প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ০৯:০০
বস্তা জালিয়াতি কিন্তু ছোটখাট বিষয় নয়

নিজেদের মিলের বস্তার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানের মিলের নাম ও ঠিকানা সম্বলিত বস্তায় চাল বাজারজাত করায় এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার (৩ মে ২০২৬) দুপুরে চাঁদপুর শহরের নতুন বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান নিয়মিত বাজার তদারকি অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, অভিযান পরিচালনাকালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে নিজেদের মিলের বস্তার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানের মিলের নাম ও ঠিকানা সম্বলিত বস্তায় চাল বাজারজাতকরণ, পুরাতন চাল পুনরায় বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ এবং চালের বস্তায় মিল গেট মূল্য উল্লেখ না করার অপরাধে নতুনবাজারের একটি রাইচ মিলের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
এ সময় বিভিন্ন নাম ঠিকানা সম্বলিত চালের বস্তা ধ্বংস করা হয়। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান পুনরায় এ ধরনের অনিয়ম করা থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করে। জেলা পুলিশের একটি দল অভিযানে সার্বিক সহায়তা প্রদান করে। জনস্বার্থে এ ধরনের আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
বাংলাদেশে দিনাজপুর সহ আরো কিছু স্থানের রাইচ মিলের চাল কিন্তু বেশ প্রসিদ্ধ। স্বাদে ও মানে উন্নত এ চালের চাহিদা ভোক্তাদের কাছে অনেক বেশি। সে চালের বস্তা সংগ্রহ করে কিংবা নকল বস্তা তৈরি করে সে বস্তায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত চাল ভরে বাজারজাত করা ভোক্তাদের সাথে প্রতারণার শামিল। এ প্রতারণা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তাদের পর্যবেক্ষণে কিংবা গোপন অনুসন্ধানে ধরতে পারাটা অনেক বড়ো সাফল্যের। এতোদিন আমরা প্রসাধনী সামগ্রী সহ ছোটখাট পণ্যে নকল মোড়ক/প্যাকেট, লেভেল, বোতল ইত্যাদি ব্যবহারের কথা শুনেছি, জেনেছি ও সংশ্লিষ্টদের শায়েস্তা করার বিষয় গণমাধ্যমে দেখেছি। এবার বস্তা জালিয়াতির বিষয়টি জেনে কম-বেশি বিস্মিত হতে হলো। ৫০ হাজার টাকা জরিমানায় সংশ্লিষ্টরা ছাড় পেলো। আমাদের মতে, সংশ্লিষ্টদের জরিমানার সাথে জেল দেয়ার ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো। এতে অনেক আলোড়ন সৃষ্টি হতো। সেজন্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে উপস্থিত করা কিংবা তার মাধ্যমে শাস্তি দেয়ার দরকার ছিলো। ভবিষ্যতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বড়ো ধরনের বা চাঞ্চল্যকর অভিযানকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেখে জরিমানার পাশাপাশি কারাদণ্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা ব্যবসায়ীদের মাঝে জরিমানা-ভীতি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে, তবে কারাদণ্ড-ভীতি আছে। কারণ হচ্ছে, জরিমানার বিষয়টি পরিবারের সদস্য, বন্ধু, শুভাকাক্সক্ষী, আত্মীয় স্বজন ও পরিচিতজনের কাছে গোপন রাখা যায়, কারাদণ্ডের বিষয়টি গোপন রাখা যায় না।








