বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৬

ফরিদগঞ্জে বিদ্যুতের দুরবস্থা চরমে

চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি অর্ধেক॥ লোডশেডিং বেড়েছে মাত্রাতিরিক্ত।।

জনবল ও যানবাহন সংকটে গ্রাহক সেবায় বিঘ্ন ঘটছে--দাবি পল্লী বিদ্যুতের

প্রবীর চক্রবর্তী
চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি অর্ধেক॥ লোডশেডিং বেড়েছে মাত্রাতিরিক্ত।।

চাঁদপুর জেলার অন্যতম বৃহৎ উপজেলা ফরিদগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি অর্ধেকেরও কম হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গ্রাহকদের দাবি, গড়ে ২৪ ঘণ্টায় শহরে ৮/১০ ঘণ্টা আর গ্রামে ৪/৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পেলেও বিদ্যুৎ বিলে এর কোনো প্রভাব নেই। বরং দিনের পর দিন বিল বাড়ছেই। অন্যদিকে বিদ্যুৎ প্রাপ্তির সমান্তরালে লোডশেডিং বাড়ার কথা স্বীকার করে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানায়, জনবল ও যানবাহন সংকটে গ্রাহক সেবায় বিঘ্ন ঘটছে তাদের।

জানা গেছে, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন ফরিদগঞ্জ উপজেলায় দুটি সাব স্টেশনের আওতায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১লক্ষ ৬৫ হাজার ৫শ'। এর মধ্যে ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতায় গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার এবং কামতা সাব স্টেশনের আওতায় গ্রাহক সংখ্যা ৫৫ হাজার ৫শ'।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ফরিদগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম মোবারক হোসেন সরকার জানান, উপজেলার নয়াহাটস্থ সাবস্টেশনের ১০টি ফিডারের আওতায় প্রায় ১লক্ষ ১০ হাজার গ্রাহকের জন্যে সর্বোচ্চ চাহিদা ২৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ থাকলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ৯ থেকে সর্বোচ্চ ১৩ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ ঘাটতি থাকায় দফায় দফায় লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

অন্যদিকে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন ফরিদগঞ্জের কামতা সাব স্টেশনের এজিএম (কম) শহিদুল ইসলাম জানান, কামতা সাব স্টেশনে ৬টি ফিডারের আওতায় মোট বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৫৫ হাজার ৫ শ'। এই সাবস্টেশনে বিদ্যুতের গড় চাহিদা ১৩-১৪ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন গড়ে ৫/৭ মেগাওয়াট।

রূপসা গ্রামের আব্দুল ওহাব মিয়া ও আসাদুজ্জামান বলেন, সারাদিনে কতবার বিদ্যুৎ যায়, তার হিসাব নেই। রাতেই ৭-৮ বার লোডশেডিং হয়। ২০-২৫ মিনিট বিদ্যুৎ দিয়ে আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হয়। গরমে শিশুরা ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। কিন্তু বিদ্যুৎ বিল ঠিকই আসছে।

পৌর এলাকার দক্ষিণ কাছিয়াড়া গ্রামের মামুন পাঠান জানান, প্রতি মাসে তার বিদ্যুৎ বিল গড়ে ৪/৫ হাজার টাকা আসলেও জুন মাসে তা হঠাৎ করেই ৯ হাজারে গিয়ে ঠেকেছে। অথচ বিদ্যুৎ ব্যবহার গড়ে পূর্বের মাসের তুলনায় কম হয়েছে। এছাড়া লোডশেডিং তো অনেক বেড়েছে।

গাজীপুর গ্রামের আবুল হোসেন জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে পরিবার নিয়ে খুব বিপদে আছি। রাতে ঘেমে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। একই অবস্থা গ্রামের প্রায় সব বাড়িতে। গড়ে ৪/৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছি আমরা।

বড়ালী গ্রামের অটোবাইক চালক আমির হোসেন ও সাহাবুদ্দিন বলেন, সারারাত চার্জারের লাইনে বিদ্যুতের তারের সাথে সংযোগ রেখেও লোডশেডিংয়ের কারণে গাড়ি চার্জ হয় না। দিনে গাড়ি চালাতে না পেরে আয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কিন্তু মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল ঠিকই আসছে।

এজিএম শহিদুল ইসলাম আরও জানান, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় তারা ফিডারগুলোতে সে হিসেবে রেশনিং করছেন। তবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি বাড়লে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ফরিদগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম মোবারক হোসেন সরকার বলেন, আমার কার্যালয়ের আওতায় মাত্র একটি সাব স্টেশন রয়েছে। প্রয়োজন অন্তত আরো দুটি সাব স্টেশন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা লাইনে সমস্যা হলে দূর-দূরান্তের গ্রাহকদের বিদ্যুৎ অনিচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখতে হয় মাত্র একটি সাব স্টেশনের কারণে। কেউ যদি সড়কের পাশে জমি দিয়ে সহযোগিতা করে, তাহলে সাব স্টেশন স্থাপন করাটা সহজ হবে। এছাড়াও এ কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় ২৮-৩০ জন জনবলের জায়গায় ঘাটতি ১০-১২ জন। যানবাহনও পর্যাপ্ত নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

ডিসিকে/ এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়