শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫

চাঁদপুরের লেখকদের সিলেট-শ্রীমঙ্গল আনন্দভ্রমণ

মোখলেছুর রহমান ভূঁইয়া
চাঁদপুরের লেখকদের সিলেট-শ্রীমঙ্গল আনন্দভ্রমণ

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

মাজারের আরেকটি বিশেষত্ব হলো কবুতরের আশ্রয়ণ। ঝাঁকে ঝাঁকে কবুতরের আনাগোনা, ডানা মেলে আকাশে ছুটে বেড়ানো, দলবেঁধে বসে থাকা, খাবারের সন্ধানে হাঁটা-চলার দৃশ্য দৃষ্টিনন্দন। মাজারে থাকা কবুতরগুলো ‘জালালি কবুতর’ নামে পরিচিত। এই কবুতরগুলোর রং ও বৈশিষ্ট্য আলাদা। জালালি কবুতর না খাওয়ার রেওয়াজ বেশি। তবে সার্বক্ষণিক মাজার প্রাঙ্গণে দেখা গেলেও এদের মলমূত্র দেখা যায় না। আধ্যাত্মিক মনীষীরা বলে থাকেন, এটা দৃশ্যমান ধর্মীয় মু’জেজা। ধর্মীয় স্থানে যতক্ষণ থাকা হয় ততক্ষণ শান্তির পরশ লেগে থাকে। দীর্ঘ জার্নির ক্লান্তি দূর হয়ে কিছুটা সতেজতা অনুভব করি। কয়েকটি স্মৃতি ছবি তুলে মনে মনে দু’কূলের ভাবনায় দরগাহ এলাকা থেকে বেরিয়ে পড়লাম।

প্রশান্তির নিঃশ্বাসের সাথে সাথে ভাবনায় দুঃখ-ক্ষোভ, মানসিক যন্ত্রণায় মন ছটফট করছে কিছু ধর্মান্ধের আস্ফালনের কার্যকলাপে। একদল ধর্মীয় লেবাসধারী হযরত শাহজালাল (রাঃ) মাজার ভাঙার হুমকি দিয়ে উঠে পড়ে লেগেছে। সিলেট তথা দেশের ধর্মীয় শান্তিপ্রিয় মানুষের তীব্র প্রতিবাদে লেবাসধারী ধর্মান্ধ গ্রুপ পিছু হটে। অনেক স্থানে মাজার ভাঙলেও অক্ষত আছে হযরত শাহজালাল (রাঃ) পূর্ণভূমি খ্যাত তীর্থস্থান। আশাবাদী ধর্মীয় ভুল মতবাদের অবসান ঘটবে। ধর্মান্ধ দূর হবে। ইসলামের শান্তিপ্রিয় সম্প্রীতির সহাবস্থান বিরাজমান থাকবে। বিদায় হজের ভাষণে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) স্পষ্ট বলেছেন তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না।

ধর্মীয় ভাবধারায় ভ্রমণ মিশেল মনের গতির সাথে সময়ের গতিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই পৌঁছে যাই। নির্ধারিত বুকিং হোটেল গোল্ডেন সিটিতে চেক-ইনের মাধ্যমে পুরুষ ও মহিলা দু’টি কক্ষে সাময়িক অবস্থান করি। কারণ, আমাদের রুমে এখনো গেস্ট অবস্থান করছেন। এক রুমে সবাই। মুক্ত আবাসনে তরঙ্গবিহঙ্গ। শুরু হয়ে যায় দুষ্টুমি। সিনিয়র-জুনিয়র একাকার। কাজী আশরাফুল ও আরিফুল ইসলাম শান্তের গলায় সুরের শরৎমেলা। সুরের তালে তালে সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক কাদের পলাশের নৃত্যভঙ্গিতে উদ্বোধনী মহড়ায় স্পষ্ট হয়ে যায় আনন্দ ভ্রমণ হবে মহানন্দে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সুর-নৃত্য, ঘুমের সাথে পাঞ্জালরা মুরব্বির সাথে সদাচরণে সবাই ফুরফুরে। এবার নির্দিষ্ট রুমে ড্রেস চেঞ্জ, ফ্রেশ হয়ে শরীর হেলিয়ে দিই বিছানায়। খানিক বিশ্রাম। শুরু হয়ে যায় ভ্রমণের আকর্ষণীয় অধ্যায়।

