প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৫৮
আরবি শিক্ষার জন্য হঠাৎ করে আলোচনার কাচারি ঘর !

আরবি শিক্ষা তথা মক্তব্য পড়ার জন্য হঠাৎ করে কাছারি ঘরের নাম আলোচনা উঠে এসেছে। গত কয়েকদিন ধরে দেশে শিশুদের উপর যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে কেন্দ্র আরবী পড়ার জন্য কাছারি করে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে উঠছে । এক সময়ের বাড়ি বাড়ি থাকা কাছারি ঘর এখন অনেকটা বিলুপ্তির পথে।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আর খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই দশক আগে ও বাড়ি বাড়ি কাচারি ঘর ছিলো। এতে একজন হুজুর থাকতেন যিনি বাড়ির সকল শিশুদের বক্তব্যে আরবী পড়া নামাজ শিক্ষা দিতেন। এ কাচারি ঘরের হুজুর কাচারিতে থাকলে ঐ সকল বাড়ির মহিলা বা নারীরা বাড়ির সামনে আসতো না পর্দা মানার কারনে। বহু বাড়ির বিবাহরের মতো গুরুত্বপূর্ন কাজ ও কাচারির হুজুরে করতো। বাড়ির এক ঘর থেকে একদিন ঘর থেকে হুজুরের জন্য টিফিন ক্যারিয়ারে করে নাস্তা খানা পিঠা পাযেস আসতো। বলা চলে যে দিন যে পরিবার থেকে কাচারির হুজুরের জন্য খানা আসতো সেদিন সেই পরিবার হুজুরকে সম্ভাব্য ভালো খানা দিতো আর সেই হিসেবে হুজুরের জন্য সবসময় ভালো খাবার টুকুই বরাদ্ধ থাকতো। বাড়ির নারী পুরুষ নারী যুবতী সবাই হুজুরকে শ্রদ্ধা আর সন্মান করতো। সময়ের কারনে হউক আর কোন না কোন কারনে কাচারি ঘরের সাথে সাথে সব কিছুই বিলুপ্ত হয়ে পড়েছে।
এম কে জেড টুটুল নামের এক গনমাধ্যমর্মী" আবারো বাড়ি বাড়ি কাচারি তৈরি করা হউক। বাড়ির শিশুরা কাচারিতে আরবী পড়বে।" সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে একটি ষ্টাটার্স দিলে ৬ ঘন্টায় ৯৬ কমেন্ট, ৪১ শেয়ার ৫৫৫ টি লাইক লাভ পড়েছে। সকল কমেন্টকারী আরবী পড়ার ক্ষেত্রে কাচারি পড়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
ইতিহাসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাড়ির সামনে থাকা কাচারি ঘরে বেতনভূক্ত হুজুরকে বলা হতো জায়গীর হুজুর। হউক সেই হুজুর বয়স্ক কিংবা স্কুল কলেজ বা মাদরাসা পড়া ছাত্র। বহু ক্ষেত্রে একটু দুর সম্পর্কের আত্বীয় বাড়িতে আসরে বসত ঘরে রাতে ঘুমাতে দিতো না, সেই আত্বীয় বাড়ির কাচারিতে রাত যাপন করতে হতো। অনেক ক্ষনে মুসাফিররা কাচারি ঘরে রাত যাপন করতো। অনেক ক্ষেত্রে শালিশ, ছোট খাট বিবাদ মুরুব্বীগন কাচারিতে বসে সমাধান করতেন। মূলত কাচারি ঘর ছিলো শিশুদের আরবী শিক্ষার মূল ব্যবস্থপনার ঘর। সম্প্রতি সময় কিছু কিছু কুরুচিপূর্ন
বক্তির কারনে মাদরাসাতে শিশুরা যৌন নীপিড়নের বিষয়টি হরহামেশা প্রকাশ্যে চলে আসাতে আরবী শিক্ষার আতুড়ঘর বিলুপ্তপ্রায় কাচারি তৈরির বিষযটি আলোচনাতে চলে আসছে।
হাজীগঞ্জের বাকিলা ইউনিয়নের গোগরা গ্রামের কাতার প্রবাসী জসিম উদ্দিন হাওলাদার (৪৫) জানান আমাদের বাড়ির সামনে চৌচালা কাচারি ঘরে আমরা আরবী পড়া ও নামাজ শিক্ষা শিখেছি। ভোরবেলা হালকা নাস্তা করে বাড়ির ছোট ছোট সব ছেলে মেয়েরা পাশাপাশি বসে বয়স ভেদে সুরা, কায়দা, আমপারা, কোরআন শরীফ পড়তাম। হুজুরে ঘুরে ঘুরে পড়া বলে দিতেন আবার পড়া নিতেন। হুজুরকে আমরা আমাদের বাড়ির সবাই ফেরেশতাতুল্য মনে করতেন। এ কাচারিতে আমাদের দাদা বাবা চাচা ফুফুরা সবাই আরবী পড়েছে। সেই কাচারিটি এখনো আছে তবে ভেঙ্গে পড়া উপক্রম হয়েছে।
হাজীগঞ্জের উপজেলার কালোচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন (৫৫) জানান, আমরা ছোটবেলা বাড়ির সামনে কাচারি ঘরে আরবী পড়া পড়তাম। শিশুদেরকে আরবি পড়ার জন্য কাছারি ঘরে বিকল্প নেই। আমার মনে হয় বাড়ি বাড়ি কাচারি ঘর তৈরি সময়ের দাবী হয়ে উঠছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন উপজেলা ফিল্ড অফিসার হাসান মজুমদার জানান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত ইসলামিক পাঠাগার গুলি অনেকটা কাচারি ঘরের বিকল্প। সেখানে ভোরবেলা আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো বাচ্ছাদের আররী শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা শিক্ষা দিয়ে থাকে । পূর্বের মত বাড়ি বাড়ি কাচারি ঘর প্রতিষ্ঠা হলে আরবী শিক্ষা আরো প্রসারিত হবে।








