প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ০১:১৫
ইলিশের চাঁদপুর উন্নত কতদূর

স্বাধীনতা পরবর্তী সুদীর্ঘ সময়ে বিভিন্ন সরকারের শাসনকালে চাঁদপুরের কৃতী সন্তানদের অনেকেই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে সরব ছিলেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, এলাকার উন্নয়নে তাঁদের মনোযোগ আকর্ষণে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ শুরু থেকেই সচেতনতামূলক কর্তব্য কাজটি তুলে ধরবার মতো উল্লেখযোগ্য এবং কার্যকর ভূমিকায় ছিলেন না। সময়ের ধারাবাহিকতায় অধিকার বঞ্চিত
চাঁদপুরবাসীর প্রাপ্যতা ফিরে পেতে
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
জনাব তারেক রহমানের সদয় জ্ঞাতার্থে চাঁদপুর ৩-সংসদীয় এলাকার এমপি মহোদয় এবং জেলা বিএনপির
সম্মানিত সভাপতি, জনাব শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকে'র সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
নদী পরিবেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যঘেরা জেলা শহর চাঁদপুর সময়ের প্রয়োজনে নাগরিক সুবিধার আওতায় বাস উপযোগী করবার লক্ষ্যে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিণত কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ খুব বেশি ব্যয় সাপেক্ষ বা কষ্টসাধ্য ছিলো না।
যোগ্য নেতৃত্বের আন্তরিক প্রচেষ্টার সফলতা অর্জনে ব্যর্থতা চাঁদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত আক্ষেপ এবং প্রত্যাশিত আলোর মুখ আজও অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে আছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের চাঁদপুর শুভাগমন এবং দেশব্যাপী উন্নয়ন ভাবনার সম্ভার থেকে পিছিয়ে পড়া চাঁদপুরকে
অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে নিম্ন বর্ণিত কাজগুলোর বাস্তবায়ন স্বল্প ব্যয়ে দীর্ঘ মেয়াদী সুবিধার আওতায় সরকারের রূপকল্পে অন্তর্ভুক্ত হলে বাস্তবায়ন সম্ভব এবং ত্বরান্বিত হতে পারে ।
প্রস্তাবিত প্রকল্প নিম্নরূপ--
সারসংক্ষেপ : * ইচলী ঘাট নদী পারাপারের স্থানটিতে সেতু নির্মাণ।
*বিআইডব্লিউটিএ মোড় থেকে স্টার আলকায়েদ জুট মিলের পশ্চিম পাশ
সংলগ্ন সংযোগ বরাবর সেতু নির্মাণ।
*আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল বাবুরহাট
স্থানান্তর এবং বর্তমান টার্মিনালটি শহরে
চালিত যানবাহনের জন্যে ব্যবহারযোগ্য
করে তোলা।
*মেঘনা ও সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের
পরিবর্তন এবং আধুনিকায়ন।
*কোর্ট স্টেশনটি দর্জি ঘাট এলাকায় স্থানান্তর।
*বড় স্টেশন পথে ছোট-বড় অলাভজনক
এবং অস্বাস্থ্যকর জলাধারগুলো শহর
রক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ ও সমতল ভূমির
দুষ্প্রাপ্যতা অন্যান্য সহ নিম্ন আধুনিক
চাঁদপুর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ সাতটি বিষয়
বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে--
*আপনার শহর এবং নাগরিক সুবিধার
আওতায় করণীয় বিষয়ে
মতামত/পরামর্শ সামগ্ৰিক ভাবে
এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে : ১. ইচলী নদী পারাপারের স্থানটিতে সেতু এবং
