শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ২৬ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০০:০০

খণ্ডে খণ্ডে অখণ্ড জীবন

পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
খণ্ডে খণ্ডে অখণ্ড জীবন

(৯ম খণ্ড)

সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষা সফর হয়। আমাদেরও চমৎকার এক শিক্ষা সফরের আয়োজন হয়েছিলো। আমাদের শিক্ষা সফরের উদ্দেশ্য ছিলো মূলত সার্কভুক্ত দেশ ভ্রমণ। আমরা সেবার পাশর্^বর্তী দেশ, সর্ব সংস্কৃতির আধার, ভারতেই আমাদের শিক্ষা সফরের পরিকল্পনা করি। তৃতীয় বর্ষ শেষ করে ঊনিশশো আটানব্বই সালে আমরা আমাদের শিক্ষা সফরের উদ্দেশ্য রওনা দিই। তখন ছিল শীতকাল। কাজেই শীত মোকাবেলার পোশাকের দিকে নজর ছিল সবার। আমাদের শিক্ষা সফরের কনভেনর ছিল ‘সি’ ব্যাচের রাশেদ। তার সাথে সহযোগিতায় ছিল আমাদের বন্ধু নোবেল এবং ‘এ’ ব্যাচের নির্ঝর। তাদের আয়োজন ছিল খুব চমৎকার। তারা কোনো একটা ট্যুর প্ল্যানারদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আয়োজন সম্পন্ন করলো। আমাদের অনেকেরই আগে থেকে পাসপোর্ট করা ছিল। কেউ কেউ তৎক্ষণাৎ দ্রুত পাসপোর্ট বানিয়ে নেয়। আমাদের যাত্রা ছিল ভেঙে ভেঙে। ট্রেনে চড়ে রাত সাড়ে এগারোটার তূর্ণা-নিশীথায় আমরা চট্টগ্রাম থেকে রওনা দিলাম ঢাকার উদ্দেশ্যে। ঢাকায় পথে ট্রেনযাত্রা আমাদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠলো। পুরো বগিটাকে মনে হলো একটা আস্ত মৌচাক আর আমাদের পঁয়ত্রিশ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা একঝাঁক মৌমাছি যারা মুখে ও মনে ভ্রমণের মধু নিয়ে গুঞ্জরিত করে তুলেছে চারপাশ। কেউ কেউ সিট পেয়েও না বসে ঘুরে বেড়াচ্ছে বগিময়, যেন তার প্রজাপতি হয়ে ফুলে ফুলে বেড়াবার মতোই সুখ। আর কেউ সিটে বসলেও গলা হতে মাথা রিভলিভং ফ্যানের মতো ঘুরিয়ে জরিপ করে নিচ্ছে চারদিক। এরই মধ্যে ব্যাচের জাতীয় শিল্পীদের মুখে মুখে গুণগুণিয়ে উঠলো আমাদের প্রজন্মের যত জাতীয় গীত। বগির অন্তর্গাত্র, সিটের ফোম সকলের ওপর তবলচির হাতের যশে মুহূর্তেই তৈরি হয়ে গেলো সুরের খেয়া, তালের ঘড়া। যে পারে সে তো গাইছেই আর যে পারে না সেও ঠোঁট মিলিয়ে বুক ফুলিয়ে চেষ্টা করছে টান দিয়ে। আহা! কী সেই সুখ! কী সেই অনাবিল আনন্দ! তূর্ণা নিশীথার এই একটা বগি যেন হয়ে উঠেছিলো এক অনন্য নন্দন যার স্পন্দনে মেতে উঠেছিলো রাত, জেগে উঠেছিলো নিশাচর নগরীও। যেতে যেতে একসময় ক্লান্তির কামার এসে জোড় লাগিয়ে দিয়ে যায় সবার দুচোখের পাতা আর ঘুম পরিরা ঘুরে ঘুরে তৈরি করে নেয় সবার স্বপ্নে একই ছবি, ভ্রমণের, ভারতের। মাঝে মাঝে গাঢ় ঘুম ছিঁড়ে গেলে দেখা যেতো কারও কারও কোল হতে গড়িয়ে পড়ছে মিলনের রাধাকৃষ্ণ, হুমায়ূনের হিমু, সমরেশের সাতকাহন। ভোরবেলা ট্রেন থামে কমলাপুরে। অবাক ব্যাপার। বটহীন বটতলী থেকে কমলাহীন কমলাপুরে ট্রেন হতে নেমে যে যার মতো চলে যায় আপাত বিশ্রামে। আমি চলে যাই শ্যামলের সাথে তাদের মিরপুর লালকুঠির বাসায়। বন্ধু শ্যামল খুব