শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৭

চাঁদপুরে রেলওয়ের কাজ মানেই মানহীন ও অসমাপ্ত কাজ

অনলাইন ডেস্ক
চাঁদপুরে রেলওয়ের কাজ মানেই মানহীন ও অসমাপ্ত কাজ

গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে ‘বড় স্টেশনে ড্রেন নির্মাণে অনিয়ম’ শিরোনামের সংবাদে সোহাঈদ খান জিয়া লিখেছেন, চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশনে ড্রেন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, বড় স্টেশন এলাকায় রেল লাইনের মাঝখান দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্যে ২টি ড্রেন নির্মাণ কাজ চলে আসছে। কিন্তু কাজের ঠিকাদার নিম্নমানের ইট দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করছেন। এই অনিয়ম খোদ বড় স্টেশন রেলওয়ের রেস্ট হাউস ও স্টেশন মাস্টারের অফিস রুমের সামনে দিয়ে করা হলেও তাঁরা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১ নাম্বার ইটের জায়গায় নিম্নমানের ইট দিয়ে ড্রেনের নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। এসব ইটের মধ্যে কিছু ইট রয়েছে, যা ভেঙে গুঁড়ো হয়ে গেছে। এখানে ২টি ড্রেনের কাজ করা হবে। ১টি ড্রেন ৪শ’ ফুট ও ১টি ড্রেন ৩শ’ ফুট। ২টি মিলে ৭শ’ ফুট ড্রেনের কাজ করা হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক’জন ব্যক্তি বলেন, নিম্নমানের ইট দিয়ে ড্রেনের নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। রেলওয়ের দায়িত্বশীল লোক এসব দেখেও না দেখার ভান করে আছেন। এ বিষয়ে সাইট দেখার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি বলেন, এগুলো ভালো মানের ইট। ঠিকাদার যেভাবে বলেছেন সেভাবে কাজ করা হচ্ছে। চাঁদপুর বড় স্টেশনে কর্মরত রেলওয়ের পূর্ত বিভাগের স্টাফ সোলেমান বলেন, ঠিকাদার কাজ করান। আমরা কাজের খোঁজ খবর নেই। এ ব্যাপারে কাজের ঠিকাদার মো. বেলাল বলেন, ১ নাম্বার ইট দিয়ে ড্রেনের নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। নিম্নমানের কোনো ইট দেয়া হয়নি।

ঠিকাদার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্যে ১ নাম্বার ইট দাবি করতে পারেন, বাস্তবে ও ছবিতে কোনোভাবেই ইটগুলোকে ১ নাম্বার মনে হচ্ছে না। অথচ তদারককারী কর্তৃপক্ষ ও নিয়োজিত লোকজন ইটগুলোর মান নিয়ে কিছু বলছে না। বস্তুত চাঁদপুরে রেলওয়ের কাজ মানে মানহীন ও অসমাপ্ত কাজ। বড় স্টেশন মোলহেডে পর্যটন মন্ত্রণালয় ও পর্যটন কর্পোরেশনকে ঠেকিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ নিজে পর্যটনবান্ধব কাজ করতে গিয়ে যা করেছে, চাঁদপুর কোর্ট স্টেশনের পূর্বাংশের প্লাটফর্মে কী করেছে, সেটা নিজ চোখে যিনি দেখবেন, তিনিই নেতিবাচক মন্তব্য করতে বাধ্য হবেন। উন্নয়নের নামে রেল কর্তৃপক্ষ কিছু ক্ষেত্রে যে প্রহসন করেছে, চরম মানহীন কাজ করেছে ও করছে, কাজ অসমাপ্ত করে রেখেছে, চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে তার বহু প্রমাণ রয়েছে। এ রেলপথের মাত্র দুটি ট্রেন অতি পুরাতন ইঞ্জিন দিয়ে চালিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ যে অবজ্ঞা প্রদর্শন করছে, সে ব্যাপারে ভুক্তভোগী যাত্রীদের ক্ষোভের শেষ নেই। চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের প্রতি রেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অবজ্ঞার শেষ কোথায় সেটা বোধহয় সরকারপ্রধান ছাড়া আর অন্য কেউ বলতে পারবে নাÑএমনটিই এখন অগত্যা আমাদের ধারণা করতে হচ্ছে!

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়