রবিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫  |   ১৮ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২২, ০০:০০

মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে বাঁচতে চান ফরিদগঞ্জ লক্ষ্মীপুরের ফারুক মোল্লা
এমরান হোসেন লিটন ॥

সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং আর্থিক সংকটে ফেলার জন্যে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ করেছেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩নং সুবিদপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মোল্লাবাড়ির দীর্ঘদিনের ইউপি সদস্য ফারুক মোল্লা। তিনি বলেন, তার বাবা ছিলেন একজন প্রাইমারি শিক্ষক এবং এলাকার জনপ্রিয় মানুষ। সেই আলোকে এলাকার মানুষ তাকে মেম্বার নির্বাচন করেন। তিনিও সফলতার সাথে দশ বছর মেম্বারের দায়িত্ব পালন করেছেন। এলাকায় তারা মর্যাদাবান একটি পরিবার, কিন্তু ব্যাঘাত ঘটায় তাদের বাড়ির নব্য টাকাওয়ালা কাদির মোল্লা। ফারুক মোল্লা বলেন, কাদির মোল্লা বয়সে এখনো ছোট, একটি দোকানের কর্মচারী হতে বহুবিবাহ করে ঢাকায় ছোটখাটো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেয়, ব্যবসার আড়ালে অবৈধভাবে টাকা উপার্জন করে এখন বিপুল টাকার মালিক। তাই প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বাড়ির আবিদুর রহমান মোল্লাকে দিয়ে একের পর এক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করাচ্ছে।

ফারুক মোল্লা আরো বলেন, বাড়ির একমাত্র শত বছরের পুরানো রাস্তা, যা সবাই ব্যবহার করতো। কিন্তু সেই রাস্তাটি কাদের মোল্লার সুবিধামতো হওয়ায় তার ওপর দেয়াল নির্মাণ করে সে দখল করে নিয়েছে। সেখানে আমি এবং বাড়ির অন্যরা বাধা দিতে গেলে কাদির মোল্লা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে। আমাদের পুরাণ বাড়ির পশ্চিম পাশের পুকুরে দক্ষিণ পাড়ের পাকা ঘাট এবং সেখানে থাকা গাছপালা সব আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি এবং সেখানে আমাদের মোট ৮ শতাংশ সম্পত্তি আছে। কিন্তু কাদির মোল্লা হঠাৎ তার চাচা আবিদুর রহমান মোল্লাকে দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে ওই সম্পত্তি তাদের দাবি করে আসছে এবং সেখান থেকে আমাদের অনেক গাছ কাদির মোল্লারা কেটে নিয়ে যায়।

ফারুক মোল্লা জানান, তাদের নতুন বাড়িতে মোট সম্পত্তি ২৪ শতাংশ এবং তারা হাবিবুর রহমান মোল্লা হতে কিনেছেন সোয়া ১২ শতাংশ, যার দলিল নং ৬৯৬২ এবং আবিদ মোল্লা হতে কিনেছেন ১ শতাংশ, যার দলিল নং ৫৭০২। দুটি দলিলের চৌহুদ্দি : উত্তরে আব্দুল মান্নান, দক্ষিণে সিদ্দিকুর রহমান, পূর্বে ইজমালি পুকুর, পশ্চিমে ইজমালি ও কাদের মোল্লা। দলিলগুলো সাফ কবালা দলিল। সেই অনুপাতে ফারুক মোল্লাদের নতুন বাড়ির পশ্চিম পাশে কাদের মোল্লার জায়গা তার জায়গাতেই আছে। অভিযোগকারী ফারুক মোল্লা বলেন, কাদের মোল্লা টাকার গরমে হিংসার বশবর্তী হয়ে তার জায়গা আমাদের বসতবাড়ির নিচে বলে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে।

অভিযোগের আলোকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কাদের মোল্লা তার বাড়ির শত বছরের এজমালি পথে পাকা দেওয়াল নির্মাণ করে রেখেছেন। পুরাণ বাড়ির পশ্চিম পাশের পুকুরের দক্ষিণ পাড়ের ফরুক মোল্লাদের বিভিন্ন গাছ কাদের মোল্লারা কেটে নিয়ে গেছে। ফারুক মোল্লাদের নতুন বাড়ির পশ্চিম পাশে কাদের মোল্লার জায়গা কাদের মোল্লার জায়গায় পড়ে আছে। এসব নিয়ে কাদের মোল্লাকে না পেয়ে তার চাচা আবিদ মোল্লার সাথে কথা হলে তিনি সঠিক কোনো জবাব দিতে না পেরে তার ভাতিজা কাদের মোল্লা এসব বিষয়ে কথা বলবেন বলে তিনি জানান।

এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, ফারুক মোল্লারা এলাকার সম্মানিত এবং সামাজিক মর্যাদাবান লোক। কাদির মোল্লা গত ক’বছর ঢাকায় থেকে কী সব করে ভালো টাকা উপার্জন করেছে। তাই টাকার দাপটে মিথ্যা মামলা করে ফারুক মোল্লাদের হয়রানি করছে।

ফারুক মোল্লা বলেন, কাদের মোল্লা তার চাচা আবিদ মোল্লাকে দিয়ে মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক মামলা করে আমাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করছে। আমরা মাননীয় আদালত ও প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়