সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৫৮

বৃষ্টিতে স্বস্তির পরশ

মো. মিজানুর রহমান
বৃষ্টিতে স্বস্তির পরশ

কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরম আর তাপপ্রবাহের দাপটের পর অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টিতে ভিজেছে চাঁদপুর। রোববার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যার আগ থেকে চাঁদপুর শহর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে বৃষ্টি নগরজীবনে এনে দেয় স্বস্তি। যদিও কোথাও কোথাও সাময়িক ভোগান্তিও তৈরি হয়।

আসরের নামাজের পর থেকেই চাঁদপুরের আকাশে জমতে থাকে কালো মেঘ। এক পর্যায়ে বিকেলেই নেমে আসে সন্ধ্যার আবহ। কিছুক্ষণ পর শুরু হয় তুমুল ঝড় ও বৃষ্টি, যা দ্রুত ভারী বর্ষণে রূপ নেয়। সঙ্গে ছিলো বিদ্যুৎ চমকানো ও বজ্রপাত এবং বিদ্যুৎ বিপর্যয়। ঝড়-বৃষ্টির সময় থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজারে বিদ্যুতের দেখা মেলেনি।

এদিকে বিকেলে চাঁদপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া সোনার তরী-৩ লঞ্চ ঝড়ের কবলে পড়ে মেঘনার চরে আটকা পড়ে। রাতে সোনার তরী-৪ লঞ্চের সাহায্যে আটকে পড়া লঞ্চটিকে উদ্ধার করা হয়। ঝড়ের কবলেপড়া যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

টানা কয়েকদিন ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকা তাপমাত্রায় হাঁসফাঁস করছিলো শহরবাসী। সেই ক্লান্তির মধ্যে বৈশাখের এই বৃষ্টি অনেকের কাছে যেনো স্বস্তির বার্তা হয়ে আসে। রাস্তাঘাটে, অলিগলিতে, জানালার ধারে বৃষ্টি উপভোগ করতে দেখা যায় অনেককে।

তবে এই বৃষ্টি শুধু স্বস্তিই দেয়নি, মনে করিয়ে দিয়েছে আবহাওয়ার সতর্কবার্তাও। আবহাওয়া অফিস আগেই জানিয়েছিল, রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরের পর থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে কালবৈশাখী, দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া বিভাগ আরও জানিয়েছে, আগামী ৯৬ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা বা আকস্মিক বন্যার ঝুঁকির কথাও উঠে এসেছে।

বৃষ্টিতে রাজধানীর অনেকেই স্বস্তি পেলেও নগরবাসীর একাংশের মধ্যে জলাবদ্ধতার শঙ্কাও ছিল। কোথাও কোথাও সড়কে পানি জমে ধীরগতির যান চলাচল দেখা যায়। তবু প্রচণ্ড গরমের পর এই বৃষ্টি অনেকের কাছে স্বস্তির নিঃশ্বাস হয়ে এসেছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই বৃষ্টির প্রভাবে তাপমাত্রা সাময়িকভাবে ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে, যা চলমান তাপপ্রবাহের তীব্রতা কিছুটা লাঘব করবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়