মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪২

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৭৯

বাবার আদর্শ ধারণ করে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের পাশে থাকতে চাই

-----কাউন্সিলর প্রার্থী নাছির আহম্মদ ভূঁইয়া

কবির হোসেন মিজি
বাবার আদর্শ ধারণ করে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের পাশে থাকতে চাই

আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ী মো. নাছির আহম্মদ ভূঁইয়া। এলাকার দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চনা, জলাবদ্ধতা, অনুন্নত রাস্তাঘাট, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও মাদকের বিস্তারকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এসবের সমাধানে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় নাগরিক সুবিধার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বর্ষা মৌসুমে এখনো কোথাও কোথাও বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে চলাচল করতে হয় এলাকাবাসীকে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার অভিজ্ঞতা থেকে এবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে ওয়ার্ডের উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে চান তিনি। নির্বাচিত হলে মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা, রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এই প্রার্থী। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন, নিজের নির্বাচনী ভাবনা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনসেবার প্রত্যাশা নিয়ে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের মুখোমুখি হয়েছেন কাউন্সিলর প্রার্থী মো. নাছির আহম্মদ ভূঁইয়া।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কেন কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন? আপনার পরিচিতি সম্পর্কে একটু বলুন।

নাছির আহম্মদ ভূঁইয়া : আমি মো. নাছির আহম্মদ ভূঁইয়া। পেশাগত জীবনে একজন ব্যবসায়ী। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। আমার বাবা মরহুম মো. বাচ্চু ভূঁইয়া বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (চাঁদপুর) চাকরিজীবী ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন চাঁদপুর জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং সিবিএর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন। জীবদ্দশায় তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তাঁর কাছ থেকেই মানুষের পাশে থাকার শিক্ষা পেয়েছি। আমার মা এখনো জীবিত আছেন। আমরা পাঁচ ভাই ও দু বোন। সবাই বিবাহিত এবং নিজ নিজ পরিবার নিয়ে ভালো আছি। আমার স্ত্রী নাহিদ খানম রেখা একজন গৃহিণী। আমাদের তিন সন্তান। বড় ছেলে আবদুল্লাহ আল তাওহিদ রাফিন ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছে। বড় মেয়ে নুসরাত আনাভিয়া মাদ্রাসার নূরানী বিভাগে পড়ছে এবং ছোট মেয়ে নুসাইবা ইসলামের বয়স পাঁচ বছর।

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মূল কারণ হলো, চাঁদপুর পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ডটি সাবেক তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নের একটি অংশ। প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর আগে এটি পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হলেও আমার দৃষ্টিতে এখানে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। এখনো বর্ষা মৌসুমে এলাকাবাসীকে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। দীর্ঘদিন ধরে আমি এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করছি। এলাকার চেহারা বদলানো, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং অবহেলিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হতে চাই। আমার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দলের নেতা চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ভাই যদি আমার ওপর আস্থা রাখেন এবং ওয়ার্ডবাসী আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচিত হলে আপনার ওয়ার্ডের জন্য প্রথম তিনটি অগ্রাধিকারমূলক কাজ কী হবে?

নাছির আহম্মদ ভূঁইয়া : নির্বাচিত হলে প্রথমেই তিনটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবো। প্রথমত, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধ করে নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করবো। তরুণদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে উদ্যোগ নেবো। দ্বিতীয়ত, ওয়ার্ডের জরাজীর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কার এবং পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করবো। তৃতীয়ত, এলাকাবাসীর জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করবো। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার চেষ্টা থাকবে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার ওয়ার্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী এবং তা সমাধানে আপনার পরিকল্পনা কী?

নাছির আহম্মদ ভূঁইয়া : আমার মতে, ১১নং ওয়ার্ডের বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে জলাবদ্ধতা, অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ এবং মাদকের বিস্তার। পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরও এলাকার বিভিন্ন স্থানে নাগরিক সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আমি নির্বাচিত হওয়ার আগেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ড্রেন পরিষ্কার, রাস্তাঘাট মেরামত এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করেছি।

নির্বাচিত হলে পরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেবো, যাতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমিয়ে আনা যায়। মাদক ও অপরাধ প্রতিরোধে প্রতিটি পাড়ায় সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেবো। পাশাপাশি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে স্থায়ী কালভার্ট বা ব্রিজ নির্মাণ এবং আধুনিক পাকা রাস্তা তৈরির জন্য কাজ করবো। এসব উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা নেওয়া হবে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : ভোটাররা কেন অন্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে আপনাকেই ভোট দেবেন বলে আপনি মনে করেন?

নাছির আহম্মদ ভূঁইয়া : আমি মনে করি, এলাকার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার অভিজ্ঞতা আমার পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আমি শুধু নির্বাচনের সময় নয়, দীর্ঘদিন ধরেই ১১নং ওয়ার্ডের মানুষের সঙ্গে মিশে আছি। এলাকার ড্রেন পরিষ্কার রাখা, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন রাখা এবং রাতের অন্ধকার দূর করতে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা করার মতো বিভিন্ন কাজে সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছি। মহামারি ও দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। এমনকি মৃত ব্যক্তির দ্রুত দাফন-কাফনের ব্যবস্থায়ও সহযোগিতা করেছি।

আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। আমার বাবা সারাজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। আমিও তাঁর আদর্শ ধারণ করে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের পাশে থাকতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচিত হলে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করবো। ওয়ার্ডের উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমার লক্ষ্য। তবে ভোটাররা তাদের বিবেচনা অনুযায়ী প্রার্থী নির্বাচন করবেন। আমি তাদের আস্থা অর্জন করতে চাই কাজের মাধ্যমে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরের চারটি প্রশ্নের বাইরে আপনার আর কোনো বক্তব্য থাকলে উল্লেখ করতে পারেন।

নাছির আহম্মদ ভূঁইয়া : আমি ১১নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও দোয়া চাই। আমার প্রত্যাশা, এলাকাবাসী ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের সমস্যা, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং নাগরিক সেবার বিষয়গুলো বিবেচনা করে তাদের সিদ্ধান্ত নেবেন। আমি নির্বাচিত হই বা না হই, মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে চাই। আর নির্বাচিত হলে দলমত-নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করবো। এলাকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। মানুষের ভালোবাসা ও আস্থাই আমার পথচলার প্রেরণা।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়