প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৭
শিশুর চিন্তনে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় ও বিজ্ঞান শিখন এবং বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড

মানুষের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে শিক্ষার এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। চিন্তা করার স্বাধীনতা, সৃজনশীল বুদ্ধিমত্তা ও চৌকস দৃষ্টিভঙ্গি ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে বিজ্ঞানের এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কুইজ প্রতিযোগিতা হলো একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে বিজ্ঞানমনস্ক শিশুকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খুঁজে বের করে আনা এবং তাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা। শুধু তা-ই নয়, পর্যবেক্ষণ করে তাকে বাস্তবসম্মত চিন্তার অধিকারী করা এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন মানুষ হিসেবে পরিপূর্ণভাবে গড়ে তোলা। মানুষ ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে দেখে, শোনে, বিশ্লেষণ করে, পর্যবেক্ষণ করে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাখে। অলিম্পিয়াডের সঙ্গে তাই বলা যায়, বিজ্ঞানের সম্পর্কটা বেশ আত্মিক।
মানুষের মানসলোকের সবচেয়ে কুহেলিকাময় এবং রোমাঞ্চকর দুটি অনুভূতি হলো অন্তর্দৃষ্টি ও ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়। বিজ্ঞান আর যুক্তি দিয়ে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের খুঁটিনাটি মেপে ফেলা এই আধুনিক যুগেও এমন কিছু অভিজ্ঞতা আমাদের হয়, যা তথাকথিত বস্তুগত ব্যাখ্যার অতীত। হুট করেই কোনো একটা বিপদ আসন্ন বলে মনে হওয়া, নির্দিষ্ট কোনো মানুষকে নিয়ে অব্যাখ্যাত উৎকণ্ঠা তৈরি হওয়া, কিংবা কোনো জটিল সমস্যার সমাধান এক নিমিষে মনের ভেতর ঝলসে ওঠা—এই অদৃশ্য অনুভূতিগুলোই আমাদের নিয়ে যায় অন্তর্দৃষ্টি ও ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের এক অদ্ভুত রহস্যময় জগতে।
অন্তর্দৃষ্টি ও ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়: ধারণার তফাত
অনেকে অন্তর্দৃষ্টি এবং ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে একই বিষয় মনে করেন, তবে দুটির কাজের ধরনে কিছুটা সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে।
অন্তর্দৃষ্টি: অন্তর্দৃষ্টি মূলত একটি গভীর মানসিক ও বৌদ্ধিক প্রক্রিয়া। এটি কোনো বাহ্যিক ঘটনা বা জটিল সমস্যার ভেতরের সত্যকে একপলকে অনুধাবন করার ক্ষমতা। বিজ্ঞানী বা গবেষকদের ভাষায় একে প্রায়ই বলা হয় ইউরেকা মোমেন্ট। কোনো সমস্যা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ চিন্তা করার পর যখন মস্তিষ্ক নিজের অজান্তেই সব তথ্য সাজিয়ে একটি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে যায়, সেটাই অন্তর্দৃষ্টি।
ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়: ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় হলো পঞ্চইন্দ্রিয় (চোখ, কান, নাক, জিভ ও ত্বক) ছাড়িয়ে অতিরিক্ত এক ধরনের অনুভূতির উপস্থিতি। এটিকে অনেক সময় গাট ফিলিং বা ইনটুইশন বলা হয়। যুক্তি বা প্রত্যক্ষ কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ভবিষ্যতের কোনো ঘটনা বা পরিস্থিতি আগে থেকে আঁচ করার অলৌকিক ক্ষমতা হলো ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়।
বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি: মস্তিষ্কের অবচেতন খেলা
রহস্যময় মনে হলেও বিজ্ঞান কিন্তু অন্তর্দৃষ্টি ও ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে অলৌকিক কিছু মনে করে না। স্নায়ুবিজ্ঞানের মতে, আমাদের মস্তিষ্ক সবসময় আমাদের জাগ্রত চেতনার চেয়েও অনেক বেশি তথ্য পর্যবেক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করে।