ভ্রমণের প্রথম স্পট চাঁদের গাড়িতে করে পৌঁছে যাই বৃষ্টি-ভেজা দুপুরে। হালকা বৃষ্টির রকমারি দৃশ্যে কাঁদা-ভেজা অবস্থায় নৌকায় আমরা। ওখানে পৌঁছে বৃষ্টি-ঘেরা আনমনা মন মাঝির ভাওয়াইয়া গানের সুরে আনন্দভর করে। জলের অরণ্যে প্রবেশে নিমগ্ন হয়ে দেখতে থাকি জলের বুকে গাছের সমারোহ। কী অপারূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য। মেঘলা আকাশ। ছায়াঘেরা প্রকৃতি। মাঝেমাঝে সূর্য মামার মুচকি হাসির ঝলকে প্রকৃতির রূপ বদলায়। নৌকায় আমাদের সমবেত গানের সুরের আনন্দ অন্য পর্যটকদের উজ্জীবিত করে। বিশেষ জলঘেরা স্পট মনোমুগ্ধকর। মাঝিদের নৌকা ঘূর্ণায়ন ছবির দৃশ্যায়নে মন ভরে যায় প্রকৃতির সৌন্দর্যে। ভাষায় প্রকাশের চেয়ে অনুভূতির গভীরতায় বেশি উপলব্ধি করা যায়।

মাঝি ছিলেন মধ্যবয়সী। ভ্রমণ স্পটের গ্রীষ্ম-বর্ষার আকর্ষণীয় তথ্য দিতে থাকেন। স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যানবাহনে কর্মরত সংশ্লিষ্টদের তথ্যসমৃদ্ধ প্রশিক্ষণ দিলে পর্যটন শিল্প আরও বিকশিত হবে। তথ্যই সমৃদ্ধ। গোয়াইন নদীর তীরে অবস্থিত চেঙ্গির খাল চ্যানেলের সাথে সংযুক্ত এই জলাভূমিতে জন্মানো কোরাচ গাছগুলো ছন্দে ছন্দে নৃত্য-আনন্দ ভঙ্গিতে জলারণ্যে। নীরব নিস্তব্ধতা, জনমানব বিচরণ না থাকায় ‘পশু-পাখির অভয়ারণ্য অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষিত। বর্ষায় ২০-৩০ ফুট থৈথৈ জলের এই অরণ্যের রূপ রহস্যময় প্রকৃতিই একক উপভোগ করে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় বর্ষায় বিধিনিষেধের আওতায় রাখে পর্যটন কর্পোরেশন। আমরা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ভ্রমণ করায় কাদাজলে হাঁটার আনন্দ উপভোগ করি। কী অপারূপ দৃশ্যায়ন। জলাভূমিতে বৃক্ষায়নÑবাংলাদেশের দ্বিতীয় তথা ‘সিলেটের সুন্দরবন’ খ্যাত দেশের একমাত্র “অভয়ারণ্য জলাভূমি।” যার নেশায় বিভোর ছিলাম আমরা। ভ্রমণের তৃষ্ণা-আনন্দ পেয়ালায় চুমুকে মন-প্রাণ ঝরঝরে সতেজতা। সৌন্দর্যের কাতরার মায়াজালে বৃক্ষ-জলে হাবুডুবু খাচ্ছি।

দিনের বেলায় জলবৃক্ষের প্রেমপ্রকৃতির রসায়ন দেখা ও অনুভবে আনন্দে উদ্দীপ্ত হলেও রাতের রূপ রহস্যময় অন্তরালে আকর্ষণীয় জলঅরণ্য “রাতারগুল।”

আমার মন বসে না শহরে, ইট-পাথরের নগরে, তাইতো আসলাম সিলেটে। সিলেট আইসা যদি ‘সাদা পাথর’ দেখা না হয়, নগরীর ইট-পাথরের মনে বড় জ্বালা হয়।

রাতারগুল হতে দ্বিপ্রহরের ভগ্নাংশে চাঁদের গাড়িতে করে ছুটছি আমরা। বৃষ্টিও রসিকতা করে জল ছিটিয়ে দেওয়ার সুযোগ খুঁজছে। বৃষ্টির কলকলানি, আমাদের সমবেত সুরধ্বনি, হাসি-রসে পথ এগুচ্ছি। পরন্ত বিকেলেও দুপুরের আহার না হওয়ায় মাঝে মাঝে চুপসে যাচ্ছে আনন্দধ্বনি। সূর্য হেলে পড়েছে। রিমঝিম বৃষ্টি। শেষ ফোটার তাড়া না থাকলেও সময়ের তাড়নায় কাদামাটি মাড়িয়ে সরাসরি রেস্টুরেন্টে আহারে। বৃষ্টি-বিড়ম্বনায় প্রায় দুই ঘণ্টা পিছিয়ে থাকায় গোধূলি সন্ধ্যা একেবারেই জেঁকে বসেছে।

