প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:০১
চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে 'বর্ষামঙ্গল' অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন
এমন মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠানে চাঁদপুরকে নতুন করে আবিষ্কার করেছি

চাঁদপুরে বর্ষাকে ঘিরে বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বর্ষামঙ্গল’-এর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, নৃত্য ও কবিতার মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন।
|আরো খবর
বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় এ বর্ষামঙ্গল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন, চাঁদপুর জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার কবির হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা চাকমা, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আজম শরীফ এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার দিতি সাহাসহ জেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন ও জেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন চাঁদপুর সরকারি গণগ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক উম্মে রাইহানা।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত বর্ষামঙ্গল অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া এক বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন বলেন, চাঁদপুরে এসে আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। বর্ষাকে ঘিরে জেলা প্রশাসন যে এতো সুন্দর ও নান্দনিক আয়োজন করতে পারে, আজকের অনুষ্ঠান তারই একটি উজ্জ্বল প্রমাণ। এই আয়োজনে আমাকে প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মানিত করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসক, শিল্পীসমাজ ও সর্বস্তরের নাগরিকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, আজকের এই মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে গিয়ে আমি চাঁদপুরকে নতুন করে আবিষ্কার করেছি। একের পর এক শিল্পীর গান, নৃত্য ও পরিবেশনা আমাকে অভিভূত করেছে। চাঁদপুরে এতো প্রতিভাবান ও গুণী শিল্পী রয়েছেন, এতো সুন্দর কণ্ঠের অধিকারী মানুষ রয়েছেন, তা এখানে না এলে হয়তো আমি উপলব্ধি করতে পারতাম না। শিল্পীদের পরিবেশনায় আমি যেমন মুগ্ধ হয়েছি, তেমনি চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মানুষের সংস্কৃতিপ্রেম আমাকে আনন্দিত করেছে।
সাহিত্যের ছাত্র হিসেবে বর্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বর্ষা বাঙালির সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলা সাহিত্যে বর্ষার যে গভীর উপস্থিতি, তা অন্য কোনো ঋতুর ক্ষেত্রে এতোটা বিস্তৃতভাবে দেখা যায় না। রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে নজরুল, জীবনানন্দসহ অসংখ্য কবি-সাহিত্যিক বর্ষাকে তাঁদের সৃষ্টি দিয়ে ধারণ করেছেন। বর্ষার বৃষ্টি যেমন প্রকৃতিকে সজীব করে, তেমনি মানুষের মনেও সৃষ্টি করে এক ধরনের আবেগ, ভালোবাসা ও সৃষ্টিশীলতার অনুভূতি।
তিনি বলেন, আজকের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে চাঁদপুরের মানুষ যে সংস্কৃতির প্রতি কতোটা আন্তরিক, সেটি আমি প্রত্যক্ষ করলাম। এমন একটি সুন্দর আয়োজনে উপস্থিত হতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী এবং সর্বস্তরের নাগরিকের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
অনুষ্ঠানে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যানারে জেলার বিভিন্ন নৃত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় অনুষ্ঠানে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। বর্ষার সৌন্দর্য, প্রকৃতি, প্রেম ও বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ ফুটে ওঠে শিল্পীদের পরিবেশনায়।
অনুষ্ঠানের পর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে উপস্থিত সবাই সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বর্ণিল ‘বর্ষামঙ্গল’ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








