শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫  |   ৩০ °সে
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:৪২

জীবন চলুক জীবনের গতিতে

সেহজাদি আরিয়া
জীবন চলুক জীবনের গতিতে

এক প্রহর আমার আনন্দে কাটলেও

আরেক ঋতু কেটে যায় আমার বিষণ্নতার স্বরে।

আমার এ একাকিত্ব আমাকে রোজ রোজ নতুন করে আবিষ্কার করে।

আমায় রাত কাটাতে হয় টং দোকানের আলোয়,

নয়তোবা রেস্তোরাঁর সোডিয়াম আলোয়।

আমায় কেউ বলেনি আজকে রাতের চাঁদটার মতো আমার খোকাটা খুব সুন্দর।

কেউ আদর-স্নেহ করে ঘুম পাড়ানি, মাসি-পিসির ছড়া শোনায়নি।

কাজলাদিদির বাঁশ বাগানের গল্প বলে হাত বুলিয়ে দেয়নি কেউ মাথায়।

না ঘুমালে ভাল্লুকের ভয় দেখানোর মানুষও পাইনি জীবনে।

আমি জোনাকির আলোয়

বা ঘনঘোর আঁধারে ঘুমিয়ে পড়ি।

ভয় নামক শব্দ আমাকে ছুঁতে পারে না।

পরিকল্পিতভাবে জীবন এগিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ

আমি কখনোই গ্রহণ করতে পারিনি।

আমি আমার নিয়মে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি।

যার ঠিকানা শুধুই অস্থায়ী।

রাতের আঁধারে খোলা আকাশের নিছে সর্ব দিকহারা

আমার দীর্ঘশ্বাসগুলো ফেলি।

আমার দম যেন তখন ক্রমে ফুরিয়ে আসে।

আমি অনাহারে-অনাদরে প্রকৃতির নিয়মে বড় হচ্ছি!

খারাপ কাজে লিপ্ত হচ্ছি কিংবা সন্ত্রাসের পরিবেশে মানুষ হচ্ছি!

এসব দেখার মতো নেই কোন আপনজন।

আমাদের সমাজ

লাঞ্ছিত, অপমানিত করতে পারে!

কিন্তু ভালো জীবন দিতে পারে না।

আমি পিতৃহীন, ঝড়ে পড়া পাতার মতো।

কেন আমি তো আকাশ থেকে পড়িনি!

আমাকে আনা হয়েছে বলে এসেছি!

অসামাজিক কার্যকলাপে সামান্য মোহে পড়ে

এ পাপকর্ম করার সময় খেয়াল ছিল না?

যে কি করতেছি আমরা,

অথচ তোমাদের কৃতকর্মের

ফল আমাকে একা ভোগ করতে হচ্ছে!

পোহাতে হচ্ছে হাজার রকমের জ্বালা-যন্ত্রণা।

কঠোর থেকে কঠোরতম এখন আমার জীবন।

ভাল কাপড় পরিধান করা দূরে থাক

দু-মুঠো ভাতও খেতে পারি না রোজ।

আমার অভিযোগ, অভিমান

এগুলো দেখার নেই কোন প্রিয়জন।

তাই এখন জীবন নিয়ে কোন ভাবনা-চিন্তা নেই,

জীবন চলুক জীবনের গতিতে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়