প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৮
লক্ষ্মীপুরে মহিষ চুরি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর চরাঞ্চলে গরু-মহিষ চুরির ঘটনা বেড়েই চলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি চক্র লক্ষ্মীপুর থেকে গরু-মহিষ নিয়ে ভোলার চরে যায়, আবার ভোলা থেকে চুরি করা মহিষ এনে লক্ষ্মীপুরের চরে রাখে। এতে বাধা দিতে গেলে হামলার শিকার হচ্ছেন খামারিরা।
|আরো খবর
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (৩১ জুলাই ২০২৬) রাতে ভোলা থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের পাঁচটি মহিষ এনে চর মেঘায় একটি বাথানের পাশে রাখা হয়। পরে সেগুলো একটি মহিষের পালের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
গত বুধবার ভোরে একই এলাকায় মহিষ চুরিতে বাধা দিতে গেলে শাহজাহান, জুয়েল, জহির, নবী, নিজাম, কাদির ও রুবেল আহত হন। পরে তাদের লক্ষ্মীপুর ও ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলাকারীরা মহিষ ছাড়াও নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, সীমান্তবর্তী চর হওয়ায় লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও বরিশালের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ের অভাবে চোরচক্রের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। কোস্টগার্ডকে জানানো হলেও অনেক সময় কার্যকর অভিযান হয় না বলেও অভিযোগ তাদের।
সম্প্রতি চররমনী মোহন ইউনিয়নের তোফায়েল আহম্মদের পাঁচটি, মেঘার চরের মতিন ব্যাপারীর ছয়টি, কৃষক শাহীনের একটি এবং মজিব উল্যার একটি মহিষ চুরি হয়েছে। পাশাপাশি গরু চুরির ঘটনাও ঘটছে।
স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে চোরাই গরু-মহিষ কেনাবেচার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
চররমনী মোহন ইউনিয়ন সৈনিক লীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। একইভাবে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবুল বাশারও অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। অভিযোগের বিষয়ে কৃষক দলের নেতা সাদ্দাম হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অপর অভিযুক্ত রাসেল খাও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোলা পুলিশের সঙ্গেও সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্যাপশন : লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর চরাঞ্চলে চুরি হওয়া মহিষের একটি পাল।








