বুধবার, ০৬ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ০৯:০৯

চারুকলার সফল শিক্ষক অজিত দত্ত

মুক্তিযোদ্ধা-পিতার নামে স্মৃতি সংসদ গড়ে বহুল পরিচিত ও আলোচিত

সংস্কৃতি অঙ্গন প্রতিবেদক
চারুকলার সফল শিক্ষক অজিত দত্ত

চাঁদপুরের শিশু-শিক্ষার্থীসহ চারুকলায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছে অনেক বেশি পরিচিত হচ্ছেন অজিত দত্ত। চারুকলায় প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও স্বীয় আগ্রহ, অক্লান্ত প্রয়াস ও আত্মনিবেদনে তিনি নিজেকে চারুকলার সফল শিক্ষক হিসেবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি ২০০৯ সালে তাঁর প্রয়াত পিতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন বাঁশি দত্তের নামে স্মৃতি সংসদ করে প্রায় প্রতিবছর ‘চিরঞ্জীব ৭১’ নামে তাঁর শিক্ষার্থীদের চিত্রকর্ম উৎসবের আমেজে উপস্থাপন করে শুধু চাঁদপুরে নয়, সন্নিহিত অঞ্চলে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রায় তাঁর সংগঠন অংশগ্রহণ করে বারবার শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার অর্জন করে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছে। চাঁদপুর কণ্ঠের কার্টুনিস্ট হিসেবে তিনি হয়েছেন সমাদৃত ও প্রশংসিত। তিনি চাঁদপুর কণ্ঠের পাক্ষিক আয়োজন ‘সংস্কৃতি অঙ্গনে’র মুখোমুখি হয়ে বলেছেন কিছু কথা, যা পাঠকদের জন্যে নিচে পত্রস্থ করা হলো।

সংস্কৃতি অঙ্গন : আপনি চারুকলা শিখেছেন কার কাছে? কে আপনার ওস্তাদ? এক্ষেত্রে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

অজিত দত্ত : দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবারকে ধন্যবাদ। শিশুকালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে চিত্রাঙ্কন ছিলো। পড়ালেখার সাথে চিত্রাঙ্কন ক্লাস হতো, ছোটবেলা থেকে ছবি আঁকার প্রতি খুব মনযোগ ছিলো। আমার ছবি আঁকা দেখে শিক্ষক ও শিক্ষিকাগণ বলতেন, পড়ালেখার সাথে ছবি আঁকার চর্চা করে যাবে। ভবিষ্যতে ভালো করবে। ক্লাসের বন্ধুরাও এমনটি বলতো। অন্যদিকে মনোযোগ না দিয়ে কেবল ছবি আঁকা ও কবিতা আবৃত্তি চর্চা করি। আমি মনে করি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষিকা এবং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী আমার ওস্তাদ। তাঁরা যেখানেই থাকেন সে শিক্ষকদের সম্মানের সাথে স্মরণ করি। শিক্ষকদের উপদেশ ও আশীর্বাদ নিয়ে এখনও ছবি আঁকা চর্চা করছি। পরবর্তীতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান থেকে দেশবরেণ্য চিত্র শিল্পীদের সান্নিধ্যে ছবি আঁকার প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করি। ছবি আঁকার অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে বলতে গিয়ে আমার নিজের সম্বন্ধে নিজেই ভালো বললে তো হবে না। আমার ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকেরা ও সম্মানিত ব্যক্তিরা বলবেন আমি কেমন ছবি আঁকি।

সংস্কৃতি অঙ্গন : চারুকলার শিক্ষক/প্রশিক্ষক হিসেবে আপনি পেশাগত জীবন শুরু করেছেন কতোদিন হলো? কতোটি প্রতিষ্ঠানে আপনি ইতোমধ্যে শিক্ষকতা করেছেন? প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম কী কী?