দৈনন্দিন জীবনে আমরা চোখ বা কানে যা দেখি ও শুনি, তার একটি ক্ষুদ্র অংশই কেবল অবচেতন মনে সঞ্চিত থাকে। আমাদের মস্তিষ্ক ব্যাকগ্রাউন্ডে সবসময় অতীতে ঘটে যাওয়া হাজারো স্মৃতি, অভিজ্ঞতা এবং সূক্ষ্ম সংকেত বিশ্লেষণ করতে থাকে।
যখন কোনো নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়, মস্তিষ্ক কনশ্যাস বা সচেতন মনকে না জানিয়েই অবচেতনভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। সেই সিদ্ধান্তটিই আমাদের কাছে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বা অন্তর্দৃষ্টি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
আমাদের পাচনতন্ত্রের সঙ্গে মস্তিষ্কের একটি নিবিড় সংযোগ রয়েছে, যাকে বলা হয় এন্টেরিক নার্ভাস সিস্টেম। কোনো বিপদ বা অচেনা পরিস্থিতিতে এই স্নায়ুতন্ত্র সাড়া দেয়, যার কারণে বিপজ্জনক সময়ে পেটের ভেতর এক অদ্ভুত অস্বস্তি বা গাট ফিলিং তৈরি হয়।
মনস্তত্ত্ব ও পরামনোবিজ্ঞান
মনোবিজ্ঞানী কার্ল ইয়ুং-এর মতে, মানুষের মন কেবল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে তৈরি নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সমষ্টিগত অবচেতন। মানুষের পূর্বপুরুষদের হাজার বছরের অভিজ্ঞতার স্মৃতিচিহ্ন জিনগত বা মানসিকভাবে আমাদের ভেতরে রয়ে গেছে। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় অনেক সময় সেই সুপ্রাচীন প্রজাতিগত বেঁচে থাকার তাগিদ থেকে তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, পরামনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কেবল মস্তিষ্কের হিসাব-নিকাশ নয়, বরং এটি টেলিপ্যাথি, প্রাক-জ্ঞান এবং স্থান-কালের সীমানা পেরিয়ে অন্য এক শক্তিক্ষেত্রের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম।
যদিও বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্বকোষ এসব তত্ত্বকে সর্বজনীন স্বীকৃতি দেয় না, মানুষের বাস্তব জীবনের নানা অদ্ভুত ঘটনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়াও কঠিন করে তোলে।
ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কি চর্চা করে বাড়ানো সম্ভব?
মনোবিদদের মতে, অন্তর্দৃষ্টি ও ইনটুইশন বা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে চর্চার মাধ্যমে আরও ধারালো করা সম্ভব।
ধ্যান ও সচেতনতা: অস্থির মনে অন্তর্নিহিত সংকেতগুলো ধরা পড়ে না। নিয়মিত ধ্যান মনের নীরবতা বাড়ায়, যা অবচেতনের বার্তাগুলো অনুধাবন করতে সাহায্য করে।
প্রকৃতি ও নীরবতার কাছাকাছি থাকা: অতিরিক্ত কোলাহল, স্ক্রিন টাইম এবং যান্ত্রিক ব্যস্ততা মানুষের সহজাত অনুভূতিকে ভোঁতা করে দেয়। প্রকৃতির সান্নিধ্য মানুষের ইন্দ্রিয়গুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে।
শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়া: অনেক সময় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে হুট করে শরীরে বিশেষ অস্বস্তি বা শান্তি অনুভব হয়। আপনার গাট ফিলিংকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা না করে তা নিয়ে নিরপেক্ষভাবে ভাবা উচিত।
চিন্তার স্বাধীনতা প্রদান: কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য একটানা চাপ না নিয়ে মস্তিষ্ককে কিছুটা বিশ্রাম দেওয়া উচিত। হাঁটার সময় বা গোসল করার সময় প্রায়ই মস্তিষ্কে হঠাৎ প্রজ্ঞা বা অন্তর্দৃষ্টির উন্মেষ ঘটে।
জীবনসংগ্রামে অন্তর্দৃষ্টির ভূমিকা
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, পৃথিবীর বড় বড় আবিষ্কারক, সফল ব্যবসায়ী ও শিল্পীরা কেবল যুক্তির ওপর নির্ভর করে সফল হননি।
