প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ০৯:০৭
মতলবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা কম
ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঢিমেতালে চলছে কার্যক্রম

সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা মানুষকে উদারতা শেখায়, সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং শিক্ষার্থীদের আনন্দের মাধ্যমে শেখার সুযোগ করে দেয়। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হলো কোনো জনগোষ্ঠীর যৌথ মূল্যবোধ, বিশ্বাস, ঐতিহ্য, ভাষা ও জীবনধারার প্রতিফলন, যা সমাজকে উদার, সৃজনশীল ও ঐক্যবদ্ধ রাখে। এটি অনিয়ম ও অনাচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করে এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি ও নেতিবাচক পথ থেকে দূরে রাখে। এছাড়া উৎসব, শিল্পকলা ও চর্চার মাধ্যমে এটি জাতীয় পরিচিতি ধরে রাখে। মাদকাসক্তি ও বিপথগামিতা থেকে যুবসমাজকে বিরত রাখতে এবং তাদের ইতিবাচক মানসিক বিকাশে সংস্কৃতির ভূমিকা অপরিসীম। স্থানীয়ভাবে বড়ো কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠন বা নিয়মিত চর্চা কেন্দ্রের অভাবের কারণে এর প্রভাব সমাজে সেভাবে পড়ে না। সামগ্রিকভাবে, মতলবে সংস্কৃতি চর্চার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা অগ্রণী ভূমিকা পালন করার মতো শক্তিশালী অবস্থানে নেই, তবে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কিছু উদ্যোগ চলমান। মতলব দক্ষিণে কোনো শিল্পকলা একাডেমি নেই।
মতলবে দক্ষিণে সংগীত সংগঠন রয়েছে ২টি, নাট্য সংগঠন রয়েছে ২টি ও কবিতা আবৃত্তির সংগঠন রয়েছে ২টি।
নৃত্য ও গান শেখানো হয় দুটি প্রতিষ্ঠানে।
শোভা সঙ্গীতায়ন, যার প্রতিষ্ঠাকালীন সময় ২০০১ সাল। প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক দুলাল পোদ্দার। দ্বিতীয়টি হলো ললিতা সঙ্গীতালয়। একই বছরে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রাখাল মজুমদার।
শোভা সঙ্গীতায়নের প্রতিষ্ঠাতা দুলাল পোদ্দার জানান, দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরে বহু শিক্ষার্থীকে নৃত্য, রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীতসহ বিভিন্ন সঙ্গীত শেখানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। ব্যক্তিগত চেষ্টায় সাথে সাথে সরকারি সহায়তা পেলে মতলবের সংস্কৃতি অঙ্গনকে আরো গতিশীল করা সম্ভব। তাহলে শিক্ষার্থীরা অপসংস্কৃতি ছেড়ে বাংলাদেশী সংস্কৃতিতে মুগ্ধ হবে। সংস্কৃতি অঙ্গনকে আরো গতিশীল করা গেলে দেশ এগিয়ে যাবে।
নাট্য সংগঠন হচ্ছে বসুন্ধরা নাট্যগোষ্ঠী ও মঞ্চ কণ্ঠ নাট্যগোষ্ঠী। তন্মধ্যে বসুন্ধরা নাট্য সংগঠনের সভাপতি সাংবাদিক লোকমান হাবীব ও সাধারণ সম্পাদক মো. রহমত আলী। মঞ্চ কণ্ঠ নাট্যগোষ্ঠীর সভাপতি শাহ গিয়াস ও সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার ঘোষ।
বসুন্ধরা নাট্য সংগঠনের সভাপতি লোকমান হাবীব বলেন, সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে জাতীয় বিভিন্ন দিবসে নাট্যানুষ্ঠান করা সম্ভব। নিজেদের ব্যয়ে কিছু নাটক পরিচালনা করলেও আর্থিক অসুবিধার কারণে বেশির নাটকই মঞ্চস্থ করা সম্ভব হচ্ছে না। মাদক, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে নাটকের বিকল্প নেই। আমরা বিগত সময়ে বাল্য বিয়ে, পুষ্টি, আর্সেনিক, যক্ষ্মাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নাট্যানুষ্ঠানের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি করে থাকি। সমাজ থেকে কুসংস্কার দূরীকরণে নাটকের ভূমিকা অপরিসীম।
মতলবে উচ্চারণ, উপস্থাপন, আবৃত্তিতে রয়েছে পুরো জেলার মধ্যে বিখ্যাত ২টি প্রতিষ্ঠান। একটি কবিতাঙ্গন আবৃত্তি পরিষদ ও আরেকটি সনক। কবিতাঙ্গন আবৃত্তি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা আইনুন্নাহার কাদরী । সনক-এর মাধ্যমে প্রমিত উচ্চারণ, উপস্থাপন, আবৃত্তি শেখানো হয়। সনকের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়্যেদুল আরেফিন শ্যামল। প্রতিষ্ঠাকাল ১১ এপ্রিল ১৯৯৯ খ্রি.। বর্তমানে ওই সংগঠনের ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি চলমান রয়েছে।
সনক-এর প্রতিষ্ঠাতা সাইয়্যেদুল আরেফিন শ্যামল জানান, এ প্রতিষ্ঠান থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী উচ্চারণ, উপস্থাপন, আবৃত্তি, প্রমিত উচ্চারণ, বাচিক উৎকর্ষ সাধন, উপস্থাপনার বিষয়ে দেশের জন্যে কাজ করছে। তন্মধ্যে চ্যানেল আইয়ের সংবাদ পাঠক শরীফ হোসেন হৃদয়। এছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশনে সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম হয়েছে। অংশগ্রহণকারী দুটি গ্রুপের মধ্যে বড়ো গ্রুপে বদরুন নাহার লরিন, ছোট গ্রুপে তাফপ্রিয়া হক মীর অংশগ্রহণ করে মতলবের জন্য গৌরব ও সম্মান বয়ে এনেছে। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্যে সুপরিচিত মতলব, যা আবৃত্তির মতো শিল্পকর্মে এক অনন্য গৌরব বয়ে আনতে পারে।
কবিতাঙ্গন আবৃত্তি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মতলব সরকারি ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক আইনুন নাহার কাদরী। ২০০৭ থেকে বর্তমান পর্যন্ত কবিতা পাঠ নিয়ে উপজেলা, জেলা এবং জাতীয় পর্যায়ে নানা ধরনের কাজ করে চলছে সংগঠনটি। এ সংগঠনটি প্রমিত উচ্চারণ, বাচিক উৎকর্ষ সাধন, উপস্থাপনার বিষয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে নিরলসভাবে। প্রতি সপ্তাহে একদিন এ নিয়ে প্রশিক্ষণের আসর বসে। জাতীয় দিবসে সময় সুযোগ পেলেই কবিতা, ছড়া এবং পুঁথির ঝুড়ি নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হতে কার্পণ্য করে না। সংগঠনটি চাঁদপুরে কবিতা পাঠ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় কর্মী বন্ধু হাবিবুর রহমান কাকনকে পর্যন্ত হারিয়েছে। তবু কবিতার প্রেরণায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এগিয়ে চলছে।








