প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:২৮
নান্দনিক কারুকার্যে চোখ জুড়ানো রামদাসদী তাকওয়া জামে মসজিদ
একটি ঝাড়বাতি প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকায় সংগ্রহ করা

“মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই, যেন গোরে থেকেও মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই” বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই পঙ্ক্তির কথা মনে পড়ে যায় চাঁদপুর সদর উপজেলার পূর্ব রামদাসদী গ্রামের তাকওয়া জামে মসজিদটি দেখলে। চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য আর নান্দনিক কারুকাজে গড়া এই মসজিদটি প্রথম দেখাতেই থমকে যায় দৃষ্টি।
|আরো খবর
নদীপাড় ঘেঁষা সড়কের পাশে একটি গম্বুজ ও একটি সুউচ্চ মিনার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদটি দূর থেকেই নজর কাড়ে। বাহিরের নকশা যেমন পরিপাটি, ভেতরের সৌন্দর্য তার চেয়েও মোহনীয়। আঁকাবাঁকা নকশায় তৈরি মূল ফটক, নিখুঁত ডিজাইনের জানালার গ্রিল, আর পরিমিত রঙের ব্যবহার পুরো স্থাপনাটিকে দিয়েছে আলাদা এক আভিজাত্য।
মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সিলিং ও বারান্দাজুড়ে ফুলেল নকশার কাজ। মেঝে ও দেয়ালে টাইলস ও মার্বেলের সমন্বয়ে সাজানো পরিপাটি পরিবেশ। মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্যে রয়েছে চারটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা। মাঝখানের গম্বুজের নিচে ঝুলছে বিশাল আকৃতির ঝাড়বাতি, যা পুরো মসজিদটিকে রাজকীয় আবহে আলোকিত করে তোলে। জুমার খুতবার জন্যে ইমামের স্থানটিও দৃষ্টিনন্দনভাবে নির্মিত।
মসজিদের চারপাশে সুন্দরভাবে সাজানো জুতা রাখার বাক্স, আর পূর্ব পাশে পারিবারিক ও গণকবরস্থান মিলে পুরো এলাকাটি পেয়েছে একটি পরিকল্পিত ধর্মীয় পরিসর। পাশেই রয়েছে মুসল্লিদের জন্য বিশ্রামাগার।
মসজিদের সঙ্গে একই প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দ্বীনি শিক্ষাকেন্দ্র ‘মরহুম আব্দুস ছাত্তার কমপ্লেক্স দারুল আরকাম’ মাদরাসা। এখানে বর্তমানে প্রায় ২ শতাধিক শিক্ষার্থী দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করছে। মাদরাসাটির অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইমরান জানান, কাতার প্রবাসী তিন ভাইয়ের নিজস্ব অর্থায়নে এই মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

ছবি :মসজিদের ভেতরে থাকা ঝাড় বাতি। যা কাতার থেকে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকায় সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি জানান, ২০১৫ সালে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং প্রায় চার বছর ধরে দিনাজপুরের দক্ষ নির্মাণ ও নকশা শ্রমিকরা এর কাজ সম্পন্ন করেন। মাদরাসাটি নির্মিত হয় ২০১৬ সালে। মসজিদের ভেতরের প্রধান ঝাড়বাতিটি কাতার থেকে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকায় সংগ্রহ করা হয়। এছাড়াও ভেতরে স্থাপিত একাধিক ঝাড়বাতির রঙিন আলো সন্ধ্যার পর মসজিদটিকে আরও মোহনীয় করে তোলে।
রমজানের পবিত্র দিনে নামাজ, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির জন্যে তাকওয়া জামে মসজিদ চাঁদপুরের ধর্মীয় স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন।
ডিসিকে /এমজেডএইচ