এ পর্যায়ে নদী পাড় হয়ে ওপারে গেলে মাঝি সময়ের সুযোগে অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নেয়। সন্ধ্যা-বৃষ্টি-সময়, এই ত্রিম্যাচে ভ্রমণ ফিকে হওয়ার উপক্রম। কী যে করি বা করা বা করবো! এত প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও সময়ের বৈরীতায় হার না মেনে জোর কদমে সাদা পাথরের প্রান্তে আমি আর ইমরান শাকির ইমরু। ঘুটঘুটে অন্ধকারে সাদা পাথরের প্রান্ত ত্যাগ করছে সবাই। মাইকে ঘোষণা হচ্ছে এখন বিপদজনক সময়। রাত হচ্ছে, বৃষ্টি সবাই দ্রুত স্থান ত্যাগ করুন। সন্ধ্যায় অন্ধকার আচ্ছন্ন থাকায় সাদা পাথরের সাদা রূপ-সৌন্দর্যের রহস্যময়তা উপভোগ করতে পারছি না। প্রকৃতির সাজে পাথর বিছানোর দৃশ্যই আলাদা। মাঝে মাঝে মানুষের হাতে সংগ্রহকৃত পাথর বিছিয়ে রেখেছে, যা সহজে অনুমেয়।

সময়মতো না পৌঁছাতে পারায় আগন্তুক অনেকে বলতে শুনেছি সাদা পাথর এলাকা কালোর রূপ ধারণ করেছে। পাশ্ববর্তী মেঘালয় সবুজ পাহাড়ের আগত ঝর্ণাধারায় ধলাই নদীতে বিছানো সন্ধ্যাকালীন আঁধারে ঘেরা পাথরের টুরিস্ট স্পটের স্মৃতি চিহ্ন মোবাইল আলোয় ছবি তুলে কিছুটা আনন্দ অনুভূত হই [ভ্রমণের অ্যাডভেঞ্চার মুহূর্ত]। সাদা পাথরের সৌন্দর্য দিনের রৌদ্রজ্জ্বল সময়ে দেখার বাসনায় রইলাম। মানুষের ন্যায় প্রকৃতিরও তাড়া আছেসেটা অনুভব করলাম।

সন্ধ্যায় ওপারের লোকালয়ের আলো তারার ন্যায় জ্বলজ্বল করছে। বৈরী পরিস্থিতিতে সন্ধ্যা পাথরের জলস্রোত, নদীজলের ভঙ্গিমা, পাথরের মেশানো রাতের বালুচরের সৌন্দর্য অবলোকন করা যায় নাই। নিরাপত্তায় নিয়োজিতদের তাড়ায় চলে আসি। সমসাময়িক সময়ে ‘টক অব দ্য ন্যাশন’ আলোচ্য “সাদা পাথর” যা একেবারেই কাম্য নয়। প্রকৃতির নেয়ামতে খেয়ানত হলে তার প্রতিশোধ নিতে প্রকৃতিই উঠে পড়ে লাগে।

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে শালিক-ভেজা শরীর নিয়ে সাদা পাথরের কালো ভূমিকায় অতৃপ্ত মননে ভোলাগঞ্জ ছেড়ে নিরাপদে পূর্ণভূমির প্রাণকেন্দ্রে। চাঁদপুর সাহিত্য সমাজের আয়োজনে ভ্রমণটি সংগত ভাবেই সাহিত্য-রসদ জৌলুস থাকবে। রাত নয়টায় স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান “বাতিঘর” বইয়ের ভুবনে সিলেটের লেখকদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সাহিত্য বিষয়ক কর্ম নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। চাঁদপুর-সিলেটের কবি-লেখক-গবেষকদের এই মিলনমেলা মুহূর্তেই আনন্দ হৃদ্যতায় একাকার।

