভবিষ্যতে এসব সিম দিয়ে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলে এর দায়ভার কি আমাকে নিতে হবে? তখন আমি কার কাছে বিচার পাবো?’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সময় কেবল নির্বাচন অফিসেই আঙুলের ছাপ দিয়েছিলাম। এর বাইরে কোথাও দিইনি। তাহলে আমার এনআইডির তথ্য বা বায়োমেট্রিক কীভাবে অন্যের হাতে গেল?’ ভবিষ্যতে তার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে যাতে কেউ আর নতুন সিম নিবন্ধন করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। এ বিষয়ে থানায় যোগাযোগ করা হলে তাকে নির্বাচন অফিসে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মতলব উত্তর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান ডলার বলেন, ‘একজন নাগরিকের অজান্তে তার এনআইডির বিপরীতে ১৮টি সিম নিবন্ধনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও সিম নিবন্ধন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এর নেপথ্যে থাকা চক্রকে শনাক্ত করা উচিত। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।"

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সুলতানা এলিন বলেন, ‘আমার চাকরিজীবনে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম দেখলাম। একজন ব্যক্তির আঙুলের ছাপ ও সশরীরের উপস্থিতি ছাড়া কীভাবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এতোগুলো সিম নিবন্ধন করা সম্ভব, তা আমার বোধগম্য নয়। তবে আমাদের নির্বাচন অফিসের সার্ভার হ্যাক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।"

চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা বলেন, ‘এটার দায়ভার আমাদের নয়। এ দায়িত্ব পুরোপুরি সিম কোম্পানিগুলোর।’

অন্যদিকে, চাঁদপুর বিটিসিএলের সহকারী ব্যবস্থাপক হাসিব আহম্মেদ জানান, এ ধরনের বিষয় নিয়ে তারা কাজ করেন না। এটি সরাসরি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) আওতাধীন।

তবে এ বিষয়ে বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরগুলোর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়