অজিত দত্ত : প্রথম চিত্রাঙ্কন প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করি হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষকমণ্ডলী চিত্রাঙ্কন প্রশিক্ষণের জন্যে ছাত্র-ছাত্রী সংগ্রহ করে দেন। স্বল্প পরিমাণ সম্মানী নিয়ে চিত্রাঙ্কন ক্লাসে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করি। সালটা মনে নেই। কয়েক মাস পর চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সংগীত নিকেতনে ১৯৯৩ সালে আমাকে দিয়ে প্রথম চিত্রাঙ্কন বিভাগ খুলে ক্লাস শুরু করা হয়। পাশাপাশি বাবুরহাটে এক কিন্ডারগার্টেনে চিত্রাঙ্কন শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। কিছুদিন কাজ করার পর রেলওয়ে কিন্ডারগার্টেন, চাঁদপুর-এ চিত্রাঙ্কন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাই। নানা ব্যস্ততায় কিছুদিন কর্মরত থেকে চলে আসি। কিছুদিন পর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে চিত্রাঙ্কন প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাই। বর্তমানে বাবার নামে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন বাঁশি স্মৃতি সংসদ চাঁদপুর ও জেলা শিশু একাডেমী চাঁদপুরে চিত্রাঙ্কন প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছি।

সংস্কৃতি অঙ্গন : আপনি একজন কার্টুনিস্ট, চাঁদপুরর কণ্ঠে আপনার অসংখ্য কার্টুন ছাপা হয়েছে। এ কার্টুনকেন্দ্রিক আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

অজিত দত্ত : একজন কার্টুনিস্ট হিসেবে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ আমার অসংখ্য কার্টুন ছাপিয়েছে। আমাকে কার্টুনিস্ট হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। এজন্যে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের মানুষ ও চাঁদপুরবাসী বলতে পারবে কার্টুনের মাধ্যমে কতোটুকু আনন্দ দিতে পেরেছি। কার্টুন চিত্র বড়ো সংবাদ মাধ্যম, ছবি আঁকার মাধ্যমে কার্টুন ছবি (ব্যঙ্গ চিত্র) করা সহজ নয়। কার্টুন ছবি অংকন করতে হলে প্রশিক্ষণ নেওয়া খুব প্রয়োজন।

সংস্কৃতি অঙ্গন : আপনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তাঁর নামে সংগঠন করার বিষয়টি আপনার মাথায় আসলো কিভাবে? এক্ষেত্রে আপনি তো অবশ্যই সার্থক। সার্থকতা ও সাফল্যের কথা খুলে বলবেন কী?

অজিত দত্ত : আমাদের পিতার নাম মোহন বাঁশি দত্ত, পুলিশ হাবিলদার (অবসরপ্রাপ্ত)। ২নং সেক্টরে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। আমরা বাবাকে নিয়ে গর্ব করি। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয়, পিতার মতো আদর্শবান হতে পারিনি। আমার মাঝে প্রশ্ন জাগেÑআমার বাবা যে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, সেটা কি আগামী প্রজন্ম জানবে? তখন চিন্তা করলাম আগামীর প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সঞ্চারিত করতে হবে। তাদেরকে দেশপ্রেমিক বানাতে হবে। একদিন আমার বন্ধু মহল ও ছাত্র নিয়ে সংস্কৃতিক অঙ্গনের আলোচনা হচ্ছিলো। কথা প্রসঙ্গে বলি, বাবার নামে একটি সংগঠন করা যায় কি না? আমার কথায় সবাই সম্মতি দেয়। তখন ডিসেম্বর মাস। সবাই একমত হয়ে বলে, ডিসেম্বরে বিজয় মেলা-২০০৯-এ সংগঠনটি উদ্বোধন করা হোক। সেই কথায় ২০০৯ সালের ১৮ ডিসেম্বরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন বাঁশি স্মৃতি সংসদ নামে সংগঠনটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন ভাষা সৈনিক অ্যাডভোকেট আবুল ফজল সাহেব। সারাদিনব্যাপী শিশু-কিশোরদের নিয়ে অনুষ্ঠান করা হয়। আমি কীভাবে বলবো সার্থকতা ও সাফল্যের কথা। বাংলাদেশের জনগণ ও চাঁদপুরবাসী বলবে।

সংস্কৃতি অঙ্গন : পহেলা বৈশাখের র‌্যালিতে আপনার সংগঠনের শ্রেষ্ঠত্ব কতোদিন ধরে বহাল? এর নেপথ্য কারিগর কারা? কতোদিনের প্রস্তুতিতে আপনাদের এ সাফল্য কবায়ত হয়?

অজিত দত্ত : বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন বাঁশি স্মৃতি সংসদ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পহেলা বৈশাখের বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে ২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১২ বার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। পহেলা বৈশাখের বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে সৃজনশীল বিকাশের লক্ষ্যে চাঁদপুরবাসীকে আনন্দ দিতে সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলী, কার্যকরী কমিটি ও অভিজ্ঞ চিত্রাংকন ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয় করে ২/৩ সপ্তাহ পূর্বে পরিকল্পনা করে বর্ণাঢ্য র‌্যালির প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

সংস্কৃতি অঙ্গন : আপনার সংগঠনের অভিভাবকরা আপনাকে অনেক সহযোগিতা করে। কারণ কী?