বিশেষ আকর্ষণ ছিলÑচাঁদপুর সাহিত্য মঞ্চ প্রবর্তিত ‘মোহাম্মদ নাসিরুদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার-২০২৩’ ঘোষিত ফোকলোর গবেষক সুমন কুমার দাসকে পুরস্কার তুলে দেওয়া। এবং চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির ঊনচল্লিশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী স্মারকগ্রন্থ “উছল” নিজ হাতে দেওয়ার আনন্দঘন মুহূর্ত। চাঁদপুর ও সিলেটের লেখকদের মধ্যে বই বিনিময়ের মাধ্যমে ভ্রমণের সাহিত্য-সার্থকতা রূপায়িত হয়। প্রকাশ থাকে যে ফোকলোর সুমন কুমার দাস বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৩ এ ভূষিত হয়েছেন।

বাতিঘর প্রকাশনার দৃষ্টিনন্দন বইয়ের সাম্রাজ্য থেকে বের হতে মন নাহি চায়। গবেষক সুমন কুমার দাস তাঁর একটি গবেষণাকর্মের জন্য সময়-সুযোগে চাঁদপুরে আসবেনÑআশ্বস্ত করায় মতবিনিময় পরিসমাপ্তিতে আনন্দ আবহে আমরা। ঘড়ির কাঁটায় রাতের ডিনারে সিলেটের টপ-টেন হোটেলের একটি ‘পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্টে’ এক প্রকার প্রতিযোগিতা। খাবার সুস্বাদু হলেও কোলাহল পরিবেশে তৃপ্তির ঢেঁকুর আসে না।

যাঁর যাঁর ইচ্ছেমতো রাতের সৌন্দর্যে হযরত শাহজালাল (রাঃ) দরগাহ, সিলেটের প্রাণকেন্দ্রে ঘুরাঘুরি করে হোটেলে খোশগল্পে-গল্পে বিছানায় ঘুমের রাজ্যে। প্রশান্তির ঘুম ভাঙে। ফুরফুরে সতেজতা। প্রাতঃরাশের পর সূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি। মিলন হবে কতদিনেÑমনের মানুষের সনে। হ্যাঁ, গানের কলির ন্যায় প্রকৃতির রূপ-কন্যার সাজ আজ দু’নয়ন ভরে দেখবো ভাবতেই অন্য রকম শিহরিত। ভ্রমণ সঙ্গীদের সুরে-ছন্দে-আনন্দে হাঁকছে চাঁদের গাড়ি। বিস্তীর্ণ ভূমি, পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক দেয়াল। দূর থেকে ঝরনার মোহনীয় স্রোতের জলরূপে মনোমুগ্ধ হয়ে ছুটে যেতে মন চায়। ঝরনার জলধারা, মেঘ-কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়-আকাশের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য দেখে সৃষ্টিশীলতায় ধ্যানমগ্ন হয়ে হারিয়ে যাই। আজকের শুষ্ক আবহাওয়ায় দূর থেকে দেখা পাহাড়ঘেরা আকাশছোঁয়া অপারূপ সৌন্দর্য অবলোকনে দুই ঘণ্টার জার্নিতে প্রকৃতির কন্যার রূপের বাহার

প্রধান পর্যটন স্পটে। শুক্রবার ও আবহাওয়া অনুকূল থাকায় উপচে পড়া ভিড় লক্ষণীয়। সমতল ভূপৃষ্ঠ হতে পিয়াইন নদীর বুকে পৌঁছাতে পৌঁছাতে মনে হচ্ছে দর্শনার্থীরা মহানন্দে আছে। পাথরবেষ্টিত বিছানায় পর্যটকদের মুখরতা, সীমান্তবর্তী ঝুলন্ত ব্রিজ, বাংলাদেশ ও ভারত দু-দেশের সীমানায় জাতীয় পতাকা উড্ডয়ন দৃশ্য দেশপ্রেম জাগ্রত হয়। নিজ ভূখণ্ডের স্বাধীনতার এক অন্য রকম স্বাদ অনুভূত হয়। নদীর মৃদু জলস্রোত প্রকৃতির রূপকন্যার পাথুরে টিপচিত্রায়িত হয় এক আকর্ষণীয় দৃশ্যায়নে। ভোলাগঞ্জে না দেখিলেও জাফলঙে দিনের রৌদ্রোজ্জ্বল পাথরে-পাথরের গলাগলি দেখে মনটা শান্ত হয়ে যায়।

[আগামী সংখ্যায় সমাপ্য)

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়