প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৮
চাঁদপুর সদর ও হাইমচর মৎস্য বিভাগের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে!

চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলা মৎস্য বিভাগের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। তাদের আভিযানিক তৎপরতার কোনো সাফল্য নেই বললেই চলে। গণমাধ্যমে মতলব উত্তরের খবর আসলেও চাঁদপুর সদর ও হাইমচরে আভিযানিক সাফল্যের কোনো খবর নেই। এ দুটি উপজেলার মৎস্য বিভাগ প্রচারবিমুখ না আপসকামী এটা নিয়ে সাধারণ্যে রয়েছে নানা গুঞ্জন।
|আরো খবর
জানা যায়, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলা মৎস্য বিভাগ মা ইলিশ রক্ষা অভিযান ও জাটকা রক্ষার অভয়াশ্রম কর্মসূচি ছাড়া তেমন কোনো সাঁড়াশি অভিযান চালাতে দেখা যায় না। তাদের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে বললেই চলে। কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশ মৎস্য বিভাগের চেয়ে অভিযানে কম-বেশি তৎপর থাকতে দেখা যায়। কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশ জাটকা রক্ষায় ও নিষিদ্ধ জাল, চাঁই সহ অন্যান্য উপকরণের বিরুদ্ধে সারা বছর ধরে অভিযান চালায়। আর মৎস্য বিভাগের অনেকটা হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার মতো অবস্থা। তাদের কম সক্রিয়তায় মনে হয়, বছরে মা ইলিশ ও কিশোর ইলিশ জাটকা রক্ষার কার্যক্রমেই যেনো তাদের দায়িত্ব শেষ।
কেননা বছরের অন্যান্য সময়ে তাদেরকে নিষিদ্ধ বিভিন্ন ধরনের জাল ও উপকরণের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালাতে দেখা যায় না। সারা বছর ধরে চাঁদপুরের মেঘনা-ডাকাতিয়া-পদ্মা নদী ও খাল বিলে নিষিদ্ধ জাল ও উপকরণ দিয়ে মাছের পোনা ধ্বংস করা হলেও সেদিকে তাদের নজর নেই। মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা মৎস্য শিকারের নিষিদ্ধ উপকরণ ও তৎপরতার প্রতি কোনো ভূমিকা নিতে দেখা যায় না। অভয়াশ্রম কর্মসূচি ছাড়া অন্য সময় জেলা মৎস্য বিভাগ নদীতে অথবা ইউনিয়ন পর্যায়ে বা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়, হাটবাজারে সভা ও প্রচারণা করতে দেখা যায় না।
সরজমিনে চাঁদপুর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া নদী, চাঁদপুর সদরের মেঘনা নদী ও হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীতে দেখা যায়, নিষিদ্ধ বিভিন্ন প্রকার জাল ও উপকরণ দিয়ে ছোট ছোট মাছের পোনা নিধন করা হচ্ছে। এতে দিন দিন মাছের আকাল বেড়েই চলছে। মনে হচ্ছে, মৎস্য বিভাগের যোগসাজশে নিষিদ্ধ জাল ও উপকরণ দিয়ে নদীতে মাছ শিকারে ব্যস্ত রয়েছে জেলেরা। এ ব্যাপারে সচেতন ক'জন জানান, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা ফুল বাবুর ন্যায় চাকুরি করছেন। নদীতে নির্বিচারে মাছের পোনা ধ্বংস করা হলেও তাদেরকে অভিযান চালাতে দেখা যায় না।
এ ব্যাপারে হাইমচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবিএম আশরাফুল হক বলেন, ৭ দিন করে ৪ টি স্লটে ২ মাস কম্বিং অভিযান হচ্ছে। আজকেও নদীতে ২ বার অভিযান করেছি। অভিযান করা হয়নি এ রকম অভিযোগ সঠিক না। চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, নদীতে আমাদের অভিযান এখনও চলে আসছে। নদীতে আমাদের সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা অভিযানে রয়েছেন। ডাকাতিয়া নদীতে অভিযান নেই কেন সে কথা বললে তিনি চুপ থাকেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, চাঁদপুর সদর উপজেলা ও হাইমচর উপজেলায় অভিযান বেশি হয়ে থাকে। কোথাও যদি গ্যাপ থাকে সে বিষয়টি দেখবো। প্রতিদিনই আমাদের অভিযান হচ্ছে। আজকেও নদীতে অভিযান চলছে।
ডিসিকে/এমজেডএইচ