অজিত দত্ত : অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রশিক্ষণ নিতে আসেন। সংগঠনের কার্যক্রম অবগত হন। তখন সংগঠনের প্রতি অভিভাবকদের শ্রদ্ধা বেড়ে যায়। অভিভাবকবৃন্দ সংগঠনটির কার্যক্রম প্রসারিত করার জন্যে সহযোগিতা করেন। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে সব সময় অভিভাবকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। অভিভাবকরা চায় ভালো সংগঠনের মাধ্যমে একজন ভালো মনের শিশু গড়ে উঠুক।

সংস্কৃতি অঙ্গন : সম্প্রতি আপনি নূতন একটি সংগঠন করেছেন। সেটির নাম কী? এর পেছনে কাদের প্রণোদনা কাজ করছে?

অজিত দত্ত : আমি পূর্বেও বলেছি, বাবার নামে সংগঠন করেছি। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন বাঁশি স্মৃতি সংসদ, চাঁদপুর। এ সংগঠন থেকে চিত্রাঙ্কনের কলেজ পড়ুয়া অভিজ্ঞ ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোগে ২০২২ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করে। এ সকল ছাত্র-ছাত্রী আর্টক্যাম্প ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘চারুকলা একাডেমি’ চাঁদপুর। যেটি পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে। ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকেরা সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এ প্রতিষ্ঠানের সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।

সংস্কৃতি অঙ্গন : শিশু একাডেমিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা কতো দিনের? এক্ষেত্রে আত্মতৃপ্তি কেমন?

অজিত দত্ত : জেলা শিশু একাডেমি, চাঁদপুর-এ চিত্রাঙ্কন প্রশিক্ষক হিসেবে ১৯৯৩ সাল থেকে অদ্যাবধি শিশুদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। বছরে নতুন শিশু চিত্রাঙ্কনে ভর্তি হচ্ছে, তাদের সাথে কাজ করে অভিজ্ঞতা হচ্ছে। কোনো ভালো কাজের সমাপ্তি আমার কাছে মনে হয় নেই। ভালো কাজ করার আত্মতৃপ্তি থেকে যায়।

সংস্কৃতি অঙ্গন : আপনার ছাত্র-ছাত্রীদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য সর্ম্পকে কিছু বলুন, তারা কি আপনার সাথে যোগাযোগ রাখে, সহযোগিতা করে?

অজিত দত্ত : বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন বাঁশি স্থাতি সংসদের ‘চারুকলা বিভাগ’-এর ছাত্র-ছাত্রীদের সাফল্য সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয়, ২০০৯ সাল থেকে অদ্যাবধি বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা ও ডিজাইন নিয়ে আমার শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করছে। বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীরা নিজে প্রতিষ্ঠান খুলে কাজ করছে। বিভিন্ন উৎসবে ছুটিতে চাঁদপুর আসলে চারুকলা প্রতিষ্ঠানে চলে আসে ও যোগাযোগ রাখে। একজন প্রশিক্ষকের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে এটাই তো চাওয়া-পাওয়া।

সংস্কৃতি অঙ্গন : আপনার সন্তানও আপনার মতোই হয়ে উঠেছে। সে কি চারুকলাতেই সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিতে চায়, না অন্য বিষয়ে?

অজিত দত্ত : আপনাদের দোয়া/আশীর্বাদে আমার সন্তান আমার সাথে চারুকলা চর্চা করে যাচ্ছে। কতোটুকু সৃজনশীলতার সাথে ছবি আঁকছে, সে সম্পর্কে জানছে বা শিখতে পারছে জানি না। তবে শিশুদের চিত্রাঙ্কন শেখাচ্ছে। শিশুদের অভিভাবকরা বলতে পারবেÑকে কেমন প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। আমার সন্তানের সিদ্ধান্তের বিষয়টা তার ওপরই না হয় ছেড়ে দিলাম। পিতা ও মাতা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভালো চিন্তা-ভাবনাই করে।

সংস্কৃতি অঙ্গন : আপনার জীবনসঙ্গী আপনার সামগ্রিক কাজ কেমন চোখে দেখেন? তিনি কি সত্যিকারের সহযোগী?