স্টিভ জবস থেকে শুরু করে আলবার্ট আইনস্টাইন—সকলেই তাঁদের স্বজ্ঞাত অনুভূতি বা ইনটুইশনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। আইনস্টাইন একবার বলেছিলেন, স্বজ্ঞাত মন হলো এক পবিত্র উপহার এবং যুক্তিবাদী মন হলো তার বিশ্বস্ত অনুচর।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বহু জটিল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে, যেখানে তথ্যের ঘাটতি থাকে, সেখানে এই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ই আমাদের সঠিক পথের দিশা দেয়।
মানুষের পঞ্চইন্দ্রিয় আমাদের বাইরের জগতের সঙ্গে পরিচয় করায়, আর অন্তর্দৃষ্টি ও ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় আমাদের ভেতরের অসীম জগত এবং মহাবিশ্বের সূক্ষ্ম শক্তির সঙ্গে সংযোগ করিয়ে দেয়। এটি কোনো জাদু নয়, বরং মানব মস্তিষ্কের এক অপূর্ব এবং এখনো পুরোপুরি উন্মোচিত না হওয়া এক বিস্ময়কর ক্ষমতা।
বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড হলো একটি আনন্দদায়ক ও মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা, যেখানে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের চেনা পড়াশোনার বাইরে গিয়ে বিজ্ঞানকে নতুনভাবে ভাবতে এবং ভালোবাসতে শেখানো হয়। সাধারণ পরীক্ষাগুলোর মতো এতে গাদা গাদা তথ্য মুখস্থ করে লেখার প্রয়োজন হয় না; বরং দৈনন্দিন জীবনে দেখা বিজ্ঞান, যুক্তি এবং কৌতূহলকে কাজে লাগিয়ে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাই করা হয়।
বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের মূল উদ্দেশ্যগুলো নিম্নরূপ
১. কৌতূহল ও পর্যবেক্ষণশক্তি বাড়ানো: চারপাশে যা ঘটছে (যেমন: মেঘ কীভাবে হয়, ছায়া কীভাবে ছোট-বড় হয়), সেগুলোর পেছনে বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তাভাবনা তৈরি করা।
২. চিন্তার স্বাধীনতা: শুধু একটা নির্দিষ্ট উত্তর মুখস্থ না লিখে শিক্ষার্থী কীভাবে নিজের বুদ্ধি ও যুক্তির সাহায্যে সমস্যার সমাধান করছে, তা উৎসাহিত করা।
৩. বিজ্ঞানভীতি দূর করা: বিজ্ঞান যে কোনো ভীতিজনক বিষয় নয়, বরং এটি একটি মজার খেলা—শিশুদের মনে এই ধারণা তৈরি করা।
একটি সহজ উদাহরণের মাধ্যমে আমরা দেখি, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের প্রশ্ন কেমন সৃজনশীল হয়।
সাধারণ পরীক্ষা: পানি কত ডিগ্রিতে ফোটে? (মুখস্থবিদ্যা)
বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড: দুইটি সমান গ্লাসের একটিতে ঠান্ডা পানি ও অন্যটিতে গরম পানি রাখা হলো। কোন গ্লাসের বাইরের গায়ে পানির ফোঁটা জমবে এবং কেন? (পর্যবেক্ষণ ও যুক্তিনির্ভর)
সহজ কথায়, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড হলো শিক্ষার্থীদের ভেতর লুকিয়ে থাকা ছোট বিজ্ঞানীকে খুঁজে বের করার এবং তাদের চিন্তা করার ক্ষমতাকে নতুন আলো দেওয়ার একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎসব।
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার প্রধান মাধ্যম হলো বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড। এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর এবং বিভিন্ন জাতীয় বিজ্ঞান মেলাতেও অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ক্যাটাগরি সাধারণত ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণিরই হয়ে থাকে।
বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ছাড়াও জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর এবং মেলা কর্তৃপক্ষের আয়োজনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়, যা সরাসরি স্কুলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও পর্যবেক্ষণশক্তি বাড়ানোর উপযোগী ৫টি মজার নমুনা প্রশ্ন ও তাদের সহজ ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:
১. গ্লাসের বাইরে পানির ফোঁটা
প্রশ্ন: ফ্রিজ থেকে একটি ঠান্ডা পানির বোতল টেবিলে রেখে দিলে কিছুক্ষণ পর বোতলের বাইরের গায়ে পানির ছোট ছোট ফোঁটা জমে কেন?
