বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৩:৪২

কুমিল্লার আইন অঙ্গনের প্রথিতযশা মুখ সিনিয়র অ্যাডভোকেট তপন বিহারী নাগ

চার দশকের বেশি সময়ের আইন পেশায় নিষ্ঠা, দক্ষতা ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত

তাপস চন্দ্র সরকার।।
কুমিল্লার আইন অঙ্গনের প্রথিতযশা মুখ সিনিয়র অ্যাডভোকেট তপন বিহারী নাগ

কুমিল্লার আইন অঙ্গনে প্রথিতযশা ও পরিচিত মুখ সিনিয়র অ্যাডভোকেট তপন বিহারী নাগ। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আইন পেশায় নিষ্ঠা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে তিনি কুমিল্লার মানুষের কাছে একজন আস্থাভাজন ও সম্মানিত আইনজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দীর্ঘ পেশাজীবনে আদালতের কাঠগড়া থেকে শুরু করে আইনজীবী সংগঠন, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও মানবিক কর্মকাণ্ড—বিভিন্ন পরিসরে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি তাঁকে কেবল একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবেই নয়, বরং একজন সমাজমনস্ক, মানবিক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবেও পরিচিত করেছে।

কুমিল্লার মানুষ যাঁকে দীর্ঘদিন ধরে এক নামেই চেনেন—তিনি সিনিয়র অ্যাডভোকেট তপন বিহারী নাগ। তাঁর জীবনের দীর্ঘ পথচলা শুধু একজন আইনজীবীর পেশাগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে এগিয়ে চলার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

১৯৫৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ঝলমে জন্মগ্রহণ করেন তপন বিহারী নাগ। তাঁর পিতা রনদা রঞ্জন নাগ এবং মাতা পারুল রানী নাগ। পারিবারিক মূল্যবোধ, শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক চেতনার মধ্য দিয়ে তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে তিনি ঢাকায় পাড়ি জমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর আইন পেশাকে জীবনের প্রধান কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন। ১৯৮৫ সালের ৩ মার্চ বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ লাভ করেন তিনি। এর কিছুদিন পর একই বছরের ৪ এপ্রিল কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগদানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কুমিল্লার আইন অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ ও গৌরবময় পথচলা। সেই পথচলা দেখতে দেখতে চার দশকেরও বেশি সময় অতিক্রম করেছে।

এই দীর্ঘ সময়ে কুমিল্লার বিচারাঙ্গনে যেমন এসেছে নানা পরিবর্তন, তেমনি বদলেছে আইন পেশার ধরণ, প্রযুক্তি ও আদালতের কর্মপরিবেশ। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধকে আরও সমৃদ্ধ করে এগিয়ে গেছেন তপন বিহারী নাগ।

চার দশকের বেশি সময়ের পেশাগত জীবনে তিনি আদালত অঙ্গনের নানা পরিবর্তন ও বিবর্তনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী। আইনের প্রতি গভীর জ্ঞান, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা তাঁকে কুমিল্লার আইনজীবী সমাজে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান এনে দিয়েছে। আইন পেশায় তিনি শুধু নিজের পেশাগত প্রতিষ্ঠাই গড়ে তোলেননি, আইনজীবীদের সংগঠন ও সহকর্মীদের কল্যাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আইনজীবীদের পেশাগত সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কারণে সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, আইনজীবীদের পেশাগত স্বার্থ ও কল্যাণমূলক উদ্যোগেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিনের এই পেশাগত সম্পৃক্ততা তাঁকে কুমিল্লার আইন অঙ্গনের একজন অভিজ্ঞ ও প্রবীণ মুখে পরিণত করেছে।

তাঁর পেশাগত জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কুমিল্লা জেলা সরকারি কৌঁসুলি বা জিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন। ২০১৯ সালের ২৭ মে তিনি কুমিল্লা জেলা সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে যোগদান করেন। রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনা এবং বিচারিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ তাঁর দীর্ঘ আইন পেশার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার আরও একটি বড় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। একজন আইনজীবীর পেশাগত জীবনে সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল অধ্যায়। এ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা, আদালতে মামলা উপস্থাপন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখার সুযোগ পান তিনি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও পেশাগত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি তাঁর কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন করেন।

