মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৯

দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আশার আলো

ইনডোর স্টেডিয়ামের কাজ ৯৫% শেষ, ডিসেম্বরের মধ্যেই হস্তান্তরের আশা

আব্দুল্লাহ আল মামুন
দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আশার আলো

চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনে উন্মোচিত হতে যাচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। আউটার স্টেডিয়াম, ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিংপুল, লন টেনিস কোর্ট ও বাস্কেটবল কোর্টসহ আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণকাজ এখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এসব প্রকল্পের কাজে গতি ফেরায় স্বস্তি ও আশাবাদ প্রকাশ করেছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সংশ্লিষ্টরা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুই মাসের মধ্যেই ইনডোর স্টেডিয়ামসহ প্রধান স্থাপনাগুলোর কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে সাঁতার, টেনিস, বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিসসহ নানা খেলায় স্থানীয় খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ বহুগুণ বাড়বে।

দীর্ঘ স্থবিরতার পর কাজে ফিরলো গতি

জেলা ক্রীড়া সংস্থা সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ক্রীড়া অঞ্চল’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রায় পাঁচ বছর আগে এই উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রায় ১৮ মাস কাজ পুরোপুরি বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থগিত কাজগুলো পুনরায় চালু করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছেন।

কোন্ প্রকল্পের কাজ কতদূর?

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন জনু জানান, বন্ধ থাকা কাজগুলো এখন পুরোদমে চলছে। ইতোমধ্যে সুইমিংপুল, লন টেনিস কোর্ট ও বাস্কেটবল কোর্টের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, ইনডোর স্টেডিয়ামের কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ পর্যায়ে।

তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি আগামী দু মাসের মধ্যেই এসব অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হবে। এরপরই স্টেডিয়াম জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।”

আউটার স্টেডিয়ামের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, “আউটার স্টেডিয়ামের কাজও প্রায় শেষের দিকে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা বিলম্ব হলেও আশা করা যাচ্ছে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করে পুরো স্টেডিয়াম আমাদের বুঝিয়ে দিতে পারবে।” এসব স্থাপনা চালু হলে চাঁদপুর থেকে নতুন নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ইনডোর স্টেডিয়ামে যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকছে

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নবনির্মিত ইনডোর স্টেডিয়ামে তিনটি ব্যাডমিন্টন কোর্ট, টেবিল টেনিস, হ্যান্ডবল ও দাবা খেলার পূর্ণাঙ্গ সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে প্রতিকূল আবহাওয়াতেও সারা বছর নিয়মিত অনুশীলন ও টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, অনুমোদিত নকশা ও চূড়ান্ত প্রকল্প বিবরণী অনুযায়ী ইনডোর স্টেডিয়ামে অন্যান্য ইনডোর গেমসের যুক্ততার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

এদিকে আউটার স্টেডিয়াম এলাকা সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মাদ্রাসা রোডের দিকে কয়েকটি ছোট ছোট প্রবেশপথ খোলা থাকায় সাধারণ মানুষ অনায়াসেই ভেতরে যাতায়াত করছেন। নির্মাণকাজ চলাকালীন স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ও ভেতরের মূল্যবান সামগ্রী সংরক্ষণ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে সেখান থেকে কিছু মালামাল চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। স্টেডিয়ামের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

ক্রীড়ার পাশাপাশি সামাজিক অঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব

প্রকল্পগুলো পুরোপুরি চালু হলে চাঁদপুরের শিশু-কিশোর ও তরুণদের নিয়মিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণের পথ উন্মুক্ত হবে। সুইমিংপুল চালুর ফলে শিশু-কিশোরদের সাঁতার শেখার সুযোগ যেমন তৈরি হবে, তেমনি তা পানিতে ডুবে মৃত্যুর মতো দুর্ঘটনা কমাতেও বড় ভূমিকা রাখবে। টেনিস ও বাস্কেটবল কোর্ট নতুন নতুন অ্যাথলেট তৈরিতে সাহায্য করবে।

স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগীরা মনে করছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পগুলো সময়মতো শেষ হলে চাঁদপুর জেলা কেবল জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্যই প্রস্তুত হবে না, বরং তরুণদের সুস্থ বিনোদন ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে ধরে রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়