উত্তর/ব্যাখ্যা: বাতাসের মধ্যে সবসময় খালি চোখে দেখা যায় না এমন জলীয় বাষ্প (পানির ভাপ) ঘুরে বেড়ায়। ঠান্ডা বোতলের সংস্পর্শে এলে বাতাসের সেই জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে ছোট ছোট পানির ফোঁটায় পরিণত হয়।
২. ছায়ার খেলা
প্রশ্ন: রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকলে সকালে তোমার ছায়া অনেক লম্বা দেখায়, কিন্তু দুপুরে ছায়া ছোট হয়ে যায় কেন?
উত্তর/ব্যাখ্যা: সকালে সূর্য থাকে আকাশের পাশে (হেলানো অবস্থায়), তাই আলো বাঁকাভাবে এসে পড়ার কারণে ছায়া লম্বা হয়। কিন্তু দুপুরে সূর্য ঠিক আমাদের মাথার ওপর থাকে, তাই আলো সোজা নিচে পড়ে এবং ছায়া ছোট হয়ে যায়।
৩. ভাসা ও ডোবার জাদু
প্রশ্ন: একটা ছোট লোহার পেরেক পানিতে ফেলে দিলে ডুবে যায়, কিন্তু কাঁচা ডিম লবণ পানিতে ভাসতে থাকে কেন?
উত্তর/ব্যাখ্যা: সাধারণ পানির তুলনায় লবণের পানির ঘনত্ব বেশি এবং তা ডিমকে উপরের দিকে বেশি ঠেলে দেয়। অন্যদিকে, লোহার ঘনত্ব পানির চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় তা ডুবে যায়।
৪. উদ্ভিদের খাবার তৈরি
প্রশ্ন: গাছের পাতাকে উদ্ভিদের রান্নাঘর বলা হয় কেন?
উত্তর/ব্যাখ্যা: মানুষ যেমন রান্নাঘরে খাবার তৈরি করে, গাছও তেমনি সূর্যালোক, বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং মাটি থেকে পানি নিয়ে তার পাতার ভেতরে নিজের খাবার (শর্করা) তৈরি করে।
৫. মোমবাতি নেভার কারণ
প্রশ্ন: একটা জ্বলন্ত মোমবাতিকে কাঁচের গ্লাস দিয়ে ঢেকে দিলে কিছুক্ষণ পর মোমবাতিটি নিভে যায় কেন?
উত্তর/ব্যাখ্যা: আগুন জ্বলতে অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। গ্লাস দিয়ে ঢেকে দিলে গ্লাসের ভেতরের বাতাস বা অক্সিজেন ফুরিয়ে যায়, আর অক্সিজেন ছাড়া আগুন জ্বলতে পারে না বলে মোমবাতি নিভে যায়।
এ ধরনের প্রশ্ন শিশুদের মুখস্থনির্ভরতার বাইরে গিয়ে চিন্তা করতে শেখায় এবং চারপাশের সাধারণ বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে উৎসাহিত করে।
রাশেদা আতিক রোজী : ইন্সট্রাক্টর, উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টার (ইউপিইটিসি), চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর।








