প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ২১:১৩
চাঁদপুরে কঠোর ট্রাফিক অভিযানে তিন মাসে রেকর্ড পরিমাণ মামলা ও কোটি টাকা জরিমানা

চাঁদপুরে সড়ক ও মহাসড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে ট্রাফিক বিভাগের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে রেকর্ড সংখ্যক মামলা ও জরিমানা আদায় করেছে চাঁদপুর ট্রাফিক বিভাগ। এই তিন মাসে মোট ৩ হাজার ৫২৭টি মামলার বিপরীতে ১ কোটি ৪ লাখ ৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
|আরো খবর
চাঁদপুর ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট ওই তিন মাসে দায়ের করা মামলার মধ্যে ইতোমধ্যে ২ হাজার ৭টি ৮৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সঙ্গে আইন অমান্যের দায়ে বিভিন্ন ধরনের ৮৮১টি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে।
মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান :
জুলাই মাস : ১ হাজার ২৮৫টি মামলা দায়ের এবং ৩৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ মাসে জব্দ করা হয় ২১১টি যানবাহন।
আগস্ট মাস : ১ হাজার ১২০টি মামলা দায়েরের বিপরীতে ২৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১২২টি যানবাহন জব্দ করা হয়। সেপ্টেম্বর মাস : ১ হাজার ১১২টি মামলা দায়ের করা হয় এবং ৪১ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ মাসে সবচেয়ে বেশি ৩২৯টি যানবাহন জব্দ করা হয়। বর্তমানে ট্রাফিক পুলিশের হেফাজতে মোট ৮১১টি যানবাহন রয়েছে।
যানবাহনের ধরন অনুযায়ী মামলার চিত্র :
বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত তিন মাসে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে। মামলার শিকার হওয়া যানবাহনগুলো হচ্ছে : মোটরসাইকেল : ১,৪৬৮টি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৮৯৫টি,
ইজিবাইক ৩৯৬টি,
ভ্যান ও রিকশা ৩৬৩টি,
পিকআপ ১৭৯টি,
ট্রাক ১৩৬টি,
কাভার্ডভ্যান ৫০টি,
বাস ৪০টি,
মাইক্রোবাস ২৪টি,
প্রাইভেটকার ২০টি।
অভিযানের মূল কারণ ও নজরদারি :
লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালানো, হেলমেট ব্যবহার না করা, ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত অনিয়ম, অতিরিক্ত গতি এবং অবৈধ পার্কিংয়ের মতো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অপরাধে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চাঁদপুর শহরের নতুন বাজার, পুরাণ বাজার ব্রিজ মোড়, শপথ চত্বর, বাসস্ট্যান্ড, ওয়্যারলেস ও বাবুরহাটের মতো ব্যস্ত সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশের নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
ট্রাফিক প্রশাসনের বক্তব্য : চাঁদপুর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই-অ্যাডমিন) প্রবীর কুমার দাশ জানান, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানজট নিরসন এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রতিদিন নিয়মিত চেকপোস্ট, মোবাইল টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, "জরিমানা আদায় ট্রাফিক পুলিশের মূল উদ্দেশ্য নয়; মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কাউকে হয়রানি না করে চালক ও পথচারীদের সচেতন করার মাধ্যমে একটি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। এক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।"