অজিত দত্ত : অবশ্যই ভালো ভাবে দেখেন। এ কাজগুলোতে সহযোগিতা করে বলেই সংগঠন বা ভালো নিয়ে চাঁদপুরবাসীর কাছে উপস্থিত হচ্ছি।

সংস্কৃতি অঙ্গন : সাংগঠনিক কাজে যারা আপনার প্রধান সহায়ক, তাদের সর্ম্পকে কিছু বলবেন কি?

অজিত দত্ত : সাংগঠনিক কাজ নিয়ে উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও কার্যকরী কমিটির ব্যক্তিবর্গ আছে। উনাদের সাথে পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে ২০০৯ সাল থেকে চলতি ২০২৬ সাল পর্যন্ত সংগঠনটি চালিয়ে যাচ্ছি। এজন্যে সম্মানিত প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টামণ্ডলী ও অভিভাবকদেরকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

সাংস্কৃতি অঙ্গন : আপনার বিশেষ বা শেষ কোনো ইচ্ছা আছে কি?

অজিত দত্ত : মানুষের চাহিদার কি শেষ আছে? আমার কথাই বলিÑএ সংগঠনটি আরো পূর্ণাঙ্গভাবে গড়তে চাই। বর্তমানে সংগঠনটির স্থায়িত্বে শিশুদের সৃজনশীলতার ধারাবাহিক কার্যক্রম চলমান রাখার জন্যে বিশেষ একটি জায়গার প্রয়োজন।

সংস্কৃতি অঙ্গন : আপনার পিতামাতা, ভাইবোন সম্পর্কে কিছু বলুন। আপনার পৈতৃক বাড়ি সন্দ্বীপে, চাঁদপুরে থাকছেন কেন?

অজিত দত্ত : পিতা স্বর্গীয় মোহন বাঁশি দত্ত, মাতা স্বর্গীয় কিরণ বালা দত্ত, আমরা চার ভাই, তিন বোন। বতর্মানে চার ভাই সুখে-দুঃখে চাঁদপুরে বসবাস করছি। তিন বোনই বিবাহিত। কাজের অবসরে সব সময় তাদের খোঁজ খবর নেওয়া হয়। বাবার নামে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন বাঁশি স্মৃতি সংসদ সংগঠনটির অনুষ্ঠান হলে ভাইদের সাথে আলোচনা ও পরামর্শ করি। আমাদের পৈতৃক বাড়ি সন্দ্বীপ। বাবা তৎকালীন পুলিশের চাকুরিতে কর্মরত ছিলেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ যেখানে বদলি করতেন, সেখানে যেতে হতো। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন চাকুরি করেন। তবে বেশিদিন চাঁদপুরে চাকুরিতে কর্মরত ছিলেন। আমাদের ভাই-বোনরা চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। সেজন্যে জন্মসূত্রে চাদপুরে বসবাস করতে থাকি। আর পৈতৃক বাড়িতে ফিরে যাওয়া হয়নি।

সংস্কৃতি অঙ্গন : অনেক প্রশ্নে আপনাকে জর্জরিত করলাম, এ সকল প্রশ্নের বাইরে আপনার কোনো কথা আছে কি? থাকলে নির্দ্বিধায় বলতে পারেন।

অজিত দত্ত : ধন্যবাদ এ প্রশ্নগুলো করেছেন বলে। এর ফলে আমাদের পরিবারবর্গের ও সংগঠনের কথাগুলো চাঁদপুরবাসী অবগত হয়েছেন। তা না হলে মানুষের কাছে প্রশ্নবোধক হয়ে থাকতে হতো। এজন্যে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের সম্পাদক ও প্রধান সম্পাদক সাহেবকে আমাদের পরিবারবর্গ ও সংগঠনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

চাঁদপুর পুলিশ লাইন্স, পরবর্তীতে উত্তর শ্রীরামদী জামতলায় বাবা বসবাস করতেন। আপনার পত্রিকার মাধ্যমে আমি চাঁদপুরের কৃতী সন্তান ও সংস্কৃতিবান্ধব শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এমপি সাহেব ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আমাদের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান সাহেবের কাছে আমরা মুুক্তিযোদ্ধা পরিবার আবেদন করছি যে, পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটির কার্যক্রম চলমান রাখতে হলে জায়গার প্রয়োজন। তা না হলে সংগঠনটি টেকসই হবে না, এক পর্যায়ে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়