আইডব্লিউটিএ মোড় থেকে স্টার আলকায়েদ জুট মিলস সংলগ্ন সড়ক সংযুক্ত আরেকটি বিশেষ জনগুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মিত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের
জেলাগুলোতে ভারী যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন হবে এবং ফরিদগঞ্জ তথা এতদঞ্চলের মানুষদের যাতায়াত সুবিধা সময় বিবেচনায় নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হতে পারে।২. চাঁদপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালটি শহরের প্রবেশ মুখে দীর্ঘ যানজটে নিত্যদিনের দুর্ভোগ হয়ে আছে। বর্তমান বাস টার্মিনালটি বাবুরহাট স্থানান্তর এবং স্বর্ণখোলা হয়ে বাবুরহাট হাইস্কুল সম্মুখ পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে বর্তমান বাসটার্মিনালকে শহরমুখী যানবাহনের জন্যে নির্ধারিত স্থান হিসেবে ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তোলা যেতে পারে । ৩. আধুনিক, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত চাঁদপুর তথা এতদঞ্চলের বহু মানুষ। চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামগামী মেঘনা এবং সাগরিকা এক্সপ্রেস নামে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেন সময়ের বাস্তবতায় অনুপযোগী এবং যাত্রী দুর্ভোগ যেনো শেষ হবার নয়। বহু পুরাতন এবং অব্যবস্থাপনায় আক্রান্ত যাত্রীবাহী ট্রেন দুটি পিছিয়ে পড়া
চাঁদপুরবাসীর নীরবতার মাঝে গভীর ক্ষত ফুটে উঠে। ফলে,
চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রেলপথে নতুন আধুনিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃ সংযোজন করা অধিকতর গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা যেতে পারে। ৪. শহরমুখী অপ্রশস্ত সড়কে দীর্ঘ সময় যানজট
জনদুর্ভোগের অন্যতম প্রধান কারণ। কালীবাড়িতে অবস্থিত চাঁদপুর কোর্ট স্টেশনটি শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত, ফলে প্রাত্যহিক কর্মমুখী মানুষদের ব্যস্ত সময়ে কঠিন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়ে আসছে। মিশন রোড রেল ক্রসিং অতিক্রম করে দর্জি ঘাট সংলগ্ন উপযুক্ত স্থানে [বড় স্টেশন পর্যন্ত ট্রেন চলাচল কার্যকর রেখে] চাঁদপুর কোর্ট স্টেশনটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় স্থানান্তরের বিষয়টি কার্যকর করা যেতে পারে। ৫. ডাকাতিয়া নদীর উত্তর পাশ ঘেঁষে চৌধুরী ঘাট থেকে
আইডব্লিউটিএ মোড় পর্যন্ত সড়ক নির্মিত হলে শহর জুড়ে অপ্রশস্ত সড়কে ভারী যানবাহনের অনাহুত চাপ কমে আসবে এবং পথচারী যাত্রী ও সময় বিবেচনায় মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন হতে পারে। ৬. শহর এলাকায় সমতল ভূমির দুষ্প্রাপ্যতা রয়েছে। নিশি বিল্ডিং জামতলা এলাকায় অবস্থিত অলাভজনক এবং অনগ্ৰসর সমাজ ব্যবস্থায় গড়ে উঠা অস্বাস্থ্যকর এলাকাটিতে বহু দিঘি, ডোবা, নালা বিদ্যমান রয়েছে। এর ফলে বড় স্টেশনে তিন নদীর মিলনস্থলে অবস্থিত 'মোলহেড' নামক স্থানটি কখনো নদী ভাঙ্গনে বিধ্বস্ত হলে ভাঙ্গন ব্যাপকতা দ্রুততার সাথে শহরের বড় একটি অংশ গ্রাস করবার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্ণিত বিষয়ে গত ১৩/০৯/২০১৭ খ্রিস্টাব্দে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক বরাবর একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হলে, তৎকালীন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্মারক নং ০৯-৪২-১৩০০-০২৮-০৩-০০৮-১৭-৯০২, তারিখ ২২/১০/২০১৭ খ্রিস্টাব্দে নির্বাহী প্রকৌশলী পানি উন্নয়ন বোর্ডকে উক্ত বিষয়ে সরজমিন পরিদর্শনপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের পরামর্শ প্রদান করলে উক্ত বিষয়ে স্মারক নং পাউব/নিপ্র/পিওর/চাঁদ/২০১৭/টি-২৯-৫৮২ ও ২০/১১/২০১৭ খ্রিস্টাব্দে বিস্তারিত তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের
বদলি-পরবর্তীতে বর্ণিত বিষয়ে অগ্রগতি থেমে যায়।
চাঁদপুর পৌর এলাকার সম্মুখ ভাগে অবস্থিত জামতলা, নিশিবিল্ডিং, রেলওয়ে কাঁচা কলোনি, হরিজন কলোনিসহ সমাজ সভ্যতায় পিছিয়ে পড়া অত্র এলাকাটি ঘিরে ছোট-বড়ো প্রায় ২৫টির অধিক অলাভজনক জলাধার রয়েছে। শহর এলাকায় সমতল ভূমির দুষ্প্রাপ্যতা বিদ্যমান থাকায় বর্ণিত
জলাধারগুলো ভরাট করে জেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি অবহেলিত এলাকাটিকে পর্যটকদের জন্যে আকর্ষণীয় ও
নিরাপদভাবে গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয়দের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখা যায়। ৭. চাঁদপুর জেলা শহরটি আয়তনে ছোট এবং বসবাসকারী মানুষদের সকলেই নির্ঝঞ্ঝাট এবং সক্ষমতার আলোকে মানিয়ে চলবার মত সামাজিক রাজনৈতিক এবং সম্প্রীতির বন্ধনে জড়িয়ে আছেন।
অপ্রশস্ত সড়ক অপরিকল্পিত নগরায়ন যানজট কবলিত জনদুর্ভোগ,
বর্জ্য অব্যবস্থাপনার ফলে দুর্গন্ধযুক্ত দৃষ্টিকটু পরিবেশ এবং বিশুদ্ধ পানির অভাব সহ জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহ অন্যান্য সীমাবদ্ধতা মানবিক মূল্যবোধকে কঠিনভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
উল্লেখ্য যে, ক্লিন সিটি চাঁদপুর-এর উদ্যোক্তা, আইন পেশায় যুক্ত,
জনাব নুরুল আমিন খান আকাশ। পরিচ্ছন্ন কর্মসূচি গ্ৰহণের ফলে দীর্ঘদিনের বর্জ্য অব্যবস্থাপনার অবসান হতে চলেছে। তাঁর প্রতি অভিনন্দন এবং শুভ কামনা রইলো।
কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যতীত সার্বিকভাবে মানুষের জীবনযাপন অনেকটা নিরাপদ।
মাদক এবং বিপথগামী তরুণদের অনিয়ন্ত্রিত ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি
সমাজপতিদের তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণমূলক স্বস্তির জায়গাটি কখনো কখনো ব্যাহত হয়ে থাকে।
বর্ণিত এবং বাস্তবসম্মত আলোচিত প্রাসঙ্গিক সকল বিষয়ে একজন সাধারণ ও সচেতন নাগরিক হিসেবে
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের চাঁদপুর কর্মসূচির বিশেষ সময়ে দীর্ঘদিনের লালিত এবং কাঙ্ক্ষিত ভাবনায় পরিকল্পিত নগর উন্নয়নে জনাব শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক, স্থানীয় এমপি মহোদয় সহ চাঁদপুর জেলার অপরাপর সম্মানিত সাংসদ এবং মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর জেলার
মানুষদের নাগরিক ও মানবিক অধিকার সম্বলিত প্রত্যাশা এবং দাবি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে যোগ্য নেতৃত্বের সংকল্পে অবহেলিত জনপদ, অন্ধকার গুছিয়ে আলোকিত হয়ে উঠুক প্রকৃতির সৌন্দর্যে ঘেরা আমাদের চাঁদপুর।
বিনীত,
ধন্যবাদান্তে--
মো. হাসান সারোয়ার, ভুট্টো।
বিল্ডার্স সোসাইটি।
জেএম সেনগুপ্ত রোড,
নতুন বাজার, চাঁদপুর।