গুণী ছেলে। ভালো তবলা বাজায়, গলার সুর আছে, পুরোনো দিনের আধুনিক বাংলা গান তার গলায় ভালোই শোনায়। তবে রবীন্দ্রনাথের ‘তোমার মুক্তি আলোয় আলোয়' গানটা তাকে মাঝে মাঝেই ভাঁজতে শুনি। একবার তাকে শুধিয়েছিলাম, কি রে! এতো মুক্তি মুক্তি করিস ক্যান? সে জবাব না দিয়ে একটা মুচকি হেসে ব্যাপারটা মোকাবেলা করে। তবে ক্যাম্পাস তাকে একটা বাঁধন উপহার দিতে পারেনি। অনেককেই দিয়েছে, কিন্তু কী এক অজানা কারণে তার মতো যোগ্য ছেলেটাকে একেবারে সুবোধ রেখেই বাড়ি পাঠিয়ে দিলো। অথচ তার চেহারায় তাপস পালকে আমরা কাছে পেতাম। শ্যামলদের বাড়ি বাংলাদেশের পুণ্যবতী জেলায়। গোপালগঞ্জ। ধীবর-দুহিতা রানি রাসমণির নাতির নামে গড়ে ওঠা গোপালগঞ্জ জেলায় একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় শিক্ষক হলেন শ্যামলের বাবা। মেসো মশাইকে সবাই সমীহ করে ডাকে বাবু স্যার বলে। শ্যামলের বাসায় আমার সারাদিন কাটে। কৈ মাছের তরকারি দিয়ে দুপুরের খাবার খেয়েছি পেটপুরে। শ্যামলের মা অত্যন্ত মমতাময়ী এবং শাশ্বত বাঙালি মায়েদের মতো। আগেকার মায়েরা যেমন ছিলেন, কেবল নিজের পেটে ধরা ছেলে নয়, ছেলেমেয়ের সব সহপাঠীকেই তাঁরা আপন সন্তান জ্ঞান করতেন। শ্যামলের মা-ও তার ব্যতিক্রম নয়। মেসো রাতে আমার হাতে তুলে দিলেন বেশ কয়েকটা ভারতীয় নোট। তাঁরা ভারতে তাঁদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে আসা-যাওয়া করতে গিয়ে মাঝে মাঝে কিছু কিছু ভারতীয় মুদ্রা বেঁচে যেত বা সংগ্রহে থাকতো। সেগুলোরই কয়েকটা নোট আমার হাতে তিনি আশীর্বাদ স্বরূপ দিয়েছিলেন। ছাত্রজীবনে মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেদের প্রথমবারের মতো দেশভ্রমণ যেন এক মহা উৎসব। সেই উৎসবের মহাযজ্ঞে যেন ঘি ঢেলে দিলেন মেসো মশাই। রাত এগারোটা-বারোটার দিকে আমরা শাহবাগ চত্বর হতে বাসে উঠলাম যশোর বেনাপোলের উদ্দেশ্যে। সকালে বেনাপোলে নেমে আমরা আটকে গেলাম। কারণ তখনো বর্ডার খোলেনি। যেহেতু প্যাকেজ ট্যুর, যা করার সব উদ্যোক্তাই করলো। আমরা কেবল পাসপোর্টটা তাদের কাছে জমা দিলাম। দাপ্তরিক কাজ শেষ করতে প্রায় অনেকক্ষণ লেগে গেলো। আমরা ইত্যবসরে নো ম্যানস্ ল্যান্ডে বিচরণের সুযোগ পেলাম। কেউ ডাব খাচ্ছে, কেউ দেশি টাকা ভাঙিয়ে ভারতীয় নোট করে নিচ্ছে। কেউ ডলার ভাঙিয়ে নিচ্ছে। অনেককেই দেখালাম, ডলার ভাঙিয়ে অসন্তুষ্ট। কারণ ভিতরে ঢুকে বিক্রি করলে নাকি আরও কিছু বাড়তি পাওয়া যেতো। বর্ডারে একটা মজার বিষয় লক্ষ্য করলাম। এটা কিন্তু আমাদের জন্যে কষ্টেরও। আমাদের একটাকার ভারি একটা মুদ্রা তখন চালু ছিলো। জানতাম, ঐ মুদ্রায় রূপার মিশেল আছে অধিক। বর্ডার পার হলে হরিদাসপুরের লোকেরা আমাদের কাছে বাংলাদেশের একটাকা মূল্যমানের কয়েন চাইতে শুরু করে। আমাদের তৎকালীন একটাকা কয়েন তারা আশি টাকা দরে কিনতে চায়। ঘটনা কী? ঘটনা হলো আমাদের কয়েন গলিয়ে তারা রৌপ্য বের করে নেয় এবং বাকিটা দিয়ে ব্রোঞ্জের চামচ বানায়। পরে অবশ্য আমাদের সেই এক টাকার ভারি কয়েন উঠিয়ে নেয়া হয়। চেক করা