শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৪

বিদ্যুৎ খুঁটিতে তারের জঞ্জাল ও ফেস্টুনের দাপট

৭ দিনের ব্যবধানে ২ বার আগুন, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

তাইয়্যেব
৭ দিনের ব্যবধানে ২ বার আগুন, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

চাঁদপুরে বিদ্যুতের খুঁটিতে তারের জঞ্জাল ও ব্যানার-ফেস্টুন : সাত দিনের ব্যবধানে দুটি অগ্নিকাণ্ড, তীব্র আতঙ্ক

চাঁদপুর শহরের বিদ্যুতের খুঁটিগুলোতে দিন দিন বেড়েই চলেছে অপ্রয়োজনীয় তারের জঞ্জাল। পাশাপাশি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই খুঁটিতে ঝুলানো হচ্ছে বিভিন্ন কোচিং সেন্টার, প্রাইভেট শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতাদের শুভেচ্ছা বা বিজ্ঞাপনী ব্যানার-ফেস্টুন। এতে প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে শহরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। সম্প্রতি মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে শহরের গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্থানে এসব তারের জঞ্জাল থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটায় নতুন করে পথচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সকালে চাঁদপুর শহরের ভূমি অফিসের সামনে হকার্স মার্কেটের বিপরীতে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির তারের জঞ্জালে প্রথম আগুন লাগে। ভূমি অফিসের মতো স্পর্শকাতর ও জনবহুল স্থানের সামনে এমন ঘটনায় মুহূর্তেই পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় আক্কাস আলী রেলওয়ে একাডেমির প্রধান শিক্ষক গোফরান হোসেন বিষয়টি দেখতে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, ফলে সে যাত্রায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় এলাকাটি।

তবে এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র সাত দিনের মাথায় আরেক বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভূমি অফিস থেকে কয়েক শ' গজ দূরে মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের খুঁটিতে ফের আগুন লাগে। এ বিদ্যালয়ের আশেপাশে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সমাগম ঘটে। তাছাড়া কাছেই রয়েছে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, ইলেকট্রনিক্স ও ওষুধের দোকানসহ বেশ কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়রা জানান, ব্যস্ততম এ এলাকায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটলে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

ঘটনাস্থলে দেখা যায়, বৈদ্যুতিক তারের সাথে ওয়াইফাই, ইন্টারনেট, ডিস ও টেলিফোনের তার জড়িয়ে রয়েছে পেঁচিয়ে। এর ওপর যুক্ত হয়েছে কোচিং ও বিজ্ঞাপনের দাহ্য ব্যানার-ফেস্টুন। মাতৃপীঠ স্কুলের সামনে আগুন লাগার সময় ফেস্টুনগুলোতেও আগুন ধরে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

পৌরসভা থেকে মাঝে মাঝে এসব ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করা হলেও পরক্ষণেই তা আবার সাঁটানো হয়। চাঁদপুর জেলা প্রশাসন থেকেও বিদ্যুৎ খুঁটিতে ব্যানার ঝুলানো কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে এবং কোচিং সেন্টারের পরিচালকদের সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো সুফল মিলছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব খুঁটিতে আর্থিংয়ের সমস্যা দেখা দেয়, পাশ দিয়ে হাঁটতেও ভয় লাগে। কয়েক মাস আগে ‘দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে’ এ বিষয়ে খবর প্রকাশিত হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিদ্যুৎ বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্কুলটির অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এমন বিপজ্জনক খুঁটি থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সচেতন মহলের মতে, একই সড়কের পাশে পর পর দুটি স্থানে আগুন লাগার ঘটনা একটি বড় সতর্কবার্তা। বড় কোনো বিপর্যয় ঘটার আগেই দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঝুলন্ত তারের জঞ্জাল ও ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণসহ বিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্থায়ী সংস্কার চান চাঁদপুরবাসী।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়