প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৮
বাবুরহাটে ২৮ মিটার ব্যাসের বিরাট গোলচত্বর নির্মাণের পরিকল্পনা
যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ, তিনদিকে হবে ১৫০ মিটার চার লেন সড়ক

চাঁদপুরের গুরুত্বপূর্ণ বাবুরহাট এলাকায় যানজট নিরসন ও যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ২৮ মিটার ব্যাসের একটি বিশাল গোলচত্বর নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ), চাঁদপুর। একই সঙ্গে গোলচত্বরকে কেন্দ্র করে তিনদিকে প্রায় ১৫০ মিটার করে চার লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যস্ততম বাবুরহাট এলাকায় যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং চাঁদপুর-মতলব-দাউদকান্দি রুটের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
|আরো খবর
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর শহর থেকে বাবুরহাট হয়ে মতলব ও পেন্নাই অভিমুখী সড়কটি আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়ক ব্যবহার করে চাঁদপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার মানুষ রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করেন। বিশেষ করে বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই রুটটি চাঁদপুর থেকে ঢাকামুখী সড়ক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ পথে চাঁদপুর ছাড়াও নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ভোলার মানুষ যাতায়াতের কথা উঠে এসেছে।
সড়ক ও জনপথের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাবুরহাটের নির্দিষ্ট অংশে ২৮ মিটার ব্যাসের গোলচত্বর নির্মাণের পাশাপাশি এর তিন দিকে ১৫০ মিটার করে চার লেনের সড়ক তৈরি করা হবে। এতে একইস্থানে বিভিন্ন দিক থেকে আসা যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদে ঘুরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে বাজারকেন্দ্রিক যানবাহনের চাপ, যত্রতত্র পার্কিং ও অব্যবস্থাপনার কারণে এ এলাকায় প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহিনুর রহমান বলেন, আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে বাবুরহাটে ২৮ মিটার ব্যাসের বিশাল একটি গোলচত্বর তৈরি করার। এর মাধ্যমে যানবাহনের চলাচল সহজ হবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতি হবে। এ বিষয়ে আমরা গৃহীত পদক্ষেপ দ্রুতই নেবো। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি বাবুরহাটে যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, এ উচ্ছেদের ফলে যে জায়গা বের হয়েছে, সেগুলো আমাদের প্রয়োজন হবে। তিন দিক দিয়ে ১৫০ মিটার করে চার লেনের রাস্তা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বাবুরহাট এলাকায় সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছিল। ২০২৫ সালে বাবুরহাট এলাকায় সড়কের পাশের শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিলো, এসব স্থাপনার কারণে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়ক ও বাবুরহাট-মতলব সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছিলো এবং পথচারীদেরও ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছিলো।
এছাড়া ২০২৬ সালেও বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই সড়কের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
সওজের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব উচ্ছেদের মাধ্যমে সড়কের পাশে যে জায়গা উন্মুক্ত হয়েছে, তা ভবিষ্যতে সড়ক সম্প্রসারণ, গোলচত্বর ও চার লেনের সংযোগ সড়ক নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ঢাকা-চাঁদপুর যোগাযোগে বাড়ছে গুরুত্ব :
চাঁদপুর থেকে বাবুরহাট-মতলব হয়ে দাউদকান্দির দিকে যাতায়াতের এই সড়কের গুরুত্ব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও বেড়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাবুরহাট থেকে মতলব বেড়িবাঁধ সড়ক হয়ে দাউদকান্দি পর্যন্ত প্রায় ৪১ কিলোমিটার সড়ক ১০ দশমিক ৩০ মিটার বা ৩৪ ফুট প্রশস্ততায় দুই লেনে উন্নীত করার উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।
সড়ক ও জনপথের সরকারি তথ্যেও দেখা যায়, বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অতীতে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০০৯-২০১৭ সময়ে চাঁদপুর সওজ বিভাগের উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর তালিকায় এ সড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য রয়েছে।
অন্যদিকে চাঁদপুর-মতলব-দাউদকান্দি সড়কের পাশাপাশি মতলব উত্তর-গজারিয়া সড়কে মেঘনা-ধনাগোদা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ সেতু বাস্তবায়িত হলে চাঁদপুরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ সহজ হবে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর চাপ কমানোর একটি বিকল্প যোগাযোগপথ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে বাবুরহাটে পরিকল্পিত ২৮ মিটার ব্যাসের গোলচত্বর, তিনদিকে চার লেনের সংযোগ সড়ক এবং বৃহত্তর বাবুরহাট-মতলব-দাউদকান্দি সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চাঁদপুরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের যানজট, যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করানো এবং অনিয়ন্ত্রিত মোড় ব্যবস্থাপনার সমস্যাও অনেকটা কমে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








