প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ২২:৩১
আষ্টাবাজারে সেচখাল পাড়ের স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে বিএনপির দু পক্ষের দ্বন্দ্ব

ফরিদগঞ্জের গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের আষ্টা বাজারে সেচখাল ও তার খালপাড় দখলকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের সমর্থক দু পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। দুর্বল পক্ষকে হটিয়ে প্রভাবশালী পক্ষ ইতোমধ্যে খাল ও খালের পাড়ে ঘর নির্মাণের জন্যে স্থাপনা গেঁড়েছেন। এ ঘটনায় ফরিদগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে একটি পক্ষ। দু পক্ষই লীজের আওতায় থাকার কথা জানালেও কোনো পক্ষই লীজের আপডেট কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি। উত্তেজনাকর পরিবেশে এ দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
|আরো খবর
সেচখালটির মালিক পানি উন্নয়ন বোর্ড, আর খালের পাড়ের মালিক জেলা পরিষদ। তারা খালের পাড় লীজ দেয়।
সরজমিনে ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আষ্টা বাজারের ব্যবসায়ী শফিক আলম দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদ থেকে সেচখালের পাড় লীজ নিয়ে শাকসবজি আবাদ করছেন। তিনি চলতি বছরে আষ্টা মৌজার ৮১১.৮১২ ও ৮৫৬ দাগের ওই অংশ লীজ নেয়ার আবেদন করেন।
থানায় অভিযোগকারী শফিক আলম দাবি করেন, বিএনপির প্রয়াত এমপি আলমগীর হায়দার খানের সময় থেকেই তিনি ওই জমিতে আবাদ করে আসছেন। কিন্তু বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) সকালে রতন, রেজাউল করিমসহ কিছু লোক তার সবজি ক্ষেত বিনষ্ট করে এবং কাঠ-বাঁশ দিয়ে খালের ওপর ঘর তৈরির স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে। তিনি বিষয়টি ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অপরদিকে অপরপক্ষ মো. রতন জানান, তিনি ওই খালের পাড় জেলা পরিষদ থেকে লীজ নিয়েছেন এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত লীজ নবায়ন আছে। তিনি দাবি করেন, লীজদাতাদের পরামর্শে তিনি সেখানে দোকানঘর তৈরি করছেন।
স্থানীয় জাকির হোসেন, বাবলু, জসিম, আমির হোসেনসহ একাধিক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন শফিক আলম ওই জায়গায় চাষাবাদ করলেও হঠাৎ বুধবার সকালে কিছু লোক গাছপালা কেটে ফেলে ঘর তোলার কাজ শুরু করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে জানান, উভয় পক্ষই বিএনপি ঘরানার এবং প্রভাবশালী। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে উচ্ছেদ করতে চাচ্ছে।
আষ্টা বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি ও বিএনপি নেতা মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, তিনি উভয় পক্ষকে বসানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু শফিক আলম সাড়া দেননি। তাঁর মতে, প্রকৃত লিজগ্রহীতাই সম্পত্তি ভোগদখল করুক এটাই কাম্য।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।