থেকে শুরু করে সকল লেনদেন শেষ হলে আমরা তাদের বাসে উঠার অনুমতি পাই। আগে থেকেই ট্যুর অপারেটররা ভারতীয় ইমিগ্রেশনকে মানিয়ে রেখেছিলো, তাই কারও ব্যাগ তারা তল্লাশি করেনি। ফলে কারও আবার ব্যাগ গোছানোর কষ্টে পড়তে হয়নি। কিন্তু বাসে উঠার পর আমাদের মনটা ছোট হয়ে গেলো। আমাদের দেশে আমরা যে বিলাসবহুল বাসে চড়তে অভ্যস্ত, তাদের দেশে সেরকম বাস নেই। তারা প্রগতির বাসে চড়েই দূর পাল্লায় আসা-যাওয়া করে। ঊনিশশো আটানব্বইতে আমরা যখন ভারত যাই তখনো কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ট্র্যাফিক পুলিশ ততো আধুনিক ছিলো না। তারা রাস্তায়, মাঝখানে দাঁড়িয়ে হাত তুলে এবং হাত নামিয়ে ট্র্যাফিক কন্ট্রোল করতো। তখনই কিন্তু আমাদের দেশে ট্র্যাফিক সিগন্যাল বাতির ব্যবস্থা হয়ে গেছে। লাল-হলুদণ্ডসবুজ বাতির সংকেত দিয়ে আমরা তখন পথ চলি ব্যস্ত রাজপথে। কলকাতা হতে রাজধানী এক্সপ্রেসে আমরা যাবো দিল্লি। ভারতে রেলের টিকেট পাওয়া ঢের কষ্টের। কিন্তু ট্যুর অপারেটর আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রাখায় আমাদের কষ্ট হয়নি। দিনের বেলা কলকাতায় হোটেলে উঠে সবাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেল যে যার মতো। ট্যাক্সি নিয়ে আমি গেলাম বাঘবাজারে। আমাদের বাসার পাশে যারা একসময় দীর্ঘদিন ছিলেন, তারা কলকাতায় চলে আসেন পাততাড়ি গুটিয়ে, আত্মীয়-স্বজনের ভুল পরামর্শে। আমি তাদের সাথে দেখা করতে যাই। তারা সেখানে অটো কিনে লাইনে ভাড়াতে খাটিয়ে টিকে থাকতে চেয়েছিলো। কিন্তু ভারত বড়ো কঠিন জায়গা। সেখানে বেড়ানো সহজ, খাওয়া সহজ কিন্তু উপার্জন করা বড়ো কঠিন। লাইনে যে অটো চলে তার পিছনে আবার ড্রাইভারের কারসাজিতে প্রতিদিনই কিছু না কিছু ট্যাকশো লাগে। ফলে তাদের সেই অটোতে গচ্চা দিয়ে তারা আবার ব্যাক টু দ্য প্যাভিলিয়নে বাধ্য হয়। বাঘবাজারে রাতের খাবার খেয়ে আমি কলকাতায় আমাদের জন্যে নির্ধারিত হোটেলে ফিরে আসি। ভারতে আমাদের ট্রেন যাত্রার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ নতুন। কোচের বার্থে আমরা যার যার সিট পেলাম। কিন্তু সমস্যা হলো আমাদের আগে থেকেই বুকিং করা সিটে অনেক স্থানীয় যাত্রী উঠে পড়েছেন। তাদের সরাতে আমাদের খুব কসরত করতে হয়েছে। তারা এমনই নাছোড়বান্দা, মনে হলো একপর্যায়ে তারা আমাদের কোলে চড়ে বসবে। বাপরে বাপ! ভারতীয় নারীরা অনেক বেশি কষ্ট সহিষ্ণু। এটা তাদের রেলযাত্রা থেকে সহজেই অনুমেয়। আমাদের এখানে যেমন গায়ে গায়ে ঠেকে গেলে তুলকালাম লেগে যায়, তাদের ওখানে তেমন কিছুই নেই। বরং পুরুষের সাথে পাল্লা দিয়ে তারা দূরযাত্রায় জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে চেষ্টা করে প্রতিনিয়ত। পথে যেতে যেতে জানা-অজানা অনেক স্টেশনে রেল থেমেছে। ভোরে যে স্টেশনে রেল থামলো তার প্ল্যাটফর্মে শালপাতায় বিক্রি হচ্ছিল প্রাতঃরাশ এবং মাটির ভাড়ে চা। অবশ্য আমরা রেলের ভেতরেই রাতে ডিনার সেরেছি এবং সকালে রেলেই সকালের নাশতা পেয়েছি। তবুও শালপাতার খাবার