শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২১

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৬২

আমার কাজ বিচার করে ভোটাররা পুরানবাজারের ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দেবেন

—তানিয়া ইশতিয়াক

চাঁদপুর কন্ঠ রিপোর্ট
আমার কাজ বিচার করে ভোটাররা পুরানবাজারের ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দেবেন

“আমি পদের লোভে নয়, কাজের ধারাবাহিকতায় সাধারণ মানুষের পাশে আছি”

— চাঁদপুরের পুরানবাজারকে আধুনিক পর্যটন ও মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নিয়ে ‘বিজয়ী’র প্রতিষ্ঠাতা তানিয়া ইশতিয়াক

উচ্চশিক্ষার পাট চুকিয়ে যুক্ত হয়েছিলেন শিক্ষকতা ও ব্যাংকিং পেশায়। কিন্তু করোনাকালের স্থবিরতা ও মানবিক তাগিদ তাঁকে টেনে এনেছে সমাজসেবার প্রাঙ্গণে। ব্যাংকের নিরাপদ চাকরি ছেড়ে হয়ে উঠেছেন একজন স্বাধীন উদ্যোক্তা, সফল প্রশিক্ষক এবং সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের আশ্রয়স্থল। তিনি তানিয়া ইশতিয়াক—শিক্ষিত, কর্মঠদের সামাজিক সংগঠন ‘বিজয়ী’-এর প্রতিষ্ঠাতা। চাঁদপুর পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের দূরদর্শী উন্নয়ন ভাবনা, পুরানবাজারকে modern পর্যটন ও মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা এবং সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নিয়ে সম্প্রতি মুখোমুখি হয়েছেন চাঁদপুর কণ্ঠের। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন চাঁদপুর কণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার শেখ আল মামুন।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কেন সংরক্ষিত (১, ২, ৩) ওয়ার্ডে চাঁদপুর পৌরসভার কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে চান? আপনার পরিচয় সম্পর্কে বলুন।

তানিয়া ইশতিয়াক : চাঁদপুর কণ্ঠকে ধন্যবাদ। আমি মনে করি, পৌরসভার কাউন্সিলর পদটি কেবল ক্ষমতার কোনো আসন নয়; এটি জনগণের সেবক হওয়ার এবং তাদের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর আইনি ও সামাজিক মাধ্যম। আমি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষের সঙ্গে মিশে আছি, তাদের সমস্যাগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছি এবং নিজ উদ্যোগে সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি।

আমি মূলত দুটি কারণে প্রার্থী হতে যাচ্ছি—প্রথমত, এলাকার মানুষের নাগরিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা শতভাগ নিশ্চিত করা; দ্বিতীয়ত, আমাদের ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক, মাদকমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ আদর্শ ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলা। দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে যেসব ভোগান্তি পোহাতে হয়, আমি সেই ব্যবস্থার টেকসই পরিবর্তন চাই। তরুণদের কর্মসংস্থান, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং প্রবীণদের সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমার মূল লক্ষ্য।

আমার পরিচয় আমি পুরানবাজারের মানুষ। ইংরেজি সাহিত্যে সম্মান ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে শিক্ষকতা ও ব্যাংকিং খাতে কাজ করেছি। কিন্তু করোনার কঠিন সময়ে চারপাশ যখন স্থবির, তখন নিজের ভেতরের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে চাকুরির মায়া ত্যাগ করে স্বাধীন উদ্যোক্তা হই। এরপর অবরুদ্ধ নারীদের স্বাবলম্বী করতে হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করি। আজ আমার হাত ধরে হাজারো নারী সফল উদ্যোক্তা হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে আমি পুরানবাজারের খান বাড়ির মরহুম ডা. মিজানুর রহমান খানের কনিষ্ঠ পুত্র, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব আশিক খানের সহধর্মিণী। পারিবারিক ঐতিহ্য আর স্বামীর সামাজিক কাজের অনুপ্রেরণাকে সঙ্গী করে আমি দু কন্যা সন্তানকে নিয়ে সমাজসেবার পথ চলছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচিত হলে আপনার ওয়ার্ডের জন্য প্রথম তিনটি অগ্রাধিকারমূলক কাজ কী হবে?

তানিয়া ইশতিয়াক :
১. পুরানবাজারের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার, পরিচ্ছন্ন পর্যটন নগরী ও কর্মসংস্থান; নিরাপত্তা ও ব্যবসায়বান্ধব পরিবেশ : পুরানবাজারকে সিসিটিভির আওতায় আনা। চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। যানজট নিরসনে সুনির্দিষ্ট পার্কিং এবং ‘স্মার্ট লোড-আনলোড জোন’ করা। এছাড়া ব্যবসায়ীদের সরকারি অনুদান ও লাইসেন্স জটিলতা নিরসনে ‘ব্যবসায়ী ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করা।
পর্যটন ও পরিচ্ছন্নতা : মেঘনা নদীর পাড়ে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে, বসার স্থান ও লাইটিং করা। যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধে নাইট-শিফট পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং বর্জ্য রিসাইক্লিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া।
কর্মসংস্থান : মেঘনাকেন্দ্রিক পর্যটনকে কেন্দ্র করে তরুণদের জন্য ফুড কোর্ট ও হস্তশিল্পের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হবে। বেকার তরুণ-তরুণীদের বিনামূল্যে কম্পিউটার, ফ্রিল্যান্সিং, ড্রাইভিং এবং নারীদের সেলাই ও বাটিকের ট্রেনিং দিয়ে 'পৌর নারী উদ্যোক্তা মার্কেট' বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হবে।

২. শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা : ঝরে পড়া রোধে ‘পৌর শিক্ষা সহায়ক তহবিল’ থেকে উপবৃত্তি এবং একটি আধুনিক ফ্রি ওয়াই-ফাই সমৃদ্ধ ডিজিটাল লাইব্রেরি স্থাপন করা হবে। প্রতি মাসে অভিজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং মা ও শিশুদের জন্য ‘হেলথ কার্ড’ ব্যবস্থা চালু করা হবে। বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা যেন ঘুষ-দালালামুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করবো। পাশাপাশি নারী নির্যাতন রোধ ও আইনি সহায়তার জন্য বিশেষ সেল এবং সরাসরি সমস্যা শুনতে প্রতি মাসে পাড়া-মহল্লায় ‘উঠান বৈঠক’ করা হবে।

৩. মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং ও অপরাধমুক্ত নিরাপদ ওয়ার্ড : কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয়ে ‘অ্যান্টি-ড্রাগ স্কোয়াড’ গঠন, সিসিটিভি স্থাপন এবং মাদকমুক্ত করতে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। বাল্যবিবাহ ও যৌতুক প্রতিরোধে গোপন হেল্পলাইন, কাজীদের সঙ্গে বৈঠক এবং অপরাধীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তরুণদের মানসিক বিষণ্ণতা দূর করতে প্রতি মাসে ‘ফ্রি মেন্টাল হেলথ ক্যাম্প’, অভিভাবকদের জন্য সচেতনতামূলক কর্মশালা এবং কিশোরদের খেলাধুলার ব্যবস্থা করা হবে। নারীদের সুরক্ষায় বখাটেদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : পুরান বাজারের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী এবং তা সমাধানে আপনার পরিকল্পনা কী?

তানিয়া ইশতিয়াক : পুরানবাজারের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদার অভাব, বেকারত্ব (বিশেষ করে নারীদের কাজের সুযোগের অভাব), চিকিৎসাসেবার সংকট এবং তরুণদের মাদকের ঝুঁকি।

আমি ২০২০ সাল থেকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অর্থায়নে এসবের সমাধানে কাজ করে যাচ্ছি, বিনামূল্যে হাজারো নারীকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করেছি। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও আই ক্যাম্পের মাধ্যমে ছানি ও নেত্রনালী অপারেশন, ওষুধ ও চশমা বিতরণ করেছি। যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ ও কাউন্সিলিং করছি। ঝরে পড়া রোধে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের ড্রেস, ব্যাগ ও শিক্ষা সামগ্রী দিয়েছি। শ্রমজীবী মানুষদের জন্য ভ্যানগাড়ি, সেলাই মেশিন, রেইনকোট, গৃহনির্মাণ সামগ্রী ও ত্রাণ বিতরণ করে আসছি।

এককথায়—কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করার মাধ্যমেই আমি এলাকার বিদ্যমান সমস্যাগুলো দূর করতে নিরলসভাবে কাজ করছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : জনগণ অন্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে আপনাকে কেন ভোট দেবেন?

তানিয়া ইশতিয়াক : জনগণ আমাকে ভোট দেবেন, কারণ আমি পদের লোভে নয়, কাজের ধারাবাহিকতায় ভোটের মাঠে এসেছি। আমার কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি নেই; দল-মত নির্বিশেষে আমি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করি।

আমার শ্বশুরকুলের তিন পুরুষ পুরান বাজারবাসীকে নিবেদন ও ভালোবাসার সাথে সেবা দিয়েছেন। ভোটাররা আমায় বেছে নেওয়ার কারণ :
অভিজ্ঞতা ও দৃশ্যমান কাজ : 'বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থা' ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে বছরের পর বছর আমি শিক্ষা, চিকিৎসা ও স্বাবলম্বীকরণে যে কাজ করেছি, তা এলাকার মানুষ স্বচক্ষে দেখেছেন।
স্থায়ী সমাধানের রোডম্যাপ : কেবল সাময়িক ত্রাণ নয়, নারীদের উদ্যোক্তা বানানো এবং যুবসমাজকে মাদকমুক্ত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্পষ্ট রূপরেখা আমার আছে।
পরীক্ষিত বন্ধু : দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আমি পুরানবাজারের ১ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা। করোনা, বন্যা বা শীতের তীব্রতায় সর্বদা মানুষকে পাশে পেয়েছি।

আমি বিশ্বাস করি, সম্মানিত ভোটাররা কোনো ফাঁপা প্রতিশ্রুতিতে নয়, বরং আমার কাজের বিচারে পুরানবাজারের ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবেন।

চাঁদপুর কণ্ঠ : শেষ কথা বা বিশেষ কোনো বার্তা থাকলে বলতে পারেন।

তানিয়া ইশতিয়াক : “আমার নাম এই বলেই খ্যাত হোক যে, আমি পুরানবাজারের লোক”—মাটির প্রতি এই গভীর টান ও ভালোবাসা নিয়েই আমি পুরানবাজারবাসীর কল্যাণে নিজেকে সঁপে দিয়েছি।

আগামী প্রজন্মের জন্য একটি আধুনিক, নিরাপদ, সুস্বাস্থ্যকর ও উন্নত ব্যবসাবান্ধব পর্যটন নগরী গড়ে তুলতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আসুন, আমরা সবাই মিলে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আমাদের প্রিয় পুরানবাজারকে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলি।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়