প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৫৭
গভীর রাতে চলে মাটি চুরির মহোৎসব
আদালতে মামলা করেও রক্ষা করা যাচ্ছে না ফসলি জমির মাটি
অভিযোগ পেয়েও পুলিশের নীরব ভূমিকা!

ফরিদগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র ফসলি জমির মাটি লুটের মহোৎসব চলছে। শুষ্ক মৌসুমে ইট-ভাটার মাটির জন্যে জমির উর্বর টপসয়েল, দিঘি, পুকুর, খাল এমনকি ফসলি জমির মধ্যস্থান থেকে পর্যন্ত কখনও দিনে, কখনও রাতের আঁধারে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে এক শ্রেণীর মানুষ। ইট-ভাটার মাটি ক্রয় বিক্রয়ে গড়ে উঠেছে এক শ্রেণীর প্রতারক চক্র। তারা ফসলি মাঠের এক অংশের মাটির জন্যে নষ্ট করে পুরো মাঠ। এতে অনেককে বাধ্য হয়েই জমির মাটি তুলে দিতে হয় প্রতারক চক্রের হাতে।
|আরো খবর
জানা যায়, এই মাটি কেনা-বেচার জন্যে গড়ে ওঠা প্রতারক চক্রের সদস্যদের আধিপত্য বিস্তারে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী অফিসাররা দিনে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দিলে তারা আবার রাতে মাটি কাটে।
ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, রাতে প্রশাসন তৎপর থাকলে মাটি চুরি রোধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব। উপজেলার বৈচাতলি গ্রামে রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি কেটে অন্যান্য জমির ফসল নষ্ট করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ নিজ জমির মাটি চুরি রুখতে মো. সিরাজুল ইসলাম শেখ, উপজেলার কামতা বাগপুর গ্রামের ভিটির মাটি চুরি রোধে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার জন্যে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে ফরিদগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) রাত ৮টায় ১৪৫ ধারা জারির পর অপর পক্ষ ২০-২৫ ট্রাকযোগে দ্রুত মাটি চুরি করতে গেলে সিরাজুল ইসলাম ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন ও এএসআই জুয়েলকে মোবাইল ফোনে অবগত করলে পুলিশ অপর পক্ষকে রাত ২টা পর্যন্ত সময় দেয়। এতে অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন গং অধিকাংশ মাটি নিয়ে যায়।
ফরিদগঞ্জ থানার এএসআই জুয়েলের কাছে ১৪৫ ধারা ভঙ্গ করে মাটি চুরির বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, শাহাদাত মাটি নিচ্ছে না। আমি কথা বলেছি, তাদের নিষেধ করেছি। তখনও মাটি চুরি চলমান রয়েছে জেনে তাকে আবার অবগত করলে তিনি জানান, আমাকে বলেছে কাজ বন্ধ করবে। আপনি সরজমিনে গিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওসি স্যার তাকে ফোর্স না দিলে তিনি যেতে পারবেন না। ওসি স্যারের নির্দেশনা ব্যতীত আমি যেতে পারবো না। তাদের বলেন জরুরি সেবা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিতে, তাহলে আমি ডিউটি অফিসারকে বলে ফোর্স পাঠাবো। অপরদিকে তার সাথে কথা বলার ১ মিনিট পর রাত সোয়া ১২টার সময় থানার অফিসার ইনচার্জ হেলাল উদ্দিনের কাছে ১৪৫ ধারা ভঙ্গ করে মাটি চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে এএসআই জুয়েলকে পাঠানো হয়েছে, তার সাথে যোগাযোগ করতে হবে। বাস্তবে জুয়েল যায়নি, সে বলেছে ৯৯৯-এ ফোন দিতে। এ কথা বললে অফিসার ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন বলেন, সে যেতে না পারলে আমাকে তো জানাবে। সে কেনো নির্দেশ অমান্য করলো খোঁজ নিচ্ছি।
ফসলি জমির টপসয়েল কাটার বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার জানান, দিনের বেলায় আমাদের উপ-সহকারী কৃষি অফিসাররা প্রতিটি ইউনিয়নে তৎপর থাকে বিধায় চক্রের সদস্যরা রাতের আঁধারে মাটি নিয়ে যায়।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








