শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ২৩:১২

বারবার উচ্ছেদের পরও থামছে না অবৈধ দখল

চাঁদপুরে যৌথ অভিযানে ১৮ মামলা, জরিমানা আদায় ৫৫ হাজার টাকা

আব্দুল্লাহ আল মামুন
চাঁদপুরে যৌথ অভিযানে ১৮ মামলা, জরিমানা আদায় ৫৫ হাজার টাকা

চাঁদপুরে সরকারি জমি ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ অভিযানে আবারও উচ্ছেদ করা হয়েছে অবৈধ দোকানপাট। স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী পরিচালিত এ অভিযানে ১৮টি মামলা দায়ের এবং ৫৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও চাঁদপুর পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষে অভিযানের নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা এবং পৌরসভার পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিমাদ্রি খীসা।

অভিযানের শুরুতেই বাবুরহাট-মতলব সড়কে জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে গড়ে ওঠা চারটি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়।

জানা যায়, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও এসব দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছিলো। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পুনরায় দোকান নির্মাণ করায় প্রশাসন আবারও কঠোর অবস্থানে যায়।

অভিযান চলাকালে সড়কের দু পাশে অবৈধ স্থাপনা, ফুটপাত দখল এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রশাসনের দাবি, এসব অবৈধ দোকান ও স্থাপনার কারণে যানজট, দুর্ঘটনা এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনা।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা বলেন,

“সরকারি জমিতে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা রাখতে দেওয়া হবে না। আমরা সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছি। বারবার সতর্ক করার পরও কেউ যদি আইন অমান্য করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের নিরাপত্তা ও সড়ক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে অভিযানে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ১৮টি মামলা দায়ের এবং মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে।

অভিযানকে সাধারণ মানুষ স্বাগত জানালেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, ঈদের আগে এমন অভিযানে তারা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক ব্যবসায়ী জানান, দোকান উচ্ছেদের ফলে লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে এবং তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, “প্রতিবছরই উচ্ছেদ হয়, আবার কিছুদিন পর দোকান বসে। স্থায়ী কোনো সমাধান না থাকায় আমরা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। অবৈধ দখল প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিকল্প পুনর্বাসন এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ মানুষও চান, যেন বারবার উচ্ছেদ ও পুনর্দখলের এই চক্র থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি মেলে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়