বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০১

ইচলীতে পিতাকে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন

চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
ইচলীতে পিতাকে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন

মাদক কেনার জন্য টাকা না দেওয়ায় ‘দা’ দিয়ে পিতা মো. মুছাব্বর গাজী (৬০)কে মাথায় কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছেলে মো. হোসেন গাজী (৩৮)কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এই রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হোসেন গাজী চাঁদপুর সদর উপজেলার উত্তর ইচলী গ্রামের গাজী বাড়ীর মৃত মুছাব্বর গাজীর ছেলে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, আসামি হোসেন গাজী মাদকসেবী। মাদকের টাকার জন্য সবসময় বাবার সাথে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করত। মাদক সেবন থেকে বিরত রাখতে তাকে ঢাকায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাও করানো হয়; তবে তাতেও কোনো কাজ হয়নি।

ঘটনার দিন ২০১৮ সালের ১৬ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হঠাৎ আসামি হোসেন গাজী তার পিতাকে ঘরে শায়িত অবস্থায় ধারালো ‘দা’ দিয়ে মাথায় দুটি কোপ মারে। এতে তিনি মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি শয্যা থেকে উঠলে তাকে আবারও কোপ দেওয়া হয়, তখন হাত দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে শহরের ওয়্যারলেস বাজার এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় ওই দিনই চাঁদপুর সদর মডেল থানায় নিহত মুছাব্বর গাজীর বড় ছেলে মো. আলম গাজী (৪২) আপন ছোট ভাই হোসেন গাজীকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে ১৭ নভেম্বর আদালতে সোপর্দ করে।

নমামলাটি তদন্ত করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মোমিনুল ইসলাম। তিনি তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কোহিনুর রশিদ বলেন, "মামলাটি চলমান অবস্থায় আদালত ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য গ্রহণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামি তার অপরাধ স্বীকার করায় বিচারক এই রায় দেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।"

আসামিপক্ষে সরকার নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. শফিকুর রহমান ভূঁইয়া।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়