তপন বিহারী নাগের পরিচয় অবশ্য শুধু আদালতকেন্দ্রিক নয়। আইন পেশার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন, যুক্তরাষ্ট্র), থিওসোফিক্যাল সোসাইটি (চেন্নাই, ভারত), বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতি (ঢাকা), বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এসব সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক তাঁর বিস্তৃত সামাজিক চিন্তা, অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সম্প্রীতির প্রতি আস্থা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতার পরিচয় বহন করে। পেশাগত পরিচয়ের বাইরে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা তাঁকে কুমিল্লার সামাজিক পরিমণ্ডলেও একটি পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান রয়েছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরিতে তাঁর সম্পৃক্ততা তাঁকে বৃহত্তর সমাজে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে ধারণ করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিকতার বিষয়টিকেও তিনি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তাঁর কর্মকাণ্ডে ধর্মীয় অনুশীলনের পাশাপাশি মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়।

শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার প্রতিও তপন বিহারী নাগের রয়েছে গভীর অনুরাগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। একই সঙ্গে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সমাজকর্ম বিভাগ, ঝলম স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঈশ্বর পাঠশালা ছাত্র কল্যাণ পরিষদ ও ধেরেরা স্কুলের সঙ্গেও তিনি যুক্ত রয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর এই সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে, তিনি শুধু নিজের পেশাগত জীবন ও ব্যক্তিগত সাফল্য নিয়েই ব্যস্ত থাকেননি; বরং শিক্ষার প্রসার, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষায় গড়ে তোলার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক তাঁকে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দিয়েছে এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রও তৈরি করেছে।

মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় বহন করে। কুমিল্লা নবশালবন বৌদ্ধ বিহার অনাথ আশ্রমের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকা তাঁর মানবিক মানসিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সমাজে পিছিয়ে থাকা ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে মানসিকতা তিনি ধারণ করেন, তাঁর বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তারই প্রতিফলন দেখা যায়। ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কল্যাণে কাজ করার এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর সামাজিক পরিচয়কে আরও বিস্তৃত করেছে। এ কারণে আইনজীবী হিসেবে তাঁর পরিচয়ের পাশাপাশি একজন সমাজসেবী, মানবিক ও সমাজমনস্ক মানুষ হিসেবেও তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

তপন বিহারী নাগের জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তাঁর পারিবারিক জীবন। তিনি এক পুত্র ও এক কন্যাসন্তানের জনক। তাঁর একমাত্র ছেলে অরূপ কান্তি নাগ ঢাকা হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ছেলেরও আইন পেশায় আসা তপন বিহারী নাগের দীর্ঘ পেশাগত জীবনের এক ধরনের উত্তরাধিকার বহন করছে। অন্যদিকে তাঁর কন্যা প্রিয়াঙ্কা নাগ এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করে বর্তমানে চাকরিজীবী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করে তোলার মধ্য দিয়ে তাঁর পারিবারিক জীবনেও সাফল্যের ছাপ রয়েছে। পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি পরিবারকে সময় দেওয়া এবং সন্তানদের শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করে তোলার বিষয়টিও তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

বর্তমানে তপন বিহারী নাগ কুমিল্লা নগরীর পুরাতন চৌধুরীপাড়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও তিনি এখনও বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। কর্মব্যস্ত জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছেন এবং সেই সম্পর্ককে পেশাগত দায়িত্বের বাইরে সামাজিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও কাজে লাগিয়েছেন। আদালতের অঙ্গন থেকে সামাজিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ধর্মীয় সংগঠন, আইনজীবী সংগঠন থেকে মানবিক উদ্যোগ—বিভিন্ন পরিসরে তাঁর বিচরণ তাঁর ব্যক্তিত্বকে করেছে আরও বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ।

কুমিল্লার আইন অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ পথচলা একদিকে যেমন পেশাগত সাফল্যের প্রতিচ্ছবি, অন্যদিকে তেমনি মানুষের জন্য কাজ করার এক নিরলস প্রয়াস। একজন আইনজীবীর প্রকৃত সার্থকতা শুধু আদালতে মামলা পরিচালনা, আইনি জ্ঞান বা পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের আস্থা অর্জন, বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানো, সহকর্মীদের সঙ্গে দায়িত্বশীল সম্পর্ক বজায় রাখা, সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখা এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত রেখে যাওয়ার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত সার্থকতা। সিনিয়র এডভোকেট তপন বিহারী নাগের দীর্ঘ কর্মজীবনে এসব বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন দেখা যায়।

১৯৮৫ সালে আইন পেশায় প্রবেশের পর দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে চার দশকেরও বেশি সময়। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কুমিল্লার বিচারাঙ্গনের বহু উত্থান-পতন, পরিবর্তন ও বিবর্তনের সাক্ষী হয়েছেন। আইন পেশায় তাঁর যাত্রার শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি দেখেছেন আদালতের কর্মপদ্ধতিতে পরিবর্তন, নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের আগমন এবং বিচারব্যবস্থার নানা রূপান্তর। সময়ের সঙ্গে পেশার ধরন ও প্রযুক্তিগত বাস্তবতা পরিবর্তিত হলেও পেশার প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা, অভিজ্ঞতা এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ অটুট রয়েছে। কুমিল্লার মানুষের কাছে তাই তিনি শুধু একজন প্রবীণ বা সিনিয়র আইনজীবী নন; বরং দীর্ঘদিনের পরিচিত, আস্থাভাজন ও সম্মানিত একটি নাম।

তাঁর জীবনের গল্প মূলত একজন মানুষের নিজের পেশাকে ভালোবেসে, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখার গল্প। আইন অঙ্গনে দীর্ঘদিনের অর্জন, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তা, শিক্ষার প্রতি অনুরাগ, ধর্মীয় ও মানবিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং পরিবারকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে তপন বিহারী নাগ কুমিল্লার সমাজজীবনে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। তাঁর কর্মজীবনের বিস্তৃতি যেমন দীর্ঘ, তেমনি তাঁর সামাজিক সম্পৃক্ততার পরিধিও বিস্তৃত। পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালনের যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে চলেছেন, তা নিঃসন্দেহে অনুসরণীয়।

দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময়ের আইন পেশা একজন মানুষের কর্মজীবনের শুধু সময়ের হিসাব নয়; এটি অভিজ্ঞতা, সম্পর্ক, দায়িত্ব, অর্জন ও মানুষের আস্থার সমন্বিত প্রতিচ্ছবি। তপন বিহারী নাগের ক্ষেত্রেও সেই দীর্ঘ পথচলা তাঁকে কুমিল্লার আইন অঙ্গনের একজন প্রবীণ ও পরিচিত মুখে পরিণত করেছে। আদালতে আইন পেশার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা তাঁর ব্যক্তিত্বকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। নতুন প্রজন্মের আইনজীবী ও সমাজকর্মীদের জন্য তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে।

কুমিল্লার মাটি ও মানুষের সঙ্গে তপন বিহারী নাগের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এই দীর্ঘ সম্পর্কের ভেতরে রয়েছে পেশাগত দায়িত্ব, সামাজিক সম্পৃক্ততা, মানুষের সঙ্গে আত্মিক যোগাযোগ এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার নানা অধ্যায়। জীবনের এই পর্যায়েও তিনি মানুষের কল্যাণে তাঁর অভিজ্ঞতা ও সময়কে কাজে লাগিয়ে যাচ্ছেন। একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে তাঁর অর্জন যেমন কুমিল্লার আইন অঙ্গনের সম্পদ, তেমনি একজন সমাজমনস্ক ও মানবিক ব্যক্তি হিসেবে তাঁর কর্মকাণ্ডও বৃহত্তর সমাজের জন্য মূল্যবান। তাঁর মতো অভিজ্ঞ, সমাজমনস্ক ও মানবিক ব্যক্তিত্বের কর্মময় জীবন নিঃসন্দেহে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। কুমিল্লার আইন অঙ্গন ও সমাজজীবনে তাঁর অবদান আরও বিস্তৃত হোক, তাঁর অভিজ্ঞতা ও মানবিক মূল্যবোধ আগামী প্রজন্মের পথচলায় অনুপ্রেরণা জোগাক—এমন প্রত্যাশাই তাঁর সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, স্বজন ও কুমিল্লাবাসীর।

লেখক পরিচিতি :

লেখক একজন আইনজীবী ও সংগঠক।

জজকোর্ট, কুমিল্লা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়