চেখে দেখলাম, মাটির ভাড়ে তৃপ্তি মিটিয়ে চা খেলাম। দিল্লিতে আমাদের দেখার জন্যে কুতুব মিনারে নেওয়া হলো, লাল কেল্লায় নেওয়া হলো এবং লোকসভা ভবনের কাছাকাছি নেওয়া হলো। দিল্লিতে আমরা মিউজিয়ামে গেলাম। ইন্দিরা গান্ধী যেখানে নিহত হয়েছিলেন সেখানেও শ্রদ্ধা জানিয়েছিলাম। কুতুব মিনারকে ঘিরে ছবি তোলা কিংবা ইন্ডিয়া গেটে জড়ো হওয়া সবকিছুই ছিলো আমাদের জন্যে রোমাঞ্চকর। লাল কেল্লায় লাইট এন্ড সাউন্ড শো আমাদের মুগ্ধ করে রেখেছিলো। মনে হচ্ছিলো, নাদির শাহ্ স্বয়ং ঘোড়ায় চড়ে টগবগ টগবগ করে এসে পৌঁছেছে আবার দিল্লিতে, লাল কেল্লায়। দিল্লিকে তারা নাম দিয়েছে গ্রিন সিটি, যদিও গরম খুব বেশি। দিল্লিতে আমাদের অনেকেই মন খুলে শপিং করেছে। মেয়েদের কেউ কেউ শপিং করে ঠকে গিয়ে ছেলে বন্ধুকে বলতে শুনেছি, এখানে শপিং করে আমি জিএম খেলাম। আমিও কিনেছি নিজের জন্যে একজোড়া উডল্যান্ডের জুতো। ভ্রমণ গাইড একজন ছিলো আমাদের সাথে। বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, কেন রাজধানীর নাম দিল্লি। কারণ হিন্দি দিল্ থেকে দিল্লি যার অর্থ হৃদয়। বস্তুত রাজধানী দিল্লিই ভারতের হৃৎপিণ্ড। দিল্লি হতে আগ্রা এসে আমাদের মনপ্রাণ গেলো খুলে। সম্রাট শাহজাহানের অমর কীর্তি ‘তাজমহল’ দেখতে গিয়ে আমরা অভিভূত হয়ে গেলাম। গাড়ি থেকে নেমে অনেকটুকু পথ যেতে হয়। তাজমহলের সাদা শ্বেত পাথরে গাড়ির কালো ধোঁয়া লেগে কালচে হয়ে যাবে সেই আশঙ্কায় গাড়িকে একটা নির্দিষ্ট দূরত্বে সীমাবদ্ধ করে উটের পিঠে করে পর্যটকদের তাজমহলে কাছে নেওয়ার ব্যবস্থা হলো। আমার মনে হলো এটা যতটা না তাজমহলের প্রতি তদারকি, তার চেয়ে বেশি রাজস্থানের মরুভূমির উটকে অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞে শামিল করা। যেদিন আমরা তাজমহলে গেলাম, সেদিন ছিলো সম্রাট শাহজাহানের জন্মদিন। তাই পর্যটক হওয়া সত্ত্বেও আমরা বিনা টিকেটে মমতাজ মহলের সমাধি ও তাজমহল দর্শনের অনুমতি পেলাম। তাজমহলের শে^তশুভ্র রূপ সত্যিই মুগ্ধ হওয়ার মতো। কিন্তু যখনই মনে পড়ে, প্রজাদের উপর অতিরিক্ত কর আরোপ করে, নির্মাণ শিল্পীদের নির্মাণ শেষে হাতের কব্জি কেটে এই তাজমহলকে কালজয়ী করা হয়েছে, তখনই মনে কষ্ট এসে ভিড় করতো। তাজমহলের পেছনে নিস্তেজ যমুনা নদী বয়ে চলেছে। পূর্ণিমা রাতে তাজমহলের শোভা যমুনায় লুটোপুটি খায়। তাজমহলের ভেতরের চেয়ে বাইরের সৌন্দর্যই মানুষকে অধিক বিমোহিত করে। আমাদের মধ্যে যারা প্রেমিক জুটি ছিলো তারা সবাই তাজমহলকে সামনে পেয়ে ছবি তুলেছে ইচ্ছেমতো। একটা জুটিকে আমি জানি, তারা ঠিক করে নিয়েছিলো তাজমহলের সামনে দাঁড়িয়ে একে অন্যকে নিজের জীবনে বেঁধে নিবে। প্রচলিত কথায় বলে, পৃথিবীতে মানুষ দুই শ্রেণির। প্রথমত যারা তাজমহল দেখেছে আর দ্বিতীয়ত যারা তাজমহল দেখেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন স্বয়ং এই কথা বিশ্বাস করতেন। আসলে তাজমহলকে নিজের চোখে দেখার পর এ কথাকেই সত্য মনে হয়। (চলবে)

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়