প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৭
কচুয়ায় সোনালী আঁশে বাম্পার ফলন
ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

কচুয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে সোনালী আঁশ পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন চলছে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর ব্যস্ততা। মাঠজুড়ে কৃষকদের কর্মচাঞ্চল্যে ফিরেছে প্রাণ। তবে ভালো ফলনের আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার আশঙ্কা।
|আরো খবর
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো পরিচর্যার কারণে এবার পাটের ফলন হয়েছে আশানুরূপ। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বাজারদরে লাভের মুখ দেখছেন না অধিকাংশ কৃষক।
পাটচাষি বাবুল মিয়া জানান, ৩০ শতাংশ জমিতে পাট চাষ করতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া পাট কাটার শ্রমিকদের দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। এতো ব্যয়ের পরও বর্তমান বাজার দরে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বাজার সম্পর্কে অনেক কৃষকের পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে কম দামে পাট বিক্রি করেন। এই সুযোগে ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে পাট কিনে মজুত করে পরে বেশি দামে বিক্রি করছেন।
বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে মৌসুমের শুরুতেই পাটের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করা হলে তারা ন্যায্যমূল্য পেতেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসত।
স্থানীয় কচুয়া উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হাবিব উন নবী সুমন বলেন, “এবার কচুয়ায় সোনালী আঁশ পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। কৃষকদের স্বার্থে দ্রুত পাটের মূল্য বৃদ্ধি ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।”
কচুয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় দেশি, তোষা, কেনাফ ও মেস্তা জাতের পাটের আবাদ হয়েছে ২৫৪ হেক্টর জমিতে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তপু আহমেদ বলেন, “চলতি মৌসুমে নির্ধারিত ২৫৪ হেক্টর জমিতেই পাটের আবাদ হয়েছে এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বাম্পার ফলন পাওয়া গেছে। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আমরা আশাবাদী।”
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, কার্যকর বাজার তদারকি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা গেলে কৃষক আরও বেশি পাট চাষে আগ্রহী হবেন। এতে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, তেমনি দেশের ঐতিহ্যবাহী সোনালী আঁশ খাতও আরও সমৃদ্ধ হবে।
ছবি: কচুয়া উপজেলার বাছাইয়া ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় শোনালী আঁশ পাটের আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষক কৃষাণি। সূত্র : মর্নিং পোস্